Thursday, 3 November 2016

ওয়ান ওয়ে রাস্তা

হিজাব নেকাব এই বাংলায় প্রতিষ্ঠিত পরায় শেষ।
গুম্ফবিহীন দাঁড়ি বাহার সেইটা কিন্তু আছেই বেশ।
সাপ চামড়ার চাবুক না’কি গরুর ছালে রইবে রেশ,
শাস্তি তাদের কোনটা হবে, না ঢাকলে সেক্সী কেশ?
মোল্লা চিন্তা সেরেই রাখো, এলো তোমার স্বাধীন দেশ,
পাক কোরানের লাইন হবে’ই জীবন চলার অধ্যাদেশ।
এখন না’বালিকা ইয়ে করো, গোল বাধলে বিয়ে করো,
সুখে থাকো, চাইলে আবার ইয়ে করো, জোরসে চালাও।
পুরুষ হলে তুমিই প্রভু, দুটোই পেলে এই জীবনে। ধরো।
রাষ্ট্র আছে, কিতাব আছে, ভয়টা কিসের; জ্যান্ত জ্বালাও।
একটা ধরো চারটা করো, ফেঁসে গেলে বিয়ে করো, আ’হা।
বাপ্ অথবা মা যদি না থাকে, এতিম তো সে, চিন্তা’ই নাই,
এরাম করে চারটা রাখো, হাহা, পাঁচটা হলে একটা ছাড়ো,
দেনমোহরের মুর্গি দিয়ে বিদায় করো, এ’টাই আইন ছাই।
তাইরে নাইরে নাই, ওহ মদিনা সনদ, ওক্কে ওক্কে তাই,
রাষ্ট্র কিতাব সঙ্গে আছে, ওরে মুমিন, ভয়ের কিছুই নাই।
মেয়েগুলোও ভয় খেয়েছে, কত্ত রং-এর হি-জাব ধরেছে,
বললে বলে, ফ্যশান ওটা, লিপিষ্টিকে ঠোঁট করেছে লাল,
সেজে কেমন নেকি কামায়? মোল্লাসবে ওতেই তা-কায়,
বলবে রাষ্ট্র, কিতাব বলে, ঘরেতে থাক, বুঝলো নারে হায়।
মা বোনেরা সব মেয়েরা শোনো, বাঙালি হও। ঐযে কিতাব,
ঘরেই রাখো। ফ্যাশনবহুল ধার্মিকতায় ছাড় নেইকো কোন।
শাসক দেছে রাস্তা, ওখানেতে শোষকদের খাতির কিন্তু খাস্তা,
কিতাব পড়ে ঘরেই রাখো, দেখবে, সেটা ওয়ান ওয়ে রাস্তা।

Monday, 17 October 2016

নাজিমুদ্দিন সামাদ এর হত্যাকারীদের একজন গ্রেফতার

ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদের একজন হত্যাকারী আনসার আল ইসলামের  সক্রিয় সদস্য রশিদুন নবী ভূইয়া ওরফে টিপু ওরফে রাসেল ওরফে রফিক ওরফে রায়হানকে গতকাল কাউন্টার টেরোরিজম এবং মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেছে। একদিকে এটি অত্যন্ত স্বস্তির একটি সংবাদ এবং অন্যদিকে আশাবাদী হবার মতও বটে। যদিও গণজাগরন মঞ্চের সক্রিয় সদস্য নাজিমকে হত্যার প্রায় ৬ মাস পর এই সন্দেহভাজন খুনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তথাপিও এটি একটি সাফল্য আমাদের আইন শৃংখলাবাহিনীর, এতে সন্দেহ নেই।

রবিবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মো. রশিদুন নবী ভূইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ত্রফ থেকে জানা যায় যে, রশিদুন নবী ভূইয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার বেতারগাঁও গ্রামে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী ছিল। তবে লেখাপড়া শেষ না করেই ২০১৫ সালের প্রথম দিকে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেয়। এরপর সে ঢাকায় চলে আসে। সংগঠনের নির্দেশে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হত্যার টার্গেট করে। এদের মধ্যে গত বছরের ৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ায় সি-ব্লকের ৮১৩ নম্বর বাসায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সে অংশ নেয়। হামলায় শুদ্ধস্বরের স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু ও তারেক রহিম গুরুতর আহত হন। আহমেদুর রশিদ টুটুল মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, এটাই ছিল তার প্রথম হামলা।

Tuesday, 13 September 2016

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও সন্ত্রাসী হামলার ভয়

বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে ইংল্যান্ড দলের অক্টোবর সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন শংকা। বাংলাদেশে অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা ও গুপ্ত হত্যার নানাবিধ ঘটনায় শ্নগকিত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। এখন তাঁদের বাংলাদেশ সফর হবে কি হবেনা এটি ঝুলে রয়েছে অনেকটা ভাগ্যের মতনই।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা প্রধান সহ ই সি বির অনেক কর্তা ব্যাক্তিরা ঘুরে গেছেন বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বুঝে নেবার জন্য। এসময় তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ সহ সরকারের অনেক উচ্চ পর্যায়েও বৈঠকের পর বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের মত এমন একটি দেশে জঙ্গীদের উৎপাত হবে এমনটা কোনোদিন ভাবিও নি। ব্লগারদের হত্যা করবার পর সরকারের গা ছাড়া ভাব আর উদাসীনতা এখন গুলশান হামলার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর জঙ্গীদের আক্রমনের পরেও সরকার কখনোই এইসব হামলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি যার ফলাফল হিসেবে ডক্টর অভিজিৎ রায়, রাজীব হায়দার, জুলহাজ মান্নান, মাহবুব তনয়, রাকিব মামুন, ফয়সাল আরেফীন দীপন, অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর বাবুদের মত তরুন লেখকেরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন জোঙ্গী খুনীদের হাতে।

Wednesday, 10 August 2016

ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?

ছেলেটার প্রোফাইলে গিয়ে দেখা গেলো সে গিটার বাজিয়ে গান গায়। কিংবা সে সানি লিয়নের পেইজে লাইক দিয়েছে। কিংবা কারিনা কাপুড়ের সঙ্গে নেচেছিল। তাহলে সে কি করে জঙ্গি হয়? এই ‘কি করে জঙ্গি হয়’ এই প্রশ্ন কিন্তু সন্দেহ ও বিস্ময়ের। যাদের প্রশ্নে সন্দেহ প্রকাশ পায় তারা জঙ্গিদের ধার্মীক মুসলমান হিসেবেই মানেন। আর যাদের প্রশ্নে বিস্ময় তারা বলতে চান- এরকম আধুনিক ছেলে কি করে জঙ্গি হয়? অথচ এরা কেউ কি বলতে পারবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ইসলাম বলতে কিছু আছে? 

আপনি কোন ইসলামের সমর্থক? কন্ঠ শিল্পী হায়দার আলী কুরআন-হাদিস খুঁজে ইসলামে গান হারাম খুঁজে পাননি। আবার লালন সংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীনের স্বামী এই পদ্মা এই মেঘনা, যমুনা সুরমা নদী তটে অথবা তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির মত জনপ্রিয় গানের সৃষ্টা গীতিকার সুরকার আবু জফর গানবাজনাই ছেড়ে দিলেন কারণ ইসলামে এসব ঘোরতর নিষিদ্ধ। স্ত্রী ফরিদা পারভীনকে গান ছাড়াতে চেষ্টা করেছিল। তাতেই দুজন পৃথক হয়ে যান। একদা লালন ভক্ত আবু জাফর তাহলে কোন ইসলামের অনুসারী? হায়দার আলীও নামাজি - তিনি কোন ইসলামের অনুসারী? ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?


জিন্স টি-শার্ট পরে স্মার্ট ইসলামিস্ট ছেলে যেমন আছে, আবার ইসলামিস্ট হবার পর শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পুরোদস্তুর হুজুর পোশাক পরিধান করার ট্রেডিশান তো আছেই। আমার দাড়ি রাখা নামাজী কলিগের মোবাইলে ৫ জিবির পুরোটাই পর্ণ মুভিতে ভরা। একদিন তাকে বলেছিলাম, তার মত ইসলামিস্ট হয়েও পর্ণ দেখাটা তো ঠিক যায় না…। সে একটুও অপ্রতিভ না হয়ে বলেছিল, ঠিক আছে, পর্ণ দেখা ঠিক না, তবে আমাদের দেশ তো ইসলামী শাসনে কোনদিন চলেনি। তাই এখানে নানা রকম অনুসঙ্গ আছে যা ইসলামী সমাজে থাকবে না। অনৈসলামীক সমাজ ব্যবস্থায় মুসলমানরাও এসবের জড়াবে- তার জন্য তো পাপ হবে- তার ক্ষমাও আছে। যখন ইসলামী সমাজ কায়েম হবে তখন এইসব পর্ণ কেউ দেখার সাহসও করবে না…।

Tuesday, 9 August 2016

জঙ্গী তাহমিদ

এবার হাসনাত করিম ইহুদী ছিল কিনা কিংবা তার সঙ্গে তেল আবিবের কোন সংযোগ ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে কি? টকশোর বুইড়া দামড়ারা এতকাল কিভাবে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আইএসের ওয়েব সাইট ও সাইট ইন্টিলিজেন্সের কাছে পৌঁছে যায় সেটা ভেবে জ্বর এনে ফেলেছিলেন। তারা এসব থেকেই বুঝে ফেলেছিল জঙ্গি হামলার সঙ্গে কোন মুসলমান ও ইসলামের সম্পর্ক নেই। যাই হোক, অনেক নতুন কিছু জানার সঙ্গে সঙ্গে এটাও জানা গেলে ইহুদীরা সেহরি খায় চিড়িং মাছ দিয়ে। 

হাসনাত করিমের ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায় তার মোবাইল ফোন থেকেইহত্যার রক্তাক্ত ছবিগুলো তৎক্ষণাত পৌঁছে দেয়া হয় বিভিন্ন সাইটে। পাশ্ববর্তি একটা ক্লিনিক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের আজীবনের শত্রু কাফের কোরিয়ান নাগরিক কিছু ভিডিও ও স্টিল ফটো তুলে যাতে হাসনাত করিমকে জঙ্গিদের সঙ্গে মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। তার মানে সে সহি মুসলমান না। সেও জঙ্গিদের মত ইহুদী ছিল! ছবিতে আরো দেখা যায় তাহমিদকে অস্ত্র হাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে। এই তাহমিদও ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল কিনা, তেল আবিব ভ্রমণ করেছিল কিনা সেটা কি পরীক্ষা করা হবে?

Saturday, 6 August 2016

মুসলমান্দের সিলেক্টিভ প্রতিবাদ

টেলিভিশন দেখে এখন ভারি মজা লাগে! মাইক্রোফোন ধরলেই দেখি জনতা বলছে, এভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কোন নিয়ম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হিজাবীনি শিক্ষিকা বললেন, মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েমের কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। আরেকজন প্রশ্ন করলেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমনাকে হত্যা করে কিভাবে এরা ইসলাম কায়েমের দাবী করে? অর্থ্যাৎ, ইসলাম কায়েম বিষয়ে এদের কোন দ্বিমত নেই, পন্থা নিয়ে দ্বিমত আছে! এদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- ইসলাম যদি বলত মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েম করতে হবে- তাহলে তারা ইসলামের সঙ্গে দ্বিমত হতেন কিনা?

জঙ্গি দুই প্রকার, মানসিকভাবে জঙ্গি, সশস্ত্র জঙ্গি। লড়াইটা এখন এই দুই জঙ্গির মধ্যে চলছে। আগে এক জঙ্গি মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গলে অন্য জঙ্গি গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলত। এক জঙ্গি সংখ্যালঘুদের দেশান্তরিন করলে অন্য জঙ্গি- হিন্দুরা ভাল চাকরি-বাকরি পাবার জন্য ইন্ডিয়া চলে যায়। শিয়া-আহমদিয়াদের একদল বোমা মেরে, মসজিদে হামলা করলে অন্যদল- শিয়া-আহমদিয়ারা ‘ইসলামকে বিকৃতি’ করছে।

Monday, 1 August 2016

মুসলমানের দেশপ্রেম আসলে বিদ্বেষ

এটা একটা বিরাট স্বস্তির বিষয় যে বাংলাদেশী ব্যান্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় যে শিল্পী ভারত বিদ্বেষীর অভিযোগ উঠিয়েছেন তার নাম ‘রূপম ইসলাম’, ‘রূপম গাঙ্গুলী’ হলেই মাইলস ও তার ভক্তরা এক সুরে গাইতে পারত, ‘হিন্দুরা আসলে মুসলমানদের ভাল দেখতে পারে না’! আফসোস তাদের জন্য, এক্ষেত্রে রূপম ইসলাম তার দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশী ব্যান্ড মাইলসকে। মাইলস সেই ঘৃণা প্রকাশকে তাদের ‘দেশপ্রেম’ হিসেবে দাবী করেছেন। বলেছেন, ‘আমার দেশের ক্ষতি হয় এমন বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাইতেই পারি, সে অধিকারও আমার আছে’।…

ক্রিকেট খেলায় হারলে কি করে দেশের ‘ক্ষতি’ হয় এবং সেটা কি করে দেশপ্রেম গোছের কিছু দাঁড়ায় সেটা মাইলস কেন কোন বাংলাদেশীকেই বুঝানো যাবে না। বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালে গোটা দেশের মানুষ যেভাবে প্রচন্ড ঘৃণা ছড়িয়েছিল সেকথা তো এখনো ভোলার নয়। আমরা গুটি কয়েক মানুষ তখন এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিস্তর গালাগালি খেয়েছি, এখনো খাই, আজকেও খাবো…। 

বাংলাদেশের সব স্তরের সেলেব্রেটিদের চেহারা তখন ফুটে বেরিয়েছিল। তাদের ‘হিন্দু বিদ্বেষের’ নমুনা ফুটে বেরিযেছিল ‘দাদাবাবু-ধুতি’ ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহার করে। রেডিওতে সুবর্ণা মুস্তফা থেকে শুরু করে টেলিভিশনে মুস্তফা ফারুকী, ইরেশ জাকের থেকে ছোট-বড় সেলেব্রেটিরা তাদের উপস্থিতি দিয়ে এমন একটা পরিবেশ, তাদের মন্তব্য দিয়ে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন মনে হয়েছিল, এই খেলা নিয়ে না দুই দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। কতখানি ঘৃণা আর বিদ্বেষ মনে লুকিয়ে রাখলে দেশপ্রেমের আড়ালে এই বিদ্বেষ প্রকাশ পায় সহজে অনুমেয়। 

Sunday, 17 July 2016

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ছে! গ্রাম-গঞ্জে যুবকদের ‘নিখোঁজ’ হবার একের পর এক খবর বের হচ্ছে। একেক গ্রামে দশ জন, বিশ জন করে যুবক উধাও। 

পরিবার বলছে তাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। ছেলে নিখোঁজ এক বছর ধরে অথচ বাবা-মা, ভাই-বোন ভাবলেশহীন! বলছে, ম্যালা দিন হয় তার সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে জানি না।

এর মানে হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে নিখোঁজদের যোগাযোগ আছে। কোন মুসলিম বাবা-মাই আল্লাহ’র দ্বিন কায়েমে তার সন্তান নিয়োজিত আছে জেনে দ্বিমত করবে না। সন্তানদের অন্তত একজনকে কেন বাবা-মারা মাদ্রাসায় পড়তে পাঠায়? একারণে যে, কেয়ামতের ময়দানে এই মাদ্রাসা পড়ুয়া আলেম ছেলে তার পাপী বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে। একজন সন্তান যদি সিরিয়া গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেই সন্তান তো পরকালে বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে আল্লাহ’র কাছে। এইরকমই সরল বিশ্বাস মুসলমান বাবা-মার।

এ তো গেলো গ্রামের কথা। খোদ ঢাকার উচ্চশিক্ষিত এক পরিবারের খবর সম্প্রতি বেরিয়েছে। শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক রোকনউদ্দিন তার পরিবার নিয়ে সিরিয়া চলে গেছেন। পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি সেই চিকিৎসকের যা একাত্তর টিভি থেকে নেওয়া হয়েছে। টিভি সূত্রে জানা গেছে এই চিকিৎসক আইএসের হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী ছিলেন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষিকা, বড় মেয়ে নর্থসাউথ ভার্সিটির ছাত্রী।

মেয়ে জামাই শিশিরও এই ভার্সিটির ছাত্র ছিল। তারা সবাই একসঙ্গে সিরিয়া চলে গেছে আইএসের হয়ে ইসলামী খেলাফত কায়েম করতে। ঠিক কি পরিমাণ বাংলাদেশী আইএসে যোগ দিয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসা যেন এক একটি দূর্গ। এসব মাদ্রাসা বাংলাদেশ সরকারের কোন ধার ধারে না। খোদ বাংলাদেশকেই তারা ধাতব্যের মধ্যে নেয় না। হাজার হাজার মাদ্রাসাগুলো যেন বাংলাদেশের মধ্যে আরব ব-দ্বীপের ‘ছিটমহল’! এসব মাদ্রাসাগুলো থেকে কি পরিমাণ জনবল আইএসে যোগ দিয়েছে সেটা জানাও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

Wednesday, 13 July 2016

কমরেড খালেকুজ্জামানের কথা প্রসঙ্গে

কমরেড খালেকুজ্জামান বললেন, নবীজি জ্ঞান অর্জন করার জন্য সুদূর চীন দেশে যাবার কথা বলেছেন। (সূত্র: নিউজ২৪ টিভি চ্যানেল) নবীজি কতখানি ‘অসাম্প্রদায়িক ও শিক্ষাদীক্ষার অনুরাগী ছিলেন এটা নাকি তার প্রমাণ।… কমরেডদের ইসলামী পড়াশোনা কোন লেভেলের এটা তার একটা প্রমাণ। এরকম কোন হাদিসের অস্তিত্ব যে নেই সেটা কমরেড খালেকুজ্জামান জানেন না। 

কেন যে তারা ইসলামী জঙ্গিবাদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার উপর শতভাগ দোষ চাপান এটা তার অন্যতম একটি কারণ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. সাখওয়াত হোসেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. আবদুর রশিদ, মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ রোজ উনাদের মত স্ব স্ব ক্ষেত্রে সর্বচ্চ জ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের ইসলাম বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা নেই। 

অথচ জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা বলতে হলে, এর বিশ্লেষণ, উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে হলে আপনাকে ইসলাম ধর্মের শুরু থেকে আজতক পর্যন্ত জানা থাকতে হবে। কুরআনের সমস্ত সুরা ও তার তাফসির, অগণিত হাদিস ও সীরাত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে পড়াশোনা না থাকলে অন্ধের হাতি দর্শনের মত জঙ্গি বা জিহাদীদের সঙ্গে সাধারণ অপরাধকে গুলিয়ে ফেলতে হবে এবং বাংলাদেশে রোজ টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে সেটাই হচ্ছে।

Tuesday, 12 July 2016

ক্যাপ্টাগন ঔষধে শুধু মুসলিমরা কেন পতিত হয়?

অতিব দুঃখজনক ও হতাশার কথা হচ্ছে এখন পর্যন্ত একজন ইহুদীকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে সন্ত্রাসী কাজে নামানো গেলো না। ক্যাপ্টাগনের ফর্মুলা ইসলামী দেশগুলোর ফার্মাসিস্টদের কাছেও আছে। 

তারাও ইহুদী তরুণদের ধরে একটা করে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে মুসলিমদের উপর ‘জিহোবা আকবর’ বলে ঝাপিয়ে পড়াতে পারল না। কিংবা শিবসেনা দলের কোন সদস্যকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে ‘হর হর মহাদেব’ বলে কাউকে আত্মঘাতি করা গেলো না। 

ক্যাপ্টাগন খালি মুসলমান ঘরের ছেলেমেয়েগুলো খেয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রস্টিজ পাংচার করে দিচ্ছে। ফ্রান্সের হামলাকারী যে একজন মুসলিম হবে এটা খোদ ফরিদউদ্দিন মাসউদও মনে মনে ঠিকই অনুমান করতে পেরেছিলেন। যারা হররোজ এইসব জিহাদী কাজের পিছনে ইহুদীদের হাত খুঁজেন তারাও এরকম ঘটনা ঘটার পর মনে মনে একজন সম্ভাব্য মুসলিম হামলাকারীর কথাই ভাবেন। কোন বারই তার পরিচয় ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান… হয় না।

Monday, 11 July 2016

ঈদের নামাজে মুসলিমদের হামলা মুসলিমদের উপরেই

আজ একজন বললেন, আইচ্ছা, ঈদের নামাজ যদি কেউ মনে করে ইসলামে নাই তো সে পড়ব না। তারে তো কেউ জোর করতাছে না ঈদের নামাজ পড়তে। যারা পড়তাছে তাদের কেন মারতে যায়? যার যার যেটা বিশ্বাস সেটা নিয়া থাকতে দিলে সমস্যাটা কি?... ভদ্রলোক পরিচিত বলে জানি আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের মসজিদে হামলা ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার সময় তিনি ছিলেন এর স্বপক্ষে উচ্চকন্ঠিত। মাজারে বোমা হামলার সময় তাকে বলতে শুনেছি ইসলামের মধ্যে থেকে বিদাত চালিয়ে যাওয়া তো গুরুতর অপরাধ…। 

ভদ্রলোক মুটামুটি পরিচিত ও নিরহ বলে মুখের উপর বলে ফেললাম, সেদিন কাদিয়ানীদের (আহমদিয়া) উপর হামলার সময় যদি এই যুক্তি দিয়ে আমরা সোচ্চার হতাম তাহলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। হিন্দুদের মন্দিরে হামলার সময় যদি এইরকম যুক্তি দিয়ে তাদের পাশে থাকতাম তাহলে আজকে ঈদের নামাজকে পাহারা দিতে হতো না। নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর এসে না পড়লে আমরা কেউ ‘সেক্যুলারিজমে’ বিশ্বাস করব না। মন্দের ভাল হয়ত এর মধ্যে দিয়েই বাঙালী ফের সেক্যুলারিজমে ফিরতে বাধ্য হবে!

ভাবতে অবাক লাগে, আঘাতগুলো যদি এখনো নাস্তিক ব্লগার, হিন্দু পুরোহিত, সাধারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামিদের উপর সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে আমরা দেশ জুড়ে এক চাপা পৈশাচিক উল্লাস অনুভব করতাম। এই তো সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ফিস ফিস করে দেশত্যাগের কথা বলা শুরু করেছিলেন। অথচ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক মুসলমান আমার কাছে চিন্তিতভাবে বললেন, ভাই, এইদেশে কি শেষতক থাকা যাবে? ছেলেমেয়ে দুটোকে বলেছি বিদেশে কোন ইউনিভার্সিটিতে ট্রাই করতে, বলেছি যেভাবে পারিস চলে যা…। 

Saturday, 9 July 2016

সব জঙ্গিই মুসলমান

উগ্র ইসলাম’ ক্রুর হেসে ‘ভদ্র ইসলামকে’ বলে- তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে…

ননসালাফি ইমাম, আলেম-ওলামা যারা উদার আর শান্তিময় ইসলামের অনুসারী তারা বলছেন, মওদুদিবাদী ও জাকির নায়েক গংরা ইসলামের সুমহান ভ্রাতিত্ব ও সহনশীলতার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে যাতে পরিস্কারভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এরা ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ইহুদীদের দেয়া অর্থতেই আহলে হাদিসধারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরাই আইএস, এরাই আনসারুল্লাহ

মনের মধ্যে এতখানি ঘৃণা রেখে, একটা পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ইসলামের শত্রু বলে তাদের প্রতি মুসলিমদের মনে ঘৃণা তৈরি করে কেমন করে তারা ইসলামের উদার ও শান্তিবাদী হলেন? আসলে ইসলামের উদার ও শান্তি হচ্ছে সোনার পাথরবাটি!

ইহুদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এরকম কথা একটা দেশের গণমাধ্যমে অবাধে এইসব উদারবাদীরা বলতে পারেন, কোথাও ‘রেসিজমের’ অভিযোগ উঠে না। কোথাও ‘ইহুদী বিদ্বেষ’ বলে সমালোচনা হয় না। যারা একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের উপর এতখানি বিদ্বেষ প্রসন করতে পারে তারা অন্যসব ধর্মের প্রতি একই মনোভাব প্রসন করতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এদেশে বহিরাগত মুসলিম শাসকরা স্থানীয় হিন্দু রাজাদের হাত থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন। ভারতবর্ষে তাই এই হিন্দুরা অঘোষিত ‘ইহুদী’ মুসলিমদের চোখে। লাহোর প্রস্তাব কিংবা দ্বি-জাতি তত্ত্ব যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হতো তাহলে বাঙালী হিন্দুর কপালে ছিল ইহুদীদের মতই ভাগ্যবরণ। 

মুসলিমদের জন্য বাংলা আসামসহ পূর্বাঞ্চলে যে আলাদা রাষ্ট্রের কথা লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সেটি শতভাগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবাংলার বাঙালীদের কোলকাতাসহ আশপাশ ছেড়ে অর্থ্যাৎ বাংলা ছেড়ে অন্য কোন রাজ্যে আশ্রয় নিতে হতো। মাওলানা ভাসানী যে বলতেন, বাংলা আমার, আসাম আমার… এই ‘আমার’ মানে মাটির কথা, মানুষের না। লাহোর প্রস্তাব মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল যেখানে শুধু মুসলমানরাই বসবাস করবে। দেশভাগকালে লাহোর প্রস্তাব ও দ্বি-জাতি তত্ত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। হয়নি বলেই পূর্ব পাকিস্তানে কিছু হিন্দু থেকে গিয়েছিল, ভারতেও চার কোটি মুসলমান থেকে গিয়েছিল।

Friday, 8 July 2016

মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে কি করবে?

একজন সাধারণ ধার্মীক বৃদ্ধ, মাথায় টুপি, মুখে সফেদ দাড়ি। অপরজন যুবক, সাধারণ দেখতে, প্যান্ট-শার্ট পরনে। দুজন কথা বলছিল, আমি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম।

বৃদ্ধ: পিস টিভি দেখে ভারতের হিন্দুরা সব মুসলমান হয়ে যাইতাছিল তাই ভারত সরকার এটাকে বন্ধ করে দিছে।

যুবক: ইউরোপে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এই ভয়ে ইহুদীরা জঙ্গি সাইজা এইসব হামলাটামলা করে মুসলমানদের নাম দিতাছে।


বৃদ্ধ: মুসলমানের সংখ্যা বাড়াতে ইহুদী-নাসারাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে!...

এই বৃদ্ধ বা ঐ যুবককে আমাদের দেশে শান্তিপ্রিয় ধর্মভীরু হিসেবে দাবী করা হয়। তারা মন্দির ভাঙ্গতে যায় না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করতে যায় না। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে ইত্যাদি ইত্যাদি…।

একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে গেলে পশ্চিমাদের মাথা খারাপ কেন হবে?

-হবে না! মুসলমানদের হাতে তখন ক্ষমতা চলে যাবে!

-গেলে কি সমস্যা?

Thursday, 7 July 2016

কাশ্মীর সমস্যা

কাশ্মীর....নিরস্ত্র কিশোর-তরুণদের উপর Pellet বুলেটের ব্যবহার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণের আজাদীর সংগ্রামের কথা সবারই জানা--যদিও চারিদিকে নীরবতার দেয়ালও প্রবল। সম্প্রতি সেখানে নতুন করে দমন পীড়ন চলছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের যুদ্ধাপরাধও ঘটছে। গত ১০ দিনে সেখানে ৪০ জনকে গুলি করে মারা হয়েছে। আহত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। এই আহতদের অনেকেই মূলত Pellet বুলেটে আঘাতপ্রাপ্ত। আগের চেয়ে এর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। ভারতের সেনাবাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষের উপর, বিশেষত শিশু-কিশোর- তরুণদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থার মতো Pellet বুলেট ব্যবহার করছে।

Pellet বুলেটগান হলো, নতুন ধারার এক শর্টগান। যার ব্যবহারে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হবে না, কিন্তু শারীরিক ক্ষতি হবে। শরীরের উপরের অংশে, বিশেষত চোখে আক্রান্ত হলে তাতে ব্যপক ক্ষতি হয়। SOP বা Standard Operating Procedure অনুযায়ী...লাঠি-টিয়ার গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহার করেও বেসামরিক জনতাকে শান্ত করা না গেলেই কেবল কোমরের নিচে লক্ষ্য করে Pellet বুলেট ব্যবহার করা যায়।

Wednesday, 6 July 2016

ফ্রান্স আক্রমণ নি দু'কথা

ফ্রান্সের নিসে শহরে নিহিত ৮৪ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু! ট্রাকের চাকার নিচে তাদের নরম শরীর পিষে গেছে আল্লাহো আকবর ধ্বনিতে। নিহিত কাফের নারী ও শিশুরা টার্গেট নন সরাসরি ইসলামী নিয়ম অনুসারে। মূল টার্গেট সক্ষম কাফের পুরুষ। তবে তারা স্ত্রী-সন্তান দ্বারা ঢাল হিসেবে থাকলে কাফের নারী ও শিশুরাও আক্রমনের লক্ষ্য হবে আর এতে কোন দোষ নাই। 

সহি হাদিস হচ্ছে- সা’ব ইবনু জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলমানদের রাত্রিকালের অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের মুশরিকদের কিছু মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তাহলে কি হবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেছিলেন, “তারা মুশরিকদের সাথে বলেই গণ্য হবে।” (সহীহ বুখারীঃ ৩০১২, ২৩৭০, সহীহ মুসলিমঃ ৭৫৪৫, আবু দাউদঃ ২৬৭২, তিরমিযীঃ ১৫১৭, ইবনু মাজাহঃ ২৮৩৯, আহমাদঃ ২৭৯০২, মালেকঃ ৯৮১, দারেমীঃ ২৬৪২)

ফ্রান্স হামলাকারীরা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নন কিনা সে সম্পর্কে দুদিন পরেই সন্দেহ পোষন শুরু হয়ে যাবে কারণ হামলাকারীরা নির্বিচারে শিশু, নারীদেরকেও পিষে মেরে ফেলতে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল তাদের উপর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আতংকিত বাবা-মার কোলে অবোধ শিশু, প্রাণ ভয়ে দৌড়াচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। তো, হামলাকারীরা মুসলমান নাকি পায়জামা সেটা নির্ধারন কারার কোন গরজ আমার নেই, আমি শুধু ম্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই নির্বিচারে হামলার নজির বা দলিল আছে। 

বাঙালী মুসলমানের মন-১

শাফিন-হামিন কি জামাত করে? আবদুর নূর তুষার, ফারুকী, তাহসান, ন্যান্সি… কি জামাতী? আপনাদের স্মরণ রাখা উচিত জামাত ৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধতা করেছিল! দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী ছিল তারা। মূলত বাঙালী মুসলমানদের অগ্রসর প্রজন্মই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। 

আমরা যে মানসিকতা আমাদের সমাজের সব স্তরের সেলিব্রেটিদের মধ্যে এখন দেখছি সেটাকে ‘জামাতী’ বলে ছোট করে ফেলছি। বাংলাদেশে এখন যেটা জেগে উঠেছে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্যে যারা প্রক্টিক্যালি হয়ত ইসলাম ধর্মকে পালন করেন না- সেটা পুরোপুরি মুসলিম জাতীয়তাবাদ। জিন্নার মত নাস্তিকও মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছিলেন। 

শফিক রেহমানের মত পুরো দস্তুর সাহেবী লাইফ স্টাইলের লোকজনও হিন্দু-ভারত বিরোধী মুসলমান চেতনার লোক। আমাদের মুক্তমনা ব্লগের কিছু স্বঘোষিত নাস্তিক পর্যন্ত তাদের ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদী’ মানসিকতা নানা রকম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কিংবা দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে নিজের অজান্তে দেখিয়ে ফেলেছিলেন। শাফিন-হামিন কিংবা তাদের মামার বাড়ি জামাত করতেই পারে- কিন্তু ফিরোজা বেগম কিংবা সাবিনা ইয়াসমিন তো জামাত করেন নাই? তারা জানেন জামাত বা হেফাজত কিংবা চরমোনাই পীর ক্ষমতায় এলে তাদের গানবাজনা বন্ধ হয়ে যাবে। তারা সেই রকম কিছু চান না। 

তাদের ভেতরের মুসলমানিত্বটাই আজকে যেটাকে আমরা ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে জানি তার অনুপ্রেরণা ছিল। এই সূত্রেই বলতে পারি সুমন চট্টপাধ্যায় থেকে ‘কবীর সুমনে’ রূপান্তরিত হওয়াটা তো জামাতী না। ফরিদা পারভীনের মত শিল্পী যিনি ‘সাঁইজি’ বলে লালনের দর্শনকে তার মধ্যে আত্মস্ত বলে দাবী করেন, তিনি যখন জিসাসের মত সংস্কৃতি সংগঠনে গিয়ে বসেন তখন তাকে ‘জামাতী’ বলা মানে বাঙালী মুসলমানের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণটিকেই আপনি লঘু করে চেপে গেলেন।

Tuesday, 5 July 2016

হাসনাত করিম ও কিছু কথা

একটা লোক বিশজন মানুষকে মাথা ঠান্ডা করে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখে চিংড়ি মাছ দিয়ে সেহরি খেয়েছিল। সে একা না, তার হিজাবী বউ সমেত চিংড়ির মাথা চিবিয়ে মগজ উপড়ে নিয়েছিল তৃপ্তিসহকারে। অথচ এরা নাকি কয়েক ঘন্টা আগে কিছু নিরপরাধ মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে দেখেছিল। সবাই মারা গেলেও তারা অক্ষত ছিল কারণ তারা সহি মুসলমান ছিল। এটা তারা নিজেরাই বের হয়ে এসে প্রকাশ করেছিল। জঙ্গিদের কাছ থেকে সহি মুসলমানের সার্টিফিকেট পাওয়া সেই দম্পত্তি এখন নাকে কাঁদছেন তাদের জীবন নাকি ঝুঁকিতে আছেন! বাহ!

গুলশান হামলায় নিরাপদে, হেলেদুলে মুক্তি যাওয়া হাসনাত করিম ও তার পরিবার এখন অ্যামনেস্টির কাছে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শুনেছি চিঠিপত্র চালাচালি করছে। নেস্টিও নাকি তাদের বাঁচাতে চিঠি চালাচালি করছে। একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার সময় এই নেস্টি মুখে কুলুপ এটে বসেছিল। তারপর যারা ৪৪ বছর আগে সেই গণহত্যা ঘটিয়েছিল তাদের বিচার ৪৪ বছর পর করতে গেলে তাদের মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে বিচারের বিরোধীতা করেছে। 

Monday, 4 July 2016

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরী

আর্টিজানে থাকা ও সন্দেহের চূড়ান্তে এখন যে রয়েছে সেই হাসনাতের ও তার স্ত্রী'র বক্তব্যের ব্যাপারে কয়েকটি জিনিস হয়তবা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আমাদের মত আম পাব্লিক জানতে চায়।

(১) তার মেয়ের জন্মদিন ছিলো বলে সে বলেছে। এটি কি খতিয়ে দেখা হয়েছে, যে ওইদিন মেয়েটার আদৌ জন্মদিন ছিলো কি না?

(২) হাসনাতের পেছনে যে মহিলা গুলো বের হয়ে গিয়েছে, তাদের কে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? হাসনাতের স্ত্রী বলেছে যে তাদের কলেমা পড়তে বলা হয়েছিলো। এটা কতদূর সত্য? উনাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ কি করা হয়েছে?


(৩) ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈন এর বাবা বলছে ভোর ৬ টায় তারিশি তাঁকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর বর্ণনায় জানা গেলো ঢুকবার পর পর তারিশিকে গুলি করে বা কুপিয়ে মেরেছে। তাহলে কোনটা সত্য?

Sunday, 3 July 2016

মুসলমানদের গোঁজামিল

বনু কুরাইজা ইহুদী গোত্রের সাতশ বালক-পুরুষদের কি “ক্যাপ্টাগন” পিল খেয়ে হত্যা করা হয়েছিল? খয়বর সর্দারের স্ত্রীকে তার স্বামীর লাশের উপর দিয়ে বাসরঘর করার মত অমানবিকতা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে করা হয়েছিল? ১৯৭১ সালে সাকা, নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদরা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে নির্মম নৃশংসতা করেছিল? আপনাদের নির্লজ্জ্ব ইতরের মত জঙ্গিদের হয়ে সাফাই গাওয়া, জিহাদকে ধুয়েমুছে পরিস্কার করার নোংরা প্রচেষ্টা শেষতক টিকবে না এটা জেনে রাখুন! অনেকদিন থেকেই জিহাদীদের ইহুদী, মোসাদ, র’ ইত্যাদি বলে জোর প্রচার চালিয়ে গেছে মুসলিম প্রাধান দেশের মুসলিম সরকার ও জনগণ। কিন্তু পরিস্কার বাংলায় কথা বলা এইদেশের ছেলেরা যখন দলে দলে ধরা পড়া শুরু করল তখনই প্রলাপ বকতে শুরু করল, এরা মুসলমানই নয়, এরা ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করে না…। 

এটাও যখন ধোপে টিকছিল না তখনই একটা সায়েন্স ফিকশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। “ক্যাপ্টাগন অ্যাম্ফিটামিন” নামের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পিলের নেশায় আসক্ত হয়েই জঙ্গিরা বিবেক বিবেচনা বর্জিত নানা নৃশংসতায় মেতে উঠছে। এই নেশাজাত দ্রব্যটি গ্রহণের কারণে জঙ্গিদের উন্মত্ততা আরও বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর পরোয়া না করেই তারা যে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে…। 

নিব্রশ, মুবাশ্বের ইত্যাদি জিহাদীরা ঠান্ডা মাথায় বিশজন নিরহ মানুষকে খুন করার পর থেকেই তাদেরকে “আমাদের সন্তান” “কেন তারা বিপথে গেলো” “ওদের ভালবাসা দিতে হবে” ইত্যাদি বলে বলে ওদের নিষ্ঠুরতার প্রতি সবাইকে অবচেতন করে দেয়ার চেষ্টা হলো। দেশে যে এত সমাজ বিজ্ঞানী পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় সেটাও জানা হলো। টকশোতে তাদের একজন না একজন হাজির হচ্ছে এবং তাদের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে জঙ্গিদের কাজকে ঐশির বাবা-মাকে খুন করার মত সামাজিক অবক্ষয়ে গড়ে উঠা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জুড়ে দেয়া। 

Thursday, 30 June 2016

জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাগাদা

জঙ্গিবাদ নির্মূলে ফের বাঙালীর শেকড়ের সন্ধানের তাগাদা দিচ্ছেন দেশের “প্রগতিশীলরা”। বলছেন বাঙালী সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাতে হবে। বাঙালীকে আবার তার নিজস্ব শেকড়ে নিয়ে যেতে হবে। নাট্যজন, সংস্কৃতিজন, সাহিত্যিক-কবিরা র্যােলি করেছেন, মানববন্ধন করছেন, তারা বলেছেন ছেলেমেয়েদের মধ্যে নিজেদের বাঙালী জাতিসত্ত্বার উপদানগুলি ফের জাগাতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে বাঙালী শেকড়টা কোথায়? একজন বাংলাদেশীর বয়স সর্বচ্চ ৪৪ বছর কিন্তু বাঙালী তো হাজার বছরের একটা দীর্ঘ ভ্রমণ! আপনি কি সেই দীর্ঘ ভ্রমণে যেতে ইচ্ছুক?

বাঙালী মুসলমান তথা বাংলাদেশী বাঙালীরা মনে করে ১৭৫৭ সালে তাদের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে হরণ হয়ে তারপর দীর্ঘ দুইশো বছরের গোলামী তাদেরকে করতে হয়েছিল। তাদের স্বাধীন নবাব সিরাজকে (মানুষ যাকে লম্পট, মদ্যপ্য, চরিত্রহীন বলে ভয় পেতো) চক্রান্ত করে (সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র!) পরাজিত করে “বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে অস্তমিত করে দেয়”! বিস্ময়কর!! আমি আজো বুঝি না কি করে বাঙালী ১৭৫৭ সালে পরাধীন হয়েছিল? কি করেই বা তার আগে স্বাধীন ছিল? বাঙালীর নিজের কোন শাসক যদি থাকে তো খোঁজ করলে সে কোন হিন্দু রাজাই হবে। সে অর্থে সে কালে স্বাধীন বা পরাধীন বলতে কিছু নেই সাধারণ প্রজাদের। যেটা ছিল বিদেশী শাসক আর দেশী শাসক। কার্যত সবাই ছিল নির্মম শোষক। কিন্তু আরব বংশোদ্ভূত নবাব আলীবর্দী খাঁ, যারা মা ছিলেন তূর্কি উপজাতি তার নাতি সিরাজদৌলা বাঙালীর ‘স্বাধীন’ নবাব ছিলেন, যিনি পরাজিত হওয়ায় বাঙালী দুশো বছর গোলামী করেছিল পরাধীনতার- কি করে সম্ভব!... সুলতান মাহমুদের মত হানাদারদের এদেশের মুসণমানরা নিজেদের গর্বিত পূর্বপুরুষ বলে মনে করে। বখতিয়ারের ঘোড়া নাকি বাংলায় স্বৈরশাসক রাজাকে পরাজিত করে ইসলামের সুমহান সাম্য ছড়িয়েছিল। এহেন ‘প্রগতিশীল ইতিহাস” এতকাল প্রসার করে আজ কোন শেকড়ের সন্ধানের ডাক দিচ্ছেন বৃদ্ধ প্রগতিশীলরা?

Wednesday, 29 June 2016

যারা সিরিয়াতে যাবার পথ ধরেছে তাদের জানা উচিৎ

যারা সপরিবারে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দিতে মনস্থির করে ফেলেছেন তাদের স্ত্রী কিংবা কন্যাদের জিহাদী ভাইদের যারা স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের যৌনক্ষুধা নিবারণ করতে দান করতে হতে পারে সেটা মাথায় রাইখেন। কে কতটুকু ইসলাম জানেন, কার ইসলাম সহি আর অসহি সেটা সেখানে গিয়ে তর্ক করতে পারবেন না। এরকম বহু নারী জিহাদের চুলকানিতে সিরিয়া গিয়ে যখন দেখল তাকে স্রেফ বেশ্যা হিসেবে ব্যবহার করছে তখনই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। এরকম এক ইংলেন্ডবাসী মহিলা আইএস ফেরত কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, তারা মুসলমান না, তিনিভেবেছিলেন… 

ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থ্যাৎ তিনি ভেবেছিলেন, কাফেরদের মেরেধরে হত্যা করে ইসলামী শাসন কায়েম হবে- এটাই ইসলামী জিহাদ। এটুকু সে নেট থেকে, হাদিস থেকে, কুরআন থেকে টুকে নিয়েছিলেন। কিন্তু যখনই যৌনক্ষুধাত্ব জিহাদী ভাই টেনে বিছানায় নিয়েছে ওমনি চিরকালিন নারীসত্ত্বায় গিয়ে আঘাত হেনেছে।

তো, যে সব বাড়িধারা কিংবা গুলশান নিবাসী ধনীর দুলাল, বড় চাকুরে মাথায় সবুজ রঙের টুপি পরে, গোড়ালীর উপর প্যান্ট করে ‘আলহামদুরিল্লাহ’ সপরিবারে সিরিয়া যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন তাদের জানিয়ে রাখি, মক্কা থেকে হিযরত করে মদিনায় যারা গিয়েছিলেন সেই মুহাজ্জিররা অনেকেই তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিতে পারেন নাই বা তাদের সঙ্গে যান নাই তাদের যৌন ক্ষুধা নিবারনের জন্য মদিনাবাসী আনসাররা তাদের একাধিক স্ত্রী-কন্যাকে দান করেছিলেন! হিযরতীরা এদের বিয়ে করেই ভোগ করেছিলেন কিনা, করলেও কি রীতিতে করেছিলেন সেটা অনাবশ্যক প্রসঙ্গ, আসল কথা হচ্ছে এর মধ্যে আছে এটা স্ফূল যৌন লালসা। 

Tuesday, 28 June 2016

ইসলামী খেলাফত প্রসঙ্গে

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে মুসলমানরা ‘খেলাফত আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছিল তুরষ্কের খলিফার খিলাফত রক্ষা করতে! ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিরোধী আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা কিংবা মুসলমানদের ভূমিকা জাতীয় বিকৃত অর্ধসত্য ইতিহাস আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। আসলে এরা মধ্যযুগীয় ইসলামী শাসনের শেষ খলিফার সাম্রাজ্য রক্ষা করার জন্য দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তো, কি ছিল এর উদ্দেশ্য? 

ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত খিলাফত আন্দোলনের এক বৈঠকে খেলাফত আন্দোলনের নেতারা বলেন, “খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে সিরাতে মুস্তাকীমের উপরে চালানোর জন্য সংগঠিত করা এবং দুনিয়াতে আল্লাহ্'র কালামকে বুলন্দ করা। এর জন্য জরুরী হচ্ছে খলীফার হাতে যথাযথ কর্তৃত্ব থাকা। খলীফা বিহীন জীবনই হচ্ছে ইসলাম বিহীন জীবন। খিলাফত বিহনে বসবাস করলে মুসলমানদেরকে আখেরাতে জবাব দিতে হবে…”। 

খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কি ছিল বক্তাদের কথা থেকে এখানে পরিষ্কার। অবিভক্ত ভারতবর্ষে রাজনীতি সচেতন মুসলিমরা মনের ভেতর এইরকম সাম্প্রদায়িক বিভাজনই পুষে রাখতেন। তিতুমীর, শরিয়তউল্লাহ তাদের বাঁশের কেল্লায় ইসলামী খেলাফতই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যে খিলাফত মুসলমানদের স্বরাজ। বাকীরা সেখানে জিজিয়া কর দিয়ে নতমস্তকে বসবাস করবে। মুসলিম নেতারা ছিলেন ইংরেজদের তাবেদার। 

প্রথম বিশ্বেযুদ্ধে ইংরেজদের এরা সমর্থন জানিয়েছিল কিন্তু যখনই যুদ্ধ শেষে তুরষ্কের খেলাফতকে বিলুপ্ত করতে যাচ্ছিল তখনই তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সফল করতে ইংরেজরা মুসলমান নেতাদের ঘুষের বিনিময়ে তাদের পাশে নেয়। ঢাকার নবাবকে মোটা অর্থ দিয়ে বঙ্গভঙ্গ সফল করা হয়। এরাই ১৯১৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে খেলাফত আন্দোলন শুরু করে। এ যেন আফগানস্থানে আমেরিকার তালেবানদের সহায়তা করা এবং পরবর্তীকালে তালেবানের আমেরিকা বিরোধী হয়ে যাওয়া…।

Saturday, 25 June 2016

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন গুলশান-শোলাকিয়া ইস্যুতে? আচ্ছা আপনারা কি সালমান রুশদীর মাথার দাম কত সেটা শুনেন নাই? সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমস্ত মাদ্রাসা মিছিল করেছিল। তাসলিমা নাসরিনকে হত্যা করতে, ফাঁসি দিতে, দেশ ছাড়া করতে কি পরিমাণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল স্মরণ আছে? আবদুল লতিফ এমপিকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কতল করার আহ্বানের কথা ভুলে যাননি তো? 

নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে এই ফতোয়া তো এখনো বেশি পুরোনো হয়ে যায়নি। এই ইস্যুগুলোতে শুধু হেফাজত ইসলাম নয়, ওলামা লীগ নয়, গোটা দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। কারণ এরা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। এরা ইসলামের শত্রু। এদের হাত থেকে ইসলাম ধর্মকে হেফাজত করার জন্যই হেফাজত ইসলাম, ওলামা লীগের জন্ম হয়েছে। এবার খেয়াল করুন, এরাই বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক জিহাদী দলগুলোকে, আন্তর্জাতিক কোন সন্ত্রাসী হামলাকে ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছে। অভিযোগটি ভয়ংকর কারণ তারা দাবী করেছে ইহুদীরা এইসমস্ত দল তৈরি করে ইসলামের বদনামে নেমেছে। 

যেসব জিহাদী দলের তাত্ত্বিক নেতা তাদের বয়ানে সশস্ত্র জিহাদের ডাক দেয় তাদের নানা সময় ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী, কুরআন বিকৃতকারী, ইয়াহুদী মোসাদের দালাল ইত্যাদি বলা হয়েছে। রুশদী, নাসরিন, লতিফ সিদ্দিকী, নাস্তিক ব্লগাররা ইসলাম নিয়ে কটুক্তির করায় যদি তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে ফতোয়া আসতে পারে তাহলে এইসব জিহাদী নেতারা যদি সত্যিই কুরআনের বিকৃতি করে থাকে, এতবড় অপরাধ করে কেন তারা বহাল তবিয়তে রয়ে যায়? হেফাজত-ওলামা লীগের কথা বাদ দেন, সাধারণ মুসলমান দেখি ‘অরা ইহুদীদের এজেন্ট’ এটুকু বলেই ঠোট উল্টায়। নাস্তিকদের উপর যে পরিমাণ ঘৃণা এদের চোখে-মুখে দেখেছিলাম, নাস্তিকদের রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে এদের যে অর্গাজম হতে দেখেছি সেটা এখন কোথায়? গুলশানের মৃত ৫ জঙ্গির ছবি দেখে, শোলাকিয়ার ১ জঙ্গির মৃত দেহে দেখে কোথায় সেটা?

Thursday, 23 June 2016

ওয়াজকারীদের ভন্ডামী

"যারা জেহাদ করবে ও শহীদ হবে তাদের আত্নাকে জান্নাতের ভেতরে থাকা একটা সবুজ কালারের পাখির পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। তারপর সবুজ পাখিগুলো ঘুরতে থাকবে। এই গাছে, ঐ গাছে উড়ে উড়ে তারা ফল খাবে। জান্নাতে আল্লাহ যে এয়ারকন্ডিশন ফিট করে রেখেছেন সেটির আশে পাশে একসময় সবুজ পাখি গুলো উন্নততর হাওয়া খাবে আর আরাম করবে। 

আবার যখন ওই সবুজ পাখিগুলোর একটু আয়েশ করবার ইচ্ছা হবে ও ঘুম পাবে তখন ওই পাখিগুলো আল্লাহর আরশের নীচে যেখানে আল্লাহ অনেক বাসা বানিয়ে রেখেছেন সেখানে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে তারপর আবার তারা গাছে গাছে ঘুরবে ও ফল খাবে"

বাণীখানা আমার না। জে এম বি'র শায়খ আব্দুর রহমানের। জঙ্গীবাদের জন্য যার ফাঁসি হয় ২০০৫ কি ২০০৬ সালে।

রহমানের এই জাতীয় ওয়াজ শুনে ও তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক যুবক ও তরুন সবুজ পাখির পেটের ভেতর ঢুকে গাছে গাছে ফল খাবার জন্য বোমা মেরেছে আদালতে, সিনেমাহলে কিংবা খুন করেছে সাধারণ অনেক নাগরিককে।

Thursday, 9 June 2016

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ড ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন

এই বিজ্ঞান সাময়িকীটিকে দেখলে কি কেউ চিন্তা করতে পারবে এটি ইসলামপন্থিদের বিজ্ঞানের কাগজ? আমি নিজে না জেনে কতজনকে এটি কিনতে বলেছি। বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়ে যারা মৌলবাদকে দমনের কথা বলেন তারা ভুদাই! জিরো টু ইনফিনিটি কাগজে বিজ্ঞানের হেন শাখা নেই যা নিয়ে আলোচনা করা হয় না। 

কিন্তু সব কিছুর উপর একজন শক্তিমান সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে সেটি এমন করে উপস্থাপন করা হবে যে, সাধারণ একটা ছেলে বুঝতেই পারবে না। তাদের লক্ষ্যই হলো বিজ্ঞান পাঠের সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দেয়া। এদের এই কারসাজি সহজে ধরা যায় না। অভিজিৎ রায়ও ধরতে পারেননি। পারেননি বলেই তিনিও এই কাগজটিতে লিখেছিলেন। 

লিখেছিলেন কাগজটির উপদেষ্টা ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর অনুরোধে সম্ভবত। অভিজিৎ রায়ের জানা সম্ভব হয়নি এই লোকটিই বাংলা ব্লগের "ছাগু" ত্রিভূজ! অভিজিৎ রায় ও বন্যা আহমেদের উপর আক্রমনের জন্য এই লোকটিকে সন্দেহ করা হয়। তার আমন্ত্রিত বৈঠকের কারণেই সেদিন অভিজিৎ ও বন্যার দেরী হয়ে যায় ফিরতে। তাকে প্রথম থেকে অনলাইনের লেখকরা বার বার সন্দেহজনক বলে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করা হলেও কোন মহলই তাতে কান দেয়নি।...

সাংবাদিকতা অনেক আগেই ইসলামপন্থি রক্ষণশীলদের হাতের মুঠোয় চলে গেছে। সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান একবার লিখেছিলেন, আগে সাংবাদিক হতো বামপন্থি ছেলেমেয়েরা, এখন শিবিরের ছেলেমেয়েরা সাংবাদিকতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোও ইসলামপন্থিদের হাতে চলে গিয়েছে। আমার হাতে জিরো টু ইনফিনিটির ২০১২ সালের জুলাই মাসের সংখ্যাটি রয়েছে যেখানে ফারসীম মান্নানের একটি লেখা আছে 'সুপারনোভা ডার্ক এনার্জি এবং নোবেল পুরষ্কার' নামের। 

মুসলমানদের ভেতরের কালো কালো অন্ধকার

১৯২২ সালে কোলকাতার রাস্তায় আনন্দ মিছিল বের করেছিল মুসলমানরা তুরস্কের কামাল পাশার বিজয় উপলক্ষ্যে! নজরুলের উচ্ছ্বাসিত হয়ে লেখা ‘কামাল তু নে কামাল কিয়া ভাই’ কবিতাটি গাইতে গাইতে তারা রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলমানরা তখন দুইভাগে বিভক্ত। 

গোঁড়া ধার্মীক মুসলমানরা ওসমানিয়া খিলাফতের শেষ সুলতান সুলতান ওয়াহিদুদ্দিন পক্ষে। কিন্তু নজরুলের মত প্রগতিশীল, আধুনিকরা আতার্তুক কামাল পাশার পক্ষে। ভারতবর্ষের মানুষ যেখানে নিজেরাই পরাধীন সেখানে তুরষ্কের খেলাফত নিয়ে তারা শোকে মুর্হমান! আবার আরেক দল কামাল পাশার ক্ষমতায় আরোহনে রাস্তায় ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে। আশ্চর্য হতে হয় ওসমানিয়া খিলফাতের সুলতান ওয়াহিদুদ্দিনকে ভারতের মুসলমানরা নিজেদের খলিফাই জ্ঞান করত!

কবি কাজি নজরুল ইসলাম যখন আমাদের প্রগতিশীলতার একটা ‘ব্র্যান্ডএম্বাসেডর’ হতে পারেন, একইভাবে তিনি যখন ইসলামপন্থি রক্ষণশীলদের হাতে ব্যবহৃত হন তখন যে সত্যটি আমাদের সামনে আসে- মডারেট পন্থা অবলম্বণ করে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে যুপোযুগি করে তোলার কৌশল ভবিষ্যতে রক্ষণশীলদের হাতে সেটাই অস্ত্র হয়ে দেখা দেয়। আমাদের সকলের একটা ধারনা বদ্ধমূল হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মের সোজাসুজি সমালোচনা করে কিছুতে মন পাওয়া যাবে না। 

Thursday, 26 May 2016

নামে মুহম্মদ কামে ইতরামী

যুক্তরাজ্যে শিশুদের নামের শীর্ষে আছে “মুহাম্মদ”! “অলিভার”, “হ্যারি-ফ্যারি” পিছনে ফেলে “মুহাম্মদ” এক নম্বরে উঠে এসেছে। এটা মূলত মুসলিম এশিয়দের জনসংখ্যার একটা প্রতিফলন। মুসলমানদের প্রায় ৯৯ ভাগ নামের শুরুই হয় মুহাম্মদ দিয়ে। মুসলিম বাবা-মা নিজের ছেলে সন্তানের নাম নবী মুহাম্মদ ও সাহাবীদের নাম অনুসারে রাখেন। । এসব সোয়াব ছাড়াও বাবা-মায়েদের মনের সুপ্ত বাসনা সন্তান যেন নবী বা সাহাবীদের আখলাক বা চরিত্র পায়। নবী ও সাহাবীদের “ফেরাস্তার” মতই নিস্পাপ, সৎ চরিত্রের মানুষ মনে করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য বিপদজনক যেটা, নবী ও সাহাবীদের সম্পর্কে এই মিথ তাদেরকে বড় ধরনের অন্যায়, অবিচারকে অন্ধ অনুসরন করতে দেখা যায়- কারণ সাধারণ মানুষ সাহাবীদের অনুকরণ করতে চায়। 

তারা সাহাবীদের মত ধর্মীক হতে চায়। কুরআন-হাদিস তথা ইসলামী জ্ঞান কম থাকায় লোকে এই কল্পিত গাল-গল্পকে বিশ্বাস করে ফেলে। নিচের কুরআনের সুরা আল আহজাবের একটা আয়াত নবী মুহাম্মদের সঙ্গিদের সম্পর্কে স্তম্ভিত করে দেয়ারে মত অভিযোগ আছে! দেখুন- “পরিচ্ছেদ-৭, ৫৩. ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা নবীর ঘরগুলোতে প্রবেশ করো না তোমাদের খানাপিনার জন্য অনুমতি না দেয়া হলে- রান্নাবান্না শেষ হবার অপেক্ষা না করে, বরং যখন তোমাদের ডাকা হয় তখন তোমরা প্রবেশ করো, তারপর যখন তোমরা খেয়ে নিয়েছো তখন চলে যেও এবং গড়িমসি করো না বাক্যালাপের জন্য। নিঃসন্দেহে এসব নবীকে কষ্ট দিয়ে থাকে, অথচ তিনি সংকোচবোধ করেন তোমাদের জন্য, কিন্তু আল্লাহ সত্য সম্বন্ধে সংকোচ করেন না। 

Thursday, 19 May 2016

ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত

ভারতের বিজ্ঞানমন্ত্রী বিজিতা নাথ জ্যোতিষ শাস্ত্রকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন! বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় বলে আসলে কোন মন্ত্রণালয়ই আমাদের উপমহাদেশে থাকা উচিত নয়। কারণ আমাদের বেশি বেশি করে ধার্মীক হতে হবে। ধার্মীক হতে হলে আমাদের অতিপ্রাকৃত বিষয়ে অগাধ বিশ্বাস রাখতে হবে। ভূত-প্রেত, জিন-পরী, জাদুটোনা, ঝারফুক, জ্যোতিষিতে বিশ্বাস করতে হবে। ভারত কিছুদিন আগে মহাকাশে যান পাঠিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও শোনা যাচ্ছে “বঙ্গবন্ধু নভোযান” পাঠানোর পরিকল্পনার কথা। আর এসব পরিকল্পনার মাথায় যারা বসে থাকেন তারা জিন-ভূত-ঝারফুক-জাদুটোনায় অগাধ বিশ্বাস রেখে চলেন। 

তাদের এই স্পার্ধার জোরটা আসে অশিক্ষায়-কুশিক্ষায় নিমজ্জিত ধার্মীক জনসাধরণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে। ভারতের বিজ্ঞান মন্ত্রীর জ্যোতিষি বিদ্যাকে সমর্থন করায় খুব কম সংখ্যাক মানুষই আহত হয়েছেন এটা এমনিতেই বলে দেয়া যায়। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু। ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বচ্চো ডিগ্রীধারী হয়েও জ্যোতিষি, শনির ফারা, বৃহস্পতির প্রভাব ইত্যাদির জন্য নানা রকম পাথর গ্রহণ করতে ন্যুনতম লজ্জ্বাবোধ তাদের নেই।। কাজেই ভারত নাসার মত মহাকাশ নিয়ে কোন চমক দেখালেও সেটা মোটেই কোন বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করে না।

বাংলাদেশের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট ইসলাম ধর্মের অনুসারী। মুসলিমরা খুব হামবড়া একটা ভাব দেখিয়ে “ইসলামে জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করা হারাম” বলে এক ধরনের কুসংস্কারহীনতার দাবী করেন। ব্যাপারটা আসলে তা নয়। ইসলাম ধর্মও জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করে। ইসলাম শুধু জ্যোতিষির কাছে যেতে নিষেধ করেছে কারণ জ্যোতিষিরা শয়তান জিনের মাধ্যমে ভবিষ্যত বলে দেবার বিদ্যাটা রপ্ত করে। মানে হচ্ছে জ্যোতিষি বা হাত দেখার বিদ্যাকে ইসলাম অস্বীকার করেনি। সহি হাদিসে বলা আছে নবী বলছেন জ্যোতিষিরা জিনদের কাছ থেকে ভবিষ্যত জেনে নেয়। 

Tuesday, 10 May 2016

অন্ধ ভারত বিদ্বেষী মনের বাঙালী মুসলমান

ছোট্ট ডরিমনের কথা মনে আছে? বেচারার মুখে জাপানী ভাষার বদলে হিন্দি ভাষা হওয়াতে সে নাকি গোটা বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি-ভাষাকে ধ্বংস করে ফেলেছিল! কিছু বৃদ্ধ বুদ্ধিজীবী যারা পারলে ডরিমনের ফাঁসি চান, তাদের পাতলা হয়ে যাওয়া চুলে আর গোফে স্পষ্ট রাজ কাপুরের স্টাইল তখনো ফিকে হয়ে যায়নি! তারা যদি যৌবনে ‘পেয়ার হুয়া এক রা হুয়া’ গেয়েও বাংলাদেশী সংস্কৃতির সর্দার হতে পারেন তো অন্যদের নিয়ে ভয়ের কিছু দেখি না…।

হিন্দি হচ্ছে বাংলাদেশী শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ভাষা। মিডেল ইস্টে শ্রমজীবীদেরতাদের মালিকদের সঙ্গে ভাব আদান প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হিন্দি। তাদের পক্ষে ইংরেজি কিংবা আরবীতে দক্ষ হওয়া চাইতে হিন্দিতে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ হওয়া অনেক সহজ। কি বলবেন একে?

বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্যের সর্দারদের ছেলেপিলে, নাতিপুতিদের সবাই ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে। জীবনেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধার ধারেন না। কিছু জনপ্রিয় সংস্কৃতিজীবী ও সাহিত্যজীবীর কথা জানি যাদের ছেলেমেয়ে, নাতিপুতিরা কেউ বাংলা পড়তে জানেন না! এতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যির কতখানি ক্ষতি হচ্ছে, কতখানি অমূল্যায়ন হচ্ছে, কতখানি আবেদন হারাচ্ছে সে বিষয়ে কোন অশান্তি তো তাদের দেখিনি?

Wednesday, 4 May 2016

মীরাক্কেল

মীরাক্কেল অনুষ্ঠান নিয়ে ফেইসবুকে অনেকেই লিখেছেন। অনুষ্ঠানটি অনেকদিন হয় আমি দেখি না। ফেইসবুকে পড়ে জেনেছি রাম-সীতা-রাবনকে নিয়ে একটি কমেডি করা হয়েছে। একজন বিশ্বাসী হিন্দুর কাছে রাম একজন দেবতা। মুসলিমদের নবীর চাইতে ক্যাটাগরিতে দেবতারা বড় কেননা দেবতারা স্বয়ং ঈশ্বরের মানুষ্য রূপ। ভারতের জি বাংলায় অনেকদিন আগে দেব-দেবীদের কাহিনী নিয়ে একটা কমেডি সিরিয়াল চলেছে বছর জুড়ে। 

দেশ পত্রিকায় দীর্ঘ একটা ধারাবাহিক রম্য রচনা বেরিয়েছিল অনেক বছর আগে “দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস” নামে। দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস! আমার মুসলিম পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হিন্দুধর্মালম্বিদের আশ্চর্য ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বহুকাল বিস্মতি করেছে। 

মীরাকেল্লের রাম-সীতাকে নিয়ে কমেডী অভাবনীয় কোন ঘটনা নয়। দেব-দেবতায় ভক্তদের তাতে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না। পোপকে নিয়ে হলউডের কমেডি সিনেমায় সিরিয়াস হাসিঠাট্টা করার মত নজির আছে। হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে ছিল নাটক-সিনেমায় কোন হুজুর চরিত্র নিয়ে কৌতুক করা যাবে না। দাড়ি-টুপি লেবাসের কোন রাজাকার চরিত্র বা মন্দ চরিত্র হিসেবে দেখানো যাবে না। যেখানে নবীদের নিয়ে ভক্তিমূলক সিনেমা তৈরির কথাও মুসলিমরা কল্পনা করতে পারবে না কমেডি তো সেখানে চিন্তার বাইরে। ৭১ সালে যারা লুটপাট, ধর্ষণ, গণহত্যা করেছিল তাদের দাড়ি-টুপি ইসলামী লেবাস ছিল- নাটক-সিনেমায় এখন সেই চরিত্রকেই ফুটিয়ে তুললে প্রবল ইসলামিনুভূতিতে আঘাত হচ্ছে!

Thursday, 21 April 2016

মানসিক ভারসাম্যহীন মুসলিম

বাংলাদেশে যারা মূর্তি ভাঙ্গে তারা ধরা পড়ে গেলে “মানসিক ভারসাম্যহীন” হয়ে পড়ে। সৌদি আরবে এক বাংলাদেশী মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে দেরী করায় যে গুলি করে হত্যা করেছে সেই ইসলাম প্রেমীও নাকি একজন “মানসিক ভারসাম্যহীন”! হতে পারে, আর মাথায় সমস্যা আছে এমন কাউকে তো আর সাজা দেয়া যায় না। 

তবে মানসিক ভারসাম্যহীন কেউ মসজিদের দেয়ালে কথিত ইসলাম নিয়ে কটুক্তি লেখার অপরাধে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে পারে। কারণ শরীয়ায় পাগলকেও কোন রেহাই দেয়া হয়নি। পাকিস্তানের একজন খ্রিস্টান যুবকের বিরুদ্ধে কুরআন অবমাননার অভিযোগ উঠে। পরে জানা যায় যুবকটি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কিন্তু ইসলামী আদালত তাকে কুরআন অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেয় এ জন্য যে, পাগল-ছাগল হলেও ইসলাম অবমাননা করলে রেহাই নেই।

আমি জানি লোকজন এখন চেঁচামেচি শুরু করে দিবে- আজান দিতে দেরী করলে গুলি করে খুন করার কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। কিন্তু এরকম ঘটনায় প্রতিবাদ না করার কথাও তো ইসলামে কোথাও বলা নেই। তাহলে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোন হৈ চৈ নেই কেন? রাস্তাঘাটে লোকজন এই ঘটনা নিয়ে তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে না কেন? তাদের মুসলমানুভূতিতেও বা আঘাত লাগেনি কেন? খ্রিস্টান অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকের কথিত নবী অনুভূতিতে আঘাত করায় নবী প্রেমিরা পাকিস্তানে শরীয়ায় তার বিচার করেছে। 

Sunday, 17 April 2016

ইসলাম যেভাবে শিল্পকে অবদমিত করে রাখে

মুসলমানদের মধ্যে অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য, ফ্লিমমেকারসহ শিল্পকলার সব মধ্যমেই গুণি মানুষকে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামে এসব কিছুই হারাম। এ জন্য ইসলামে প্রবল অনুরাগ থাকলে মুসলিমদের পক্ষে “শিল্পী সত্ত্বা” অর্জন করা সম্ভবপর হয় না। একজন অঙ্কন শিল্পী যদি মগজে ধারন করে যে ছবি আঁকা হারাম এবং এজন্য পরকালে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে- তাহলে তার পক্ষে কেমন করে প্রকৃত শিল্পী হওয়া সম্ভব? নিজের প্রতিভাকেই যেখানে পাপ বলে মনে হয় সেখানে সেই প্রতিভা সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন হতে পারে না। 

একজন অভিনয় শিল্পী যদি মনে করেন অভিনয় করাটা বিড়াট পাপের কাজ, পরকালে এজন্য তাকে দোজগে যেতে হবে- তিনি আর যাই হোক কখনোই “শিল্পী” হতে পারেন না। তাই মুসলিমদের মধ্যে প্রচুর অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, নৃত্য শিল্পী, চিলচ্চিত্র নির্মাতা থাকলেও তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক শেষ পর্যন্ত “শিল্পী” হতে পারেন। ইসলাম এভাবেই একজন প্রতিভাবানকে তার সর্বচ্চো শক্তিকে অবদমিত করে রাখে। দুনিয়াতে বিদ্যমান অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম এখানেই সর্বাপেক্ষায় ক্ষতিকারক অপশক্তি। 

মানুষের সহজাত ক্ষমতাকে, অন্যান্য প্রাণী থেকে যে মনন ও সৃজনশীল ক্ষমতা মানুষকে পৃথক করে দিয়েছে সেই ক্ষমতাকে অস্বীকারের মধ্য দিয়ে ইসলাম তার বিকৃত দর্শনকে পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরেছে। শুধুমাত্র জন্মসূত্রে মুসলমান হবার দুর্ভাগ্যের জন্য একজন মানুষ তার চিন্তাশীলতাকে ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যয় করতে দ্বিধান্বিত থাকে। দুনিয়ার অন্যসব ধর্মে হাজারটা অপশক্তি বিরাজ করলেও এই দিকগুলোতে কোন বিধি নিষেধ নেই। হিন্দুধর্মে তো নাচ ঈশ্বর-দেবতাকে সন্তুষ্ঠ করার একটা উপায়। বেহুলা তো নেচে ইন্দ্রপুরীর মনজয় করতে চেয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান ধর্মীয় সিনেমায় স্বয়ং যীশু-মুসাকে অভিনয়ের মাধ্যমে দেখানো হয়। 

Wednesday, 13 April 2016

ইসলামের দূষিত হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান

যমুনা টেলিভিশনে লাইফ টেলিকাস্টে অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সংখ্যাধিক্য এলাকাগুলোতে পুলিশ টহল ও নজরদারী বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর যদি দাড়ি-টুপি দেখলেই পুলিশ দেহ তল্লাসি চালায়- নির্ঘাত মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে গিয়ে চরম আঘাত লাগবে। ফেইসবুকেই ঝড় উঠবে ইউরোপে মুসলিমরা নিগৃহিত! কিছু সেক্যুলারও গলা মিলাবে, দাড়ি-টুপি পরলেই সবাই জঙ্গি হয়ে যায় না। কথাটা খানিকটা সত্য তো বটে। যেমন সব সাপই বিষাক্ত নয়। কিন্তু সাপ যেহেতু সাধারণ মানুষ তেমন করে চেনে না, তাই সাপ থেকে নিরাপদ থাকাই শ্রেয়।

মনে করুন, ইউরোপের একটা ট্রেনে বা ট্রামে, বা জনবহুল কোন জায়গায় চারটি প্রধান ধর্মের পুরোহিতদের ধর্মীয় লেবাসের চারজন লোক অবস্থান করছেন। গির্জার ফাদার, ইহুদী রাব্বী, মন্দিরের টিকিধারী পুরোহিত- সহযাত্রীদের মনোযোগই আকর্ষণ করবে না। কিন্তু একজন টুপি-দাড়ি পরিহিত মুসলিম লেবাসের কেউ দু:খজনকভাবে সকলের সন্দেহ ও অস্বস্তির কারণ হবেন। 

খোদ বাংলাদেশে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত শাসনের সময় জঙ্গিবাদ যখন রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিল তখন হুজুর লেবাসী কাউকে রমনার গানের অনুষ্ঠানে, ভ্রাম্যমান সিনেমা প্রদর্শনিতে, মেলা… সবার মনে একটা সন্দেহ তৈরি করতো। এই সন্দেহ আসলে ইসলামকে সন্দেহ। সাধারণ মানুষ জেনেবুঝে ইসলামকে সন্দেহ করছে না সত্যি, কিন্তু একজন ইসলামী লেবাসের লোক জঙ্গি হলেও হতে পারে, বা সম্ভবনা আছে, বাদ দিন লেবাসের কথা, একজন মুসলিম জঙ্গি হলেও হতে পারে, সে জিদাহে বিশ্বাসী হওয়া অসম্ভব নয়- এটা একজন হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদীকে নিয়ে ভাবনায় আসে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, ইসলামকেই সন্দেহ করা হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মুসলমান সেটা সরাসরি বুঝছে না।

Monday, 4 April 2016

পাকিস্তানে স্কুলে তালেবান হামলার পর একটা রব উঠছে- সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার। কিসের সন্ত্রাসবাদ? কার বিরুদ্ধে কাজ করবে সকলে মিলে? এটা ভারতের জঙ্গলে চন্দন কাঠ চুরি করা ডাকাত বিরাপ্পানকে সম্মলিতভাবে পাকড়াও করার মত কোন বিষয়? পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রগুলো মিলে একজোট হয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মত কোন বিষয়? এটা কি হিটলারের ন্যাৎসিবাদ? সোমালিয়া জলদস্যু কোন ধর্মমত নয়। বিরাপ্পান্ও কোন নবী ছিল না। কিন্তু তালেবান অন্য জিনিস। বেকো হারাম অন্য জিনিস। জেএমবি অন্য জিনিস। তাই তালেবানরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। 

বেকো হারামরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। তাদের পরাজিত করা যাবে সাময়িকভাবে কিন্তু নিমূর্ল করা যাবে না। কারণ আপনি মূল রেখে দিয়ে পাতায় হাত দিচ্ছেন। সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার অর্থ করতে হবে “সম্মলিতভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করা”! তালেবানরা জন্ম নেয় ইসলাম থেকে। দুনিয়াতে আরো ধর্ম আছে সেখানে কোন “তালেবান” জন্ম নেয় না। সমস্যা তাহলে ইসলামে। ঠিক আছে মানলাম, “ইহা সহি ইসলাম নহে”! আপনার কথা মেনেই “অসহি ইসলামের” বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই লড়াইয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হবে মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম-ওলামাদের বিষয়ে গভীর সন্দেহ পোষণ করা। মনিটরিং করতে হবে এদের উপর। নামাজ শেষে বয়ানের উপর নজর রাখতে হবে। আপনি রাজি তো? তখন বলবেন না, মুসলিমদের হয়রানী করা হচ্ছে?

Thursday, 31 March 2016

ইসলামী আসল চেহারা

যখনই ইসলামের আসল চেহারাটি বেরিয়ে পড়ে সেটাকে ধামাচাপা দিতে কাফেরদের চক্রান্ত বলে নিজের গায়ের অপরাধকে কাফেরদের গায়ে চাপিয়ে দিয়ে ইসলাম নিজেকে রক্ষা করে। ১৪০০ বছর আগের নবী কর্তৃক সমস্ত জেনোসাইডকে নানারকম কাল্পনিক, মিথ্যা বিশ্বাসঘাতকতা অভিযোগে হালাল ও যৌক্তিক করা হয়েছে। কিন্তু দুনিয়াতে যত বড় অভিযোগই তোলা হোক না কেন, গণহত্যার জন্য কোন অযুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। গণহত্যায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ, নিরপরাধী মানুষকে গণহারে, গণঅভিযোগে হত্যা করা হয়। 

বিশ্বাসঘাতকতা কখনো গোটা সম্প্রদায়, গোষ্ঠি, গোত্র করতে পারে না। নিরহ নারী, শিশুরা রাজনীতি বুঝে না। অথচ তারাও শিকার হয় নির্মম গণহত্যার শিকার। যে কারণে গণহত্যার কোন সাফাই চলে না। অথচ দেখা যায় ইসলামের নবী ইহুদী গোত্রগুলোর প্রতি উচ্ছেদ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গণহত্যা (যেমন বনু কুরাইযা), লুটপাটের মত ঘটনাগুলোর পিছনে ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, গোপন বিশ্বাসঘাতকতা, চুক্তি বা সন্ধি ভঙ্গের মত অভিযোগ দাঁড়া করানো হয়। কোন সুস্থ, বিবেক সম্পন্ন মানুষ এসব অভিযোগের কারণে গোটা একটা সম্প্রদায়কে হত্যা করাকে সমর্থন করতে পারে না। তাই মুসলিমদের মধ্যে যারা ইসলামের নবীর এহেন কর্মকান্ডকে জেনেও অবিচল থাকেন বিশ্বাসে এবং সাফাই গান হত্যাযজ্ঞের জন্য তারা শুধু মানসিকভাবেই অসুস্থ না, মানুষের কাতারেই তারা পড়েন না!


শুধুমাত্র লিঙ্গের অগ্রভাবে কেশের অবস্থান দেখেই সাবালক বিবেচনা করে বারো-তেরো বছরের শিশুদেরকেও ইসলাম গণহত্যার জন্য হালাল করেছে। বাকীদের দাসে পরিণত করা হয়েছে। নারীদের করা হয়েছে মুসলিমদের জন্য যৌনদাসী। এইসব যুদ্ধবন্দী নারীদের মহান ইসলামী যুদ্ধের রসদ কেনার জন্য বিক্রিও করে দেয়া হতো গরু-ছাগলের মত। নারী বেচাকেনার সেই পয়সায় মহান রাব্বুল আলামিনের শান্তির ধর্ম ইসলাম কায়েমের যুদ্ধের ঘোড়া, তরোয়ালসহ সমস্ত যুদ্ধ রসদ কেনা হতো। এসব কোন নাস্তিকের লেখা বই পড়ে জানার দরকার নেই। 

Saturday, 19 March 2016

বনু কুরাইযা গোত্র উপর ইসলামী অত্যাচার

মদিনার বনু কুরাইযাকে কচুকাটা করা হয়েছিল মামুলি চুক্তিভঙ্গ করার অভিযোগে! যদিও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগটি যে ধাপ্পাবাজী তা হাদিসের বর্ণনাতেই ধরা পড়ে। যদি কোন মানুষকে তার অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বলা হয় যে সেই ব্যক্তি জাদু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল সেটাকে কেমন করে আজকের যুগে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করা যায়? ইতিহাস আরব্য রজনীর গল্প না।বনু কুরাইযা গোত্রকে নি:শেষ করা হয়েছিল চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে, গোত্রের প্রধান কা’ব ইবনে আসাদ অন্য গোত্রের হুয়াই ইবনে আখতাবের জাদুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চুক্তিভঙ্গ করতে সম্মত হয়। এরচেয়ে মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজী ধর্মের ইতিহাসে বোধহয় দ্বিতীয়টি নেই।

খন্দকের যুদ্ধের পর পর ৬২৯ সনের এপ্রিল মাসে বনু কুরাইযা গ্রোত্রের উপর নবী ও তার সাহাবী বাহিনী আক্রমণ করেন। দুনিয়ার কোন ইসলামিস্টই এই ঘটনাকে এড়াতে পারেন না, বলতে পারেন না যে এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি। বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা আজকাল যেমন বলতে পারেন ৭১ সালে এখানে তেমন কিছুই ঘটেনি, তেমনটা ইসলামিস্টরা দাবী করতে পারেন না কারণ এসব হাদিস, বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থ এবং স্বয়ং কুরআন শরীফে এর উল্লেখ আছে। কুরআনের তাফসিরে এর ব্যাখ্যা আছে। এজন্য বনু কুরাইযাসহ ইহুদী আরো নানা গোত্রের উপর নবী মুহাম্মদের হামলা, অত্যাচারকে ইসলামী দুনিয়া অস্বীকার করতে না পেরে একে যৌক্তিক প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়। তারা বুঝাতে চায় ঐ হামলাগুলো করা হয়েছিল ইহুদীদের গাদ্দারী, বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই! আমার নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় কারণ আমি ইসলাম ধর্মকে ত্যাগ করতে পেরেছি। আমি নাস্তিক না হলে খুব সহজেই এইসব গণহত্যাগুলোর সপক্ষে নানা রকম যুক্তি খুঁজে পেতাম!

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান

আফগানিস্থানের তালেবান, পাকিস্তানী তালেবানকে নিন্দা জানিয়েছে! এ হচ্ছে মাছের মার পুত্রশোক! সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জামাতের দু:খপ্রকাশ যেমন হাস্যকর, এক তালেবানকে আরেক তালেবানের নিন্দা সেরকমই হাস্যকর। এসব করার কারণ হচ্ছে, আসল ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ হবার ভয়। যারা আল্লামা, মুফতি, শাইখুল হাদিস, কুরআন বিশেষজ্ঞ তারা জানে পাকিস্তানী তালেবান যে প্রতিশোধ নিয়েছে তা কুরআন হাদিসে নজিরবিহীন নয়। 

কথিত ষড়যন্ত্র বা আক্রমণের আশংকায় বা চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ইসলামের নবী পুরো একটা গোত্রকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে দিয়েছিলেন তার প্রমাণ হাদিস, কুরআনসহ বিভিন্ন ইসলামী বইতে অত্যন্ত গর্বভরে প্রকাশ করা হয়েছে। বিধর্মী নারীদের বন্দি করে হেরেমে ভরেছিলেন গণিমতের মাল ঘোষণা করে। অথচ সহি ইসলামঅলারা এখন পাকিস্তান তালেবানের শতাধিক শিশুকে হত্যার পর ইসলামকে বাঁচাতে ফের মাঠে নেমেছে।

Friday, 11 March 2016

বাংলাদেশের রাজনীতি ও ধর্ম

ঘোষেটি বেগম প্রসাদ ষড়যন্ত্র এইবার ব্যর্থ হলেও আশাহত হবার কারণ দেখি না। তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বলই মনে হচ্ছে। হতাশার কথা লিখতে চাইনি, কিন্তু যা বিশ্বাস করি তা লিখতেই হবে, উপায় নেই…।

আওয়ামী লীগ যদি উন্নয়ন দিয়ে পুরো দেশও ভরে ফেলে তবু একটা পক্ষপাতহীন নির্বাচনে ভয়ংকর ভরাডুবি তারা এড়াতে পারবে না। কারণ আওয়ামী লীগের গায়ে “ধর্মনিরপেক্ষতা” বলে একটা তকমা লাগানো আছে। এদেশের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতা চায় না। দুনিয়ার কোন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমই তা চায় না। আওয়ামী লীগ এখন ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে বহুদূর দিয়ে হাঁটে। তবু “দুর্নাম” যেন ঘুচবার নয়! এই দলটি এখন ডানপন্থির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। না যেয়ে উপায়ও নেই। তারাও জানে দেশের মানুষ ইসলাম চায়। তারা ইসলামী ভাবাপন্ন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। অদ্ভূত কারণে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠি আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিরোধী বলে মনে করে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যারা বংশক্রমে আওয়ামী সমর্থক, তারাও দলকে ইসলামী ধ্যান-ধারনায় দেখতে চায়। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এখন তাতে আপত্তি নেই। তবু আওয়ামী বিরোধী ভোট বেড়েই চলেছে।

গভীর কারণটা হচ্ছে পাকিস্তানকে ভাঙ্গা। পাকিস্তান একটা ইসলামী রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্র ভেঙ্গে বাংলাদেশ নামে একটা ধর্মনিরপেক্ষ (হোক কাগুজে) রাষ্ট্র হওয়া তো সহজে হজম হবার নয়। আজকে যতই শেখ মুজিবকে “তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি” বলে ইতিহাস রচনা করা হোক না কেন, তিনিই যে পাকিস্তার ভাঙ্গার মূল হোতা সেটা পাকিস্তান প্রেমিদের অজানা নয়। সেই থেকে তাদের চোখে আওয়ামী লীগ ইসলামী কওমের শত্রু। 

তারা উপমহাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার শত্রু। ৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগকে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়েছে সামরিক শসনের কারণে। এই ২১ বছর পর ১৯৯১ সালে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারতে হয়েছিল “মুসলিম জাতীয়তাবাদের” জোর জোয়ারে কাছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে দখল করে ফেলবে, হিন্দুস্তানী শাসন কায়েম হবে- খালেদা জিয়ার এই প্রচরণার কাছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে হেরে যান। সেই থেকে আওয়ামী লীগের বদলে যাবার লক্ষণীয় উদ্যোগ। 

Thursday, 10 March 2016

লাল মসজিদের খতিব আব্দুল আজিজ

পাকিস্তানের লাল মসজিদের খতিব আবদুল আজিজ লোকটা ইসলামের কিছুই জানে না। লোকটা বলে কিনা তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযান অনৈসলামিক! 

তার উচিৎ বাংলাদেশের মডারেট মুসলিমদের কাছ থেকে ইসলাম শিখে যাওয়া। যারা "সালাফি সেক্যুলার" ট্যাগ মারে রোজ তাদের কাছ থেকে কুরআন-হাদিস জেনে নেওয়া। 

লোকটা আবার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত থেকে আলেম-ওলামাদের ডেকে আনলে তিনি প্রমাণ করে দিবেন তালেবানদের উপর হামলা অনৈসলামিক। লোকটাকে আচ্ছা মত ইসলাম শিক্ষা দেয়ার জন্য মডারেট মুসলিম আর সালাফি সেক্যুলার ট্যাগঅলাদের পাকিস্তানের লাল মসজিদের খতিবের কাছে পাঠানোর দাবী জানাচ্ছি!

Wednesday, 9 March 2016

ধর্ম নামের ব্যবসা

এই বিশাল ভারতবর্ষ নামের ভূখন্ড যার নামে পরিচিত সেই ভরত ছিলেন রাজা দুষ্মন্ত ও শকুনতলার “অবৈধ” সন্তান। রাজা দুষ্মন্ত শকুনতলার প্রতি কামাসিক্ত হয়ে স্রেফ একটা আংটি পরিয়ে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীকালে দুষ্মন্ত শকুনতলাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করেন। মহাভারতের কর্ণ তার কুমারী মা কুন্তির সন্তান।…সেই ভারতবর্ষে একজন মা, যিনি সন্তানকে পেটে ধারন করেন, যার রক্তে-মাংসে একটু একটু করে বেড়ে উঠে সন্তান, কেন সে সন্তান তার মায়ের পরিচয়ে স্বীকৃতি পাবে না? যে দেশে ভরত বা কর্ণকে দেবতা জ্ঞানে সম্মান করা হয় সে দেশে কেন পিতৃ পরিচয়হীন সন্তানকে স্বীকৃতি দিবে না?

রাজতন্ত্রকে হটিয়ে বামপন্থিরা নেপালের ক্ষমতায় এসেছেন। সেখানে কোন বিজিপি বা হিন্দু সংঘ সরকার গঠন করেননি। করেছে বামপন্থিরা এবং তারাই পার্লামেন্টে বিল আনতে যাচ্ছে- যে সব মায়ের তার সন্তানের পিতার স্বীকৃতি নেই তাদের নাগরিত্ব দিবে না নেপাল সরকার। 

সেদিন এনটিভিতে ইসলামী সাওয়াল জবাবের একটা অনুষ্ঠানের খানিকটা দেখছিলাম। মানুষ কতটা ধর্ম দ্বারা অসুস্থ, নির্বুদ্ধি, কান্ডজ্ঞানহীন হতে পারে এ ধরনের ইসলামী প্রশ্ন-উত্তর পর্ব না দেখলে অনুমান করা যাবে না। যাই হোক, সেই অনুষ্ঠানে একজন মহিলা প্রশ্ন করলেন, তিনি বাড়িতে পাখি পোষেন, পাখি পোষা ইসলামে জায়েজ কিনা? বিদঘুটে, উদ্ভট পোশাকের এক মাওলানা উত্তর করলেন, হাদিসে আছে একজন সাহাবী (নামটা আমি ভুলে গেছি) পাখি পোষতেন, নবী এটা জানার পরও নাকি কোন মন্তব্য করেননি। নিষেধ করেননি পাখি না পোষার জন্য। কোন বিধিবিধানও ঠিক করে দেননি। কাজেই পাখি পোষা ইসলামে কোন নিষিদ্ধ কাজ নয়। হুজুর নিজে থেকে যোগ করলেন, তবে পাখি পোষার সময় খেয়াল রাখবেন যেন পাখির মৌলিক যে অধিকারগুলো আছে সেগুলো যেন লঙ্ঘন না হয়। 

যেমন দানা-পানি দেয়া ইত্যাদি। নবী যেখানে কিছুই বলেননি এ বিষয়ে সেখানে এই মৌলবী আগ বাড়িয়ে যা বললেন সেটা ইসলাম বলে মানতে হবে নাকি? একটা পাখিকে দানাপানি দিতে হবে এটা নবী বলেননি। কাজেই খাঁচার পাখিকে কিছু না খাইয়ে মেরে ফেললেও কোন দোষ নেই? একটা পাখির মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো তার উড়বার স্বাধীনতা। মানুষ সেই মৌলিক অধিকারকে হরণ করে একটা পাখিকে নিজের বিকৃত সখ পুরনের জন্য পোষে। যে মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন তার কিন্তু মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করতো এ জন্য। 

Wednesday, 2 March 2016

যীশু নামের মিথ্যে মিথ

খ্রিস্টান আর ইহুদী ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করলে কি ইসলাম অবমাননা হবে? যারা বলেন শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়ে কেন সমালোচনা হয়, আর কোন ধর্ম নাই- তারা নিশ্চয় এবার খুশি হবেন অন্য ধর্মের পয়গম্বকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হলে! 

কি মুশকিল, বলছি যীশু একটি কল্পিত চরিত্র, মুসার কোন ঐতিহাসিক অস্তিত্ব নেই- তাতে ইসলাম প্রেমিরা চটবেন কেন?

যীশুর জন্মের ৫৭০ বছর পর জন্ম নেয়া হযরত মুহাম্মদের জন্ম তারিখই যেখানে বিতর্কিত সেখানে যীশুর জন্ম তারিখ ২৫ ডিসেম্বর কেমন করে নিশ্চিত হওয়া গেলো? যীশুর বাথ সার্টিফিকেট কোন পৌরসভার নথিতে পাওয়া গেছে? দুনিয়াতে একটা ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখানো যাবে যার দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যীশু বলতে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন? না, যায় না। বেথেলহাম বলতে দুনিয়াতে একটি জায়গার নাম থাকলেই সেটা প্রমাণ হয়ে যায় না। যীশু যে একটি কল্পিত চরিত্র সেটা তো চার্চের গোপন নথিতেই রয়ে গেছে। যীশুকে মানুষ রূপে দেখানোর আগে একটি ভেড়াকে ক্রুশে দেখানো হতো। প্রাচীনকালে সুপ্রসিদ্ধ আর্য জাতি যাযাবর বৃত্তিতে পৃথিবীর যে প্রান্তেই গিয়েছে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে নিজেদের সংস্কৃতি, লোকাচার আর ধর্মকে। 

তারপর স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে আর্য ও অনার্য ভাষা, সংস্কৃতি আর ধর্ম বিশ্বাস। মুসা নবীর কাহিনী আর ভারতবর্ষের শ্রীকৃষ্ণের কাহিনী তাই একই রকম। আর্যদের ঈশ্বর গড়ে উঠেছে সূর্যকে কেন্দ্র করে। সূর্য হচ্ছে মহা শক্তিধর একটা উৎস। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে কোন কিছুই সম্ভব নয়। আবার সূর্যের অতি ক্ষমতা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলে। কাজেই আর্যদের কাছে সূর্য ঈশ্বর।

Wednesday, 17 February 2016

দাড়িওয়ালা মুসলিম বলদ

এই যে নাস্তিকদের ফাঁসির বিধান রেখে ব্লাসফেমির দাবী করছে দাড়িঅলারা, কুরআন-হাদিসে কোথায় নাস্তিকদের বিষয়ে বলা আছে তারা বলতে পারবে? ইসলামে মুরতাদ আছে যার মানে ধর্মত্যাগী। যারা ইসলাম ধর্ম থেকে চলে গিয়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করবে তারা মুরতাদ। মুরতাদদের হত্যার সহি হাদিস রেফারেন্স আছে। আছে অবিশ্বাসী তথা কাফেরদের কথা। 

কোন না কোন ধর্মের সাথে যুক্ত থাকার সুবিধা না নিয়ে কোন মানুষ থাকতে পারে এটা ওই সময়ে আরবে চিন্তারও বাইরে ছিল। এত বলদ কি মানুষ হতে পারে? তাই 'নিরপেক্ষদের' নিয়ে কোরানের রচয়িতার মনে হয় কোন দুশ্চিন্তা ছিলনা। তবে এই যুগে বিরোধী দল না করলেও সতন্ত্র প্রার্থীদের ব্ল্যাক লিস্টেড হয়েই থাকতে হয়। সেই হিসাবে নাস্তিকরাও মুরতাদ। কয়জন আর নাস্তিক হয়ে জন্মায়, বেশিরভাগই 'ধর্মত্যাগী'।

যারা ইসলাম ধর্ম ও এর নবীকে স্বীকার করেননি তাদের ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে তারাই কাফের। এই কাফেরদের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কুরআন তাগিদ দিয়ে গেছে। কিন্তু নাস্তিকদের বিষয়ে কুরআন-হাদিসে কিছু বলা আছে কি? আবু জাহেল, আবু লাহাব নাস্তিক ছিলেন না। তাদের ধর্ম ও ঈশ্বরকে তারা এতটাই ভালবাসতেন যেন মুসলিমদের সঙ্গে তাদের ধর্ম নিয়েই যুদ্ধ বাধে। 

Saturday, 13 February 2016

আমাদের অথর্ব সেনাবাহিনী

আমাদের সেনা বাহিনীকে কিছু শ্বেতহস্তি কিনে দেয়া হয়েছে পুষবার জন্য। হাতির দাম লাখ টাকা, তাকে পুষতেও লাখ টাকা খরচ। এই খরচ দিবে এইদেশের গরীব মানুষ। কারণ এই মানুষগুলো যখন “বর্হিশত্রুর” আক্রমনের সম্মুখিন হবে তখন বীর সেনানীরা এই শ্বেতহস্তিগুলো দিয়ে আমাদের রক্ষা করবেন। কাজেই পিঠের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে হলেও এই বিপুল খরচ মেটাতে হবে তাদেরকেই! শত শত মাইল দূরে, পরিবার-পরিজন ফেলে যারা জন্তু-জানোয়ারের মত খেটে দেশে পয়সা পাঠান সেই পয়সায় যুদ্ধবিমান, ভারী অস্ত্র কেনা হবে। আজকের পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে একটা দেশের মানুষ কি পরিমাণ অশিক্ষিত, অসচেতন হলে পড়ে তাদের বিশ্বাস করানো যায় যে তারা মারাত্মক বর্হিশত্রু আক্রমনের বিপদের মধ্যে বাস করছে- তার একটা নমুনা হতে পারে বাংলাদেশ। আমাদের মত গরীব দেশ তাই যুদ্ধ বিমান কেনে ঋণ করে! “ফাস্ট ওয়ার্ল্ড” নিশ্চয় এসব দেখে মুখ লুকিয়ে হাসে! যে দেশের একটা ভবন ধসে গেলে উদ্ধার অভিযান বার বার বাধাগ্রস্ত হয় আধুনিক যন্ত্রের অভাবে, সে দেশ যুদ্ধ বিমান কিনে! এই লজ্জ্বা, এই গ্লাণি আমরা কোথায় রাখি!

Monday, 1 February 2016

আল্লাহ-ইশ্বর এক ধাপ্পাবাজীর ধারনা

আমরা নাকি সব বিষয়ে ধর্ম আর আল্লাকে টেনে আনি। যারা প্রচন্ড গরমের সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করলেও দলবেধে বলতে থাকে “দেখছেন আল্লার কি রহমত”, প্রচন্ড খড়ায় প্রত্যাশার একটু বৃষ্টি নামলেই আল্লাপাকে অস্তিত্বে “সায়েন্টিফিক” প্রমাণ পেয়ে যান- তাদেরকে তখন কেউ বলে না, সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনেন কেন? আল্লা ১০০ মানুষকে নদীতে ডুবিয়ে মারেন- এটা বলা যাবে না, কিন্তু সাঁতরে কয়েকজন তীরে বেঁচে আসতে পারলে সেটা আল্লার অশেষ রহমত! আল্লার রহমত নিয়ে আমাদের তীর্যক প্রশ্নগুলো আসে এরকম নির্বোধ আর যুক্তিহীন দাবীগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে। সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনে মুমিনদের দলই, আমরা শুধু সুযোগ বুঝে ধরিয়ে দেই- তখন আল্লাহ কোথায় ছিলেন?

ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে কতটা যুক্তিহীন নির্বোধ বানায় তার প্রমাণ “আল্লার রহমত” তত্ত্বে প্রকাশ পায়। আল্লার কুদরত, রহমত কথাটার প্রয়োগ তখনই যৌক্তিক হতো যখন এই বিশ্ব চরাচরে যাবতীয় প্রাকৃতিক, মানুষ্য সৃষ্টি দুর্ঘটনায় আল্লার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকতো। কিন্তু দুনিয়ার কোন ধমই স্বীকার করে না যে এই বিশ্ব চরাচরে কোন ঘটনার উপরই আল্লার নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন হঠাৎ নদী বক্ষে ঝড় উঠা। এতে আল্লার নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। 

প্রাকৃতিক যে সব কারণে ঝড় উঠে তা একটা নিয়মের ফল। যেমন আগ্নেয়গিরি, মাটির নিচে চাপা লাভা হঠাৎ গরম হয়ে উপরে চলে আসে। আল্লার এতে কোন হাত নেই। এটা তারই বানানো নিয়ম। তিনি শুধু দর্শক। এরকম আল্লাহ যদি নদী বক্ষে ঝড়ের মুখে পড়া লঞ্চকে তার বিশেষ পাওয়ার দিয়ে বাঁচাতে পারে সেটাই হবে কুদরত। কিন্তু ঝড়ের যিনি সৃষ্টিকারী, যারা ইশারায় ঝড় উঠেছে তিনিই আবার ঢং দেখিয়ে রহমত করতে যাচ্ছেন এটা খুবই স্থূল বিশ্বাস! নিউটনের ঈশ্বর ছিলেন একজন প্রোগ্রামার যিনি সব কিছুর পিছনে নিয়ম তৈরি করে দিয়ে চুপ করে দূরে বসে আছেন। এই নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষমতা স্বয়ং ঈশ্বরেরও নেই। মানে পদার্থকে উপর থেকে ফেললে নিচে পড়বে মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে- এই নিয়ম ঈশ্বর তৈরি করেছেন কিন্তু এটা লঙ্ঘন করার সাধ্য ঈশ্বরের বাপেরও নেই। 

Friday, 15 January 2016

বাংলাদেশের দূষিত রাজনীতি

এদেশে বাস ভর্তি মানুষকে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়! যাদের পুড়িয়ে মারা হয় তাদের কোন অপরাধ নেই। কি আশ্চর্য একটা ব্যাপার! জাতিগত দাঙ্গা হয় দুনিয়া জুড়েই। সেই দাঙ্গায় যাদের হত্যা করা হয় তারাও নিরপরাধীই থাকে তবু একটা কারণ থাকে যে তারা অমুক জাতি- এটাই তাদের অপরাধ। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থেকেও প্রচুর খুনোখুনি হয়। যেমন- ওরা অমুক পার্টি করে, ওরা অমুক পার্টির কর্মী- এই পরিচয়টুকু ধরেও মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বাস, ট্যাক্সিতে, অটরিক্সায় যে মানুষগুলোকে পেট্রলবোমায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তাদের এরকম কোন যোগসূত্র পর্যন্ত নেই! তারা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, চিকিৎসার জন্য, স্কুল-কলেজে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়, তারা বড় জোর ভোটার, যে ভোটটা হয় সরকার দলীয় অথবা অপজিশন পার্টির, কিন্তু যারা আগুন দিয়েছে তাদের গায়ে তারা তো সেটাও জানে না। 

ছিনতাইকারীর হাতেও মানুষ প্রাণ হারায়। সেখানেও একটা কারণ নিহিত থাকে। পকেটে টাকা-পয়সা, মোবাইল বহনই ভিটটিমের অপরাধ। কিন্তু পেট্রলবোমায় যাদের দেহ ঝলসে গেছে তাদের এই অপরাধটিও ছিল না। কেননা তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার জন্য কেউ পেট্রলবোমা মারেনি। এরকম নিরপরাধ, সংজ্ঞাহীন হত্যাকান্ড দুনিয়ার আর কোথাও ঘটে না। এই বাংলাদেশ কেমন করে দুনিয়ার কাছে মুখ দেখায়? কেমন করে আফ্রিকার গ্রহযুদ্ধ কবলিত দেশগুলোতে “শান্তি মিশনে” নাম লেখায়?

Saturday, 9 January 2016

হতভাগা মুসলিম

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন আমাকে কখনই তেমন আকর্ষণ করেনি। কারণটা হচ্ছে এর হৈ-হল্লাটা। কখনো কখনো এটা এমন বাড়াবাড়ি আকার ধারন করে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ছাড়ে। এ বছরও দেখবেন নববর্ষের প্রথমদিনে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের নানা রকম দূঘটনার দু:খজনক খবর আসছে সারা দুনিয়া থেকে। সারা দুনিয়ার মত বাংলাদেশেও পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে “উদযাপনকে নিয়ন্ত্রণ” করতে। এটা তো “ইসলামিক কান্ট্রি” তাই এই দেশে “মদ খাওয়া নিষেধ”। হিন্দু ছেলেদের কালিপূজায় মদ খাওয়ার একটা ফ্রি লাইসেন্স থাকে, মুসলিমরা জন্ম থেকেই হতভাগ্য। এদের জীবনে কোন উৎসব নেই। ইংরেজি নববর্ষ এদের কাছে “খ্রিস্টান কালচার”। বাংলা নববর্ষ নিয়েও এই রামগড়ুর ছানাদের দ্বিধাদ্বন্ড- বেদাত, হিন্দুয়ানী কিনা! তবে ঢাকার বারগুলোতে গেলে টেবিলে টেবিলে যে লোকগুলোকে বসে বসে পান করতে দেখা যায় তারা নিশ্চয় সবাই হিন্দু না। এদেশে মদ বেচার ও খাওয়ার লাইসেন্স কোন “মুসলমানকে” দেয়া হয় না। সারা দুনিয়ার মুসলমানই মদের পাগল। কিন্তু মুখে তারাই মদের বিরুদ্ধে জিহাদ তুলে! মুসলিমরা আর সব সম্প্রদায়ের মতই ভাল-মন্দের দোসর, তবু তাদের রক্ষণশীলতার বাড়িবাড়ি তাদেরই পায়ে শৃঙ্খল পড়ায়।…

Wednesday, 6 January 2016

বাম দল কেন জঙ্গীদের প্রতিবাদী চরিত্র বানিয়ে থাকেন?

রাজনৈতিক কার্যক্রম বা প্রভাবের মধ্যে বাম দলগুলোর কোন প্রভাব বা জনগণের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর এই ঘরোনার রাজনীতিও বিশ্বজুড়ে প্রচন্ড মার খেয়েছে। তবু বাংলাদেশের টকশোগুলোতে সক্রিয় বাম রাজনীতিবিদ ও তাত্বিক বুদ্ধিজীবীদের দরদাম বেশি হবার কারণ সম্ভবত তাদের পার্ভাট টাইপ কথাবর্তার জন্য। যখন ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে জনগণের জিরো টলারেন্স মনোভাব গড়ে উঠা জরুরী তখন জঙ্গিদের হয়ে কথা বলা এক ধরণের ভায়োলেন্স বিনোদন। 

হলিউডে সিরিয়াল কিংলিয়ের উপর অনেক সিনেমা আছে যেখানে নৃশংস কায়দায় খুন দেখানোর উপর ভিত্তি করে নির্মান করা হয়। সিনেমা হলে একশ্রেণীর দর্শক এইসব বিভৎস খুনের দৃশ্য দেখে বমি পর্যন্ত করে ফেলে। আর এই বমি করাটেই এই বিনোদনের চরম মুহূর্ত। বাংলাদেশে টকশোগুলো ভায়োলেন্স বিনোদনের উদ্দেশ্যেই বামপন্থি আলোচকদের ডেকে আনা হয় যে কোন দেশি-বিদেশী জঙ্গি আক্রমনের পরে যেখানে কায়দা করে তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে জঙ্গিদের প্রতিবাদী একটা চরিত্র বানাতে ব্যস্ত থাকে। 

ফ্রান্সে এক হামলায় দেড়শো মানুষ মারা যাবার পর এই হামলা ফারাসী উপনিবেশ শাসনের নিপীড়নের প্রতিক্রিয়া বলা হলিউডের পর্দায় কড়াৎ দিয়ে মানুষের মাথা চেড়ার দৃশ্য দেখার মতই ভয়াবহ ছিল…।