বনু কুরাইজা ইহুদী গোত্রের সাতশ বালক-পুরুষদের কি “ক্যাপ্টাগন” পিল খেয়ে হত্যা করা হয়েছিল? খয়বর সর্দারের স্ত্রীকে তার স্বামীর লাশের উপর দিয়ে বাসরঘর করার মত অমানবিকতা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে করা হয়েছিল? ১৯৭১ সালে সাকা, নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদরা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে নির্মম নৃশংসতা করেছিল? আপনাদের নির্লজ্জ্ব ইতরের মত জঙ্গিদের হয়ে সাফাই গাওয়া, জিহাদকে ধুয়েমুছে পরিস্কার করার নোংরা প্রচেষ্টা শেষতক টিকবে না এটা জেনে রাখুন! অনেকদিন থেকেই জিহাদীদের ইহুদী, মোসাদ, র’ ইত্যাদি বলে জোর প্রচার চালিয়ে গেছে মুসলিম প্রাধান দেশের মুসলিম সরকার ও জনগণ। কিন্তু পরিস্কার বাংলায় কথা বলা এইদেশের ছেলেরা যখন দলে দলে ধরা পড়া শুরু করল তখনই প্রলাপ বকতে শুরু করল, এরা মুসলমানই নয়, এরা ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করে না…।
এটাও যখন ধোপে টিকছিল না তখনই একটা সায়েন্স ফিকশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। “ক্যাপ্টাগন অ্যাম্ফিটামিন” নামের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পিলের নেশায় আসক্ত হয়েই জঙ্গিরা বিবেক বিবেচনা বর্জিত নানা নৃশংসতায় মেতে উঠছে। এই নেশাজাত দ্রব্যটি গ্রহণের কারণে জঙ্গিদের উন্মত্ততা আরও বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর পরোয়া না করেই তারা যে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে…।
নিব্রশ, মুবাশ্বের ইত্যাদি জিহাদীরা ঠান্ডা মাথায় বিশজন নিরহ মানুষকে খুন করার পর থেকেই তাদেরকে “আমাদের সন্তান” “কেন তারা বিপথে গেলো” “ওদের ভালবাসা দিতে হবে” ইত্যাদি বলে বলে ওদের নিষ্ঠুরতার প্রতি সবাইকে অবচেতন করে দেয়ার চেষ্টা হলো। দেশে যে এত সমাজ বিজ্ঞানী পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় সেটাও জানা হলো। টকশোতে তাদের একজন না একজন হাজির হচ্ছে এবং তাদের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে জঙ্গিদের কাজকে ঐশির বাবা-মাকে খুন করার মত সামাজিক অবক্ষয়ে গড়ে উঠা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জুড়ে দেয়া।
সর্বশেষ দেশের মুসলিম সংবাদ মাধ্যম ক্যাপ্টাগন পিলকে দায়ী করে ‘প্রকৃত জিহাদীদের’ থেকে নিব্রাশদের আলাদা করার ব্যাপক প্রচারে নেমে পড়েছে। সংবাদ মাধ্যম বলছে, ইসলাম রক্ষা, শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তোলার নীতিবাক্য নিজেরাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে না পথভ্রষ্টরা কারণ তারা “ক্যাপ্টাগন” পিল খায়, আর ইসলামে নেশা হারাম। অতএব যারা জিহাদী হবে, ইসলাম কায়েম করবে সেই প্রকৃত মুজাহিদরা নেশা করবে না! এরকম সচেতনভাবে জিহাদী ইমেজ উদ্ধারের চেষ্টা যে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমরা করতে পারে সে দেশের জঙ্গিদের ভবিষ্যত অবশ্যই আশা জাগানিয়া…।
ওয়াশিকুর বাবুর বয়স এইসব নিব্রাশ-মুবাশ্বেরদের মতই হবে। তাকে নির্মমভাবে কুপানো হয়েছিল। যারা মনে করেন ওয়াশিকুর বিপথে (নাস্তিকতা) গিয়েছিল কই তারা তো কোনদিন বলেননি, “ওয়াশিকুর আমাদের সন্তান”! কেউ তো খুঁজতে যান নাই সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট! বরং তার রক্তে সবাই হাত রাঙিয়েছিলো। নিব্রাশরা নাকি এদেশের ভবিষ্যত ছিল, দেশ নাকি এভাবে মেধাবীদের নষ্ট করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে…।
অভিজিৎ, অনন্ত, নীলদের মত লেখকদের হারিয়ে এদেশ কিছু হারায়নি। তারা পাকা পায়খানার জন্য লেখালেখি করে। তারা অনুভূতিতে আঘাত করে। তাদের খুনের দায় কেউ নিবে না। তাদের যে খুশি খুন করে যেতে পারবে…। না, পৃথিবীর আদর্শিকগত খুনিদের কখনও কোন নেশা জাতীয় পিল খেয়ে খুন করতে হয়নি। ন্যাৎসি মতবাদীদের কোন চেতনানাশক খেয়ে ইহুদী হত্যা করতে হয়নি। যে বিদ্বেষ ও ঘৃণা অন্তরে থাকলে ঠান্ডা মাথায় খুন করা যায় সেটা তাদের মধ্যে দেয়া হয়েছিল। ধনী ঘরের ব্রিলিয়ান্ট সব ছেলেরা নকশালে যোগ দিয়ে ঠান্ডা মাথায় মানুষের গলা কেটেছে কোন ট্যাবলেট না গিলেই। …ট্যাবলেট গিলেছেন আপনারা! “ক্যাপ্টাগন” জাতীয় কিছু থাকলে সেটা আপনারা গিলে এখন পারভার্টের মত কথা বলছেন! জঙ্গি-জিহাদীদের পক্ষ নিচ্ছেন বিবেককে বন্ধক দিয়ে।

No comments:
Post a Comment