Thursday, 3 November 2016

ওয়ান ওয়ে রাস্তা

হিজাব নেকাব এই বাংলায় প্রতিষ্ঠিত পরায় শেষ।
গুম্ফবিহীন দাঁড়ি বাহার সেইটা কিন্তু আছেই বেশ।
সাপ চামড়ার চাবুক না’কি গরুর ছালে রইবে রেশ,
শাস্তি তাদের কোনটা হবে, না ঢাকলে সেক্সী কেশ?
মোল্লা চিন্তা সেরেই রাখো, এলো তোমার স্বাধীন দেশ,
পাক কোরানের লাইন হবে’ই জীবন চলার অধ্যাদেশ।
এখন না’বালিকা ইয়ে করো, গোল বাধলে বিয়ে করো,
সুখে থাকো, চাইলে আবার ইয়ে করো, জোরসে চালাও।
পুরুষ হলে তুমিই প্রভু, দুটোই পেলে এই জীবনে। ধরো।
রাষ্ট্র আছে, কিতাব আছে, ভয়টা কিসের; জ্যান্ত জ্বালাও।
একটা ধরো চারটা করো, ফেঁসে গেলে বিয়ে করো, আ’হা।
বাপ্ অথবা মা যদি না থাকে, এতিম তো সে, চিন্তা’ই নাই,
এরাম করে চারটা রাখো, হাহা, পাঁচটা হলে একটা ছাড়ো,
দেনমোহরের মুর্গি দিয়ে বিদায় করো, এ’টাই আইন ছাই।
তাইরে নাইরে নাই, ওহ মদিনা সনদ, ওক্কে ওক্কে তাই,
রাষ্ট্র কিতাব সঙ্গে আছে, ওরে মুমিন, ভয়ের কিছুই নাই।
মেয়েগুলোও ভয় খেয়েছে, কত্ত রং-এর হি-জাব ধরেছে,
বললে বলে, ফ্যশান ওটা, লিপিষ্টিকে ঠোঁট করেছে লাল,
সেজে কেমন নেকি কামায়? মোল্লাসবে ওতেই তা-কায়,
বলবে রাষ্ট্র, কিতাব বলে, ঘরেতে থাক, বুঝলো নারে হায়।
মা বোনেরা সব মেয়েরা শোনো, বাঙালি হও। ঐযে কিতাব,
ঘরেই রাখো। ফ্যাশনবহুল ধার্মিকতায় ছাড় নেইকো কোন।
শাসক দেছে রাস্তা, ওখানেতে শোষকদের খাতির কিন্তু খাস্তা,
কিতাব পড়ে ঘরেই রাখো, দেখবে, সেটা ওয়ান ওয়ে রাস্তা।

Monday, 17 October 2016

নাজিমুদ্দিন সামাদ এর হত্যাকারীদের একজন গ্রেফতার

ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদের একজন হত্যাকারী আনসার আল ইসলামের  সক্রিয় সদস্য রশিদুন নবী ভূইয়া ওরফে টিপু ওরফে রাসেল ওরফে রফিক ওরফে রায়হানকে গতকাল কাউন্টার টেরোরিজম এবং মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেছে। একদিকে এটি অত্যন্ত স্বস্তির একটি সংবাদ এবং অন্যদিকে আশাবাদী হবার মতও বটে। যদিও গণজাগরন মঞ্চের সক্রিয় সদস্য নাজিমকে হত্যার প্রায় ৬ মাস পর এই সন্দেহভাজন খুনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তথাপিও এটি একটি সাফল্য আমাদের আইন শৃংখলাবাহিনীর, এতে সন্দেহ নেই।

রবিবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মো. রশিদুন নবী ভূইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ত্রফ থেকে জানা যায় যে, রশিদুন নবী ভূইয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার বেতারগাঁও গ্রামে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী ছিল। তবে লেখাপড়া শেষ না করেই ২০১৫ সালের প্রথম দিকে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেয়। এরপর সে ঢাকায় চলে আসে। সংগঠনের নির্দেশে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হত্যার টার্গেট করে। এদের মধ্যে গত বছরের ৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ায় সি-ব্লকের ৮১৩ নম্বর বাসায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সে অংশ নেয়। হামলায় শুদ্ধস্বরের স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু ও তারেক রহিম গুরুতর আহত হন। আহমেদুর রশিদ টুটুল মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, এটাই ছিল তার প্রথম হামলা।

Tuesday, 13 September 2016

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও সন্ত্রাসী হামলার ভয়

বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে ইংল্যান্ড দলের অক্টোবর সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন শংকা। বাংলাদেশে অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা ও গুপ্ত হত্যার নানাবিধ ঘটনায় শ্নগকিত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। এখন তাঁদের বাংলাদেশ সফর হবে কি হবেনা এটি ঝুলে রয়েছে অনেকটা ভাগ্যের মতনই।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা প্রধান সহ ই সি বির অনেক কর্তা ব্যাক্তিরা ঘুরে গেছেন বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বুঝে নেবার জন্য। এসময় তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ সহ সরকারের অনেক উচ্চ পর্যায়েও বৈঠকের পর বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের মত এমন একটি দেশে জঙ্গীদের উৎপাত হবে এমনটা কোনোদিন ভাবিও নি। ব্লগারদের হত্যা করবার পর সরকারের গা ছাড়া ভাব আর উদাসীনতা এখন গুলশান হামলার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর জঙ্গীদের আক্রমনের পরেও সরকার কখনোই এইসব হামলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি যার ফলাফল হিসেবে ডক্টর অভিজিৎ রায়, রাজীব হায়দার, জুলহাজ মান্নান, মাহবুব তনয়, রাকিব মামুন, ফয়সাল আরেফীন দীপন, অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর বাবুদের মত তরুন লেখকেরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন জোঙ্গী খুনীদের হাতে।

Wednesday, 10 August 2016

ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?

ছেলেটার প্রোফাইলে গিয়ে দেখা গেলো সে গিটার বাজিয়ে গান গায়। কিংবা সে সানি লিয়নের পেইজে লাইক দিয়েছে। কিংবা কারিনা কাপুড়ের সঙ্গে নেচেছিল। তাহলে সে কি করে জঙ্গি হয়? এই ‘কি করে জঙ্গি হয়’ এই প্রশ্ন কিন্তু সন্দেহ ও বিস্ময়ের। যাদের প্রশ্নে সন্দেহ প্রকাশ পায় তারা জঙ্গিদের ধার্মীক মুসলমান হিসেবেই মানেন। আর যাদের প্রশ্নে বিস্ময় তারা বলতে চান- এরকম আধুনিক ছেলে কি করে জঙ্গি হয়? অথচ এরা কেউ কি বলতে পারবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ইসলাম বলতে কিছু আছে? 

আপনি কোন ইসলামের সমর্থক? কন্ঠ শিল্পী হায়দার আলী কুরআন-হাদিস খুঁজে ইসলামে গান হারাম খুঁজে পাননি। আবার লালন সংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীনের স্বামী এই পদ্মা এই মেঘনা, যমুনা সুরমা নদী তটে অথবা তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির মত জনপ্রিয় গানের সৃষ্টা গীতিকার সুরকার আবু জফর গানবাজনাই ছেড়ে দিলেন কারণ ইসলামে এসব ঘোরতর নিষিদ্ধ। স্ত্রী ফরিদা পারভীনকে গান ছাড়াতে চেষ্টা করেছিল। তাতেই দুজন পৃথক হয়ে যান। একদা লালন ভক্ত আবু জাফর তাহলে কোন ইসলামের অনুসারী? হায়দার আলীও নামাজি - তিনি কোন ইসলামের অনুসারী? ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?


জিন্স টি-শার্ট পরে স্মার্ট ইসলামিস্ট ছেলে যেমন আছে, আবার ইসলামিস্ট হবার পর শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পুরোদস্তুর হুজুর পোশাক পরিধান করার ট্রেডিশান তো আছেই। আমার দাড়ি রাখা নামাজী কলিগের মোবাইলে ৫ জিবির পুরোটাই পর্ণ মুভিতে ভরা। একদিন তাকে বলেছিলাম, তার মত ইসলামিস্ট হয়েও পর্ণ দেখাটা তো ঠিক যায় না…। সে একটুও অপ্রতিভ না হয়ে বলেছিল, ঠিক আছে, পর্ণ দেখা ঠিক না, তবে আমাদের দেশ তো ইসলামী শাসনে কোনদিন চলেনি। তাই এখানে নানা রকম অনুসঙ্গ আছে যা ইসলামী সমাজে থাকবে না। অনৈসলামীক সমাজ ব্যবস্থায় মুসলমানরাও এসবের জড়াবে- তার জন্য তো পাপ হবে- তার ক্ষমাও আছে। যখন ইসলামী সমাজ কায়েম হবে তখন এইসব পর্ণ কেউ দেখার সাহসও করবে না…।

Tuesday, 9 August 2016

জঙ্গী তাহমিদ

এবার হাসনাত করিম ইহুদী ছিল কিনা কিংবা তার সঙ্গে তেল আবিবের কোন সংযোগ ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে কি? টকশোর বুইড়া দামড়ারা এতকাল কিভাবে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আইএসের ওয়েব সাইট ও সাইট ইন্টিলিজেন্সের কাছে পৌঁছে যায় সেটা ভেবে জ্বর এনে ফেলেছিলেন। তারা এসব থেকেই বুঝে ফেলেছিল জঙ্গি হামলার সঙ্গে কোন মুসলমান ও ইসলামের সম্পর্ক নেই। যাই হোক, অনেক নতুন কিছু জানার সঙ্গে সঙ্গে এটাও জানা গেলে ইহুদীরা সেহরি খায় চিড়িং মাছ দিয়ে। 

হাসনাত করিমের ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায় তার মোবাইল ফোন থেকেইহত্যার রক্তাক্ত ছবিগুলো তৎক্ষণাত পৌঁছে দেয়া হয় বিভিন্ন সাইটে। পাশ্ববর্তি একটা ক্লিনিক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের আজীবনের শত্রু কাফের কোরিয়ান নাগরিক কিছু ভিডিও ও স্টিল ফটো তুলে যাতে হাসনাত করিমকে জঙ্গিদের সঙ্গে মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। তার মানে সে সহি মুসলমান না। সেও জঙ্গিদের মত ইহুদী ছিল! ছবিতে আরো দেখা যায় তাহমিদকে অস্ত্র হাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে। এই তাহমিদও ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল কিনা, তেল আবিব ভ্রমণ করেছিল কিনা সেটা কি পরীক্ষা করা হবে?

Saturday, 6 August 2016

মুসলমান্দের সিলেক্টিভ প্রতিবাদ

টেলিভিশন দেখে এখন ভারি মজা লাগে! মাইক্রোফোন ধরলেই দেখি জনতা বলছে, এভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কোন নিয়ম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হিজাবীনি শিক্ষিকা বললেন, মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েমের কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। আরেকজন প্রশ্ন করলেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমনাকে হত্যা করে কিভাবে এরা ইসলাম কায়েমের দাবী করে? অর্থ্যাৎ, ইসলাম কায়েম বিষয়ে এদের কোন দ্বিমত নেই, পন্থা নিয়ে দ্বিমত আছে! এদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- ইসলাম যদি বলত মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েম করতে হবে- তাহলে তারা ইসলামের সঙ্গে দ্বিমত হতেন কিনা?

জঙ্গি দুই প্রকার, মানসিকভাবে জঙ্গি, সশস্ত্র জঙ্গি। লড়াইটা এখন এই দুই জঙ্গির মধ্যে চলছে। আগে এক জঙ্গি মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গলে অন্য জঙ্গি গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলত। এক জঙ্গি সংখ্যালঘুদের দেশান্তরিন করলে অন্য জঙ্গি- হিন্দুরা ভাল চাকরি-বাকরি পাবার জন্য ইন্ডিয়া চলে যায়। শিয়া-আহমদিয়াদের একদল বোমা মেরে, মসজিদে হামলা করলে অন্যদল- শিয়া-আহমদিয়ারা ‘ইসলামকে বিকৃতি’ করছে।

Monday, 1 August 2016

মুসলমানের দেশপ্রেম আসলে বিদ্বেষ

এটা একটা বিরাট স্বস্তির বিষয় যে বাংলাদেশী ব্যান্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় যে শিল্পী ভারত বিদ্বেষীর অভিযোগ উঠিয়েছেন তার নাম ‘রূপম ইসলাম’, ‘রূপম গাঙ্গুলী’ হলেই মাইলস ও তার ভক্তরা এক সুরে গাইতে পারত, ‘হিন্দুরা আসলে মুসলমানদের ভাল দেখতে পারে না’! আফসোস তাদের জন্য, এক্ষেত্রে রূপম ইসলাম তার দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশী ব্যান্ড মাইলসকে। মাইলস সেই ঘৃণা প্রকাশকে তাদের ‘দেশপ্রেম’ হিসেবে দাবী করেছেন। বলেছেন, ‘আমার দেশের ক্ষতি হয় এমন বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাইতেই পারি, সে অধিকারও আমার আছে’।…

ক্রিকেট খেলায় হারলে কি করে দেশের ‘ক্ষতি’ হয় এবং সেটা কি করে দেশপ্রেম গোছের কিছু দাঁড়ায় সেটা মাইলস কেন কোন বাংলাদেশীকেই বুঝানো যাবে না। বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালে গোটা দেশের মানুষ যেভাবে প্রচন্ড ঘৃণা ছড়িয়েছিল সেকথা তো এখনো ভোলার নয়। আমরা গুটি কয়েক মানুষ তখন এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিস্তর গালাগালি খেয়েছি, এখনো খাই, আজকেও খাবো…। 

বাংলাদেশের সব স্তরের সেলেব্রেটিদের চেহারা তখন ফুটে বেরিয়েছিল। তাদের ‘হিন্দু বিদ্বেষের’ নমুনা ফুটে বেরিযেছিল ‘দাদাবাবু-ধুতি’ ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহার করে। রেডিওতে সুবর্ণা মুস্তফা থেকে শুরু করে টেলিভিশনে মুস্তফা ফারুকী, ইরেশ জাকের থেকে ছোট-বড় সেলেব্রেটিরা তাদের উপস্থিতি দিয়ে এমন একটা পরিবেশ, তাদের মন্তব্য দিয়ে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন মনে হয়েছিল, এই খেলা নিয়ে না দুই দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। কতখানি ঘৃণা আর বিদ্বেষ মনে লুকিয়ে রাখলে দেশপ্রেমের আড়ালে এই বিদ্বেষ প্রকাশ পায় সহজে অনুমেয়। 

Sunday, 17 July 2016

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ছে! গ্রাম-গঞ্জে যুবকদের ‘নিখোঁজ’ হবার একের পর এক খবর বের হচ্ছে। একেক গ্রামে দশ জন, বিশ জন করে যুবক উধাও। 

পরিবার বলছে তাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। ছেলে নিখোঁজ এক বছর ধরে অথচ বাবা-মা, ভাই-বোন ভাবলেশহীন! বলছে, ম্যালা দিন হয় তার সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে জানি না।

এর মানে হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে নিখোঁজদের যোগাযোগ আছে। কোন মুসলিম বাবা-মাই আল্লাহ’র দ্বিন কায়েমে তার সন্তান নিয়োজিত আছে জেনে দ্বিমত করবে না। সন্তানদের অন্তত একজনকে কেন বাবা-মারা মাদ্রাসায় পড়তে পাঠায়? একারণে যে, কেয়ামতের ময়দানে এই মাদ্রাসা পড়ুয়া আলেম ছেলে তার পাপী বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে। একজন সন্তান যদি সিরিয়া গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেই সন্তান তো পরকালে বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে আল্লাহ’র কাছে। এইরকমই সরল বিশ্বাস মুসলমান বাবা-মার।

এ তো গেলো গ্রামের কথা। খোদ ঢাকার উচ্চশিক্ষিত এক পরিবারের খবর সম্প্রতি বেরিয়েছে। শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক রোকনউদ্দিন তার পরিবার নিয়ে সিরিয়া চলে গেছেন। পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি সেই চিকিৎসকের যা একাত্তর টিভি থেকে নেওয়া হয়েছে। টিভি সূত্রে জানা গেছে এই চিকিৎসক আইএসের হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী ছিলেন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষিকা, বড় মেয়ে নর্থসাউথ ভার্সিটির ছাত্রী।

মেয়ে জামাই শিশিরও এই ভার্সিটির ছাত্র ছিল। তারা সবাই একসঙ্গে সিরিয়া চলে গেছে আইএসের হয়ে ইসলামী খেলাফত কায়েম করতে। ঠিক কি পরিমাণ বাংলাদেশী আইএসে যোগ দিয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসা যেন এক একটি দূর্গ। এসব মাদ্রাসা বাংলাদেশ সরকারের কোন ধার ধারে না। খোদ বাংলাদেশকেই তারা ধাতব্যের মধ্যে নেয় না। হাজার হাজার মাদ্রাসাগুলো যেন বাংলাদেশের মধ্যে আরব ব-দ্বীপের ‘ছিটমহল’! এসব মাদ্রাসাগুলো থেকে কি পরিমাণ জনবল আইএসে যোগ দিয়েছে সেটা জানাও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

Wednesday, 13 July 2016

কমরেড খালেকুজ্জামানের কথা প্রসঙ্গে

কমরেড খালেকুজ্জামান বললেন, নবীজি জ্ঞান অর্জন করার জন্য সুদূর চীন দেশে যাবার কথা বলেছেন। (সূত্র: নিউজ২৪ টিভি চ্যানেল) নবীজি কতখানি ‘অসাম্প্রদায়িক ও শিক্ষাদীক্ষার অনুরাগী ছিলেন এটা নাকি তার প্রমাণ।… কমরেডদের ইসলামী পড়াশোনা কোন লেভেলের এটা তার একটা প্রমাণ। এরকম কোন হাদিসের অস্তিত্ব যে নেই সেটা কমরেড খালেকুজ্জামান জানেন না। 

কেন যে তারা ইসলামী জঙ্গিবাদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার উপর শতভাগ দোষ চাপান এটা তার অন্যতম একটি কারণ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. সাখওয়াত হোসেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. আবদুর রশিদ, মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ রোজ উনাদের মত স্ব স্ব ক্ষেত্রে সর্বচ্চ জ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের ইসলাম বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা নেই। 

অথচ জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা বলতে হলে, এর বিশ্লেষণ, উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে হলে আপনাকে ইসলাম ধর্মের শুরু থেকে আজতক পর্যন্ত জানা থাকতে হবে। কুরআনের সমস্ত সুরা ও তার তাফসির, অগণিত হাদিস ও সীরাত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে পড়াশোনা না থাকলে অন্ধের হাতি দর্শনের মত জঙ্গি বা জিহাদীদের সঙ্গে সাধারণ অপরাধকে গুলিয়ে ফেলতে হবে এবং বাংলাদেশে রোজ টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে সেটাই হচ্ছে।

Tuesday, 12 July 2016

ক্যাপ্টাগন ঔষধে শুধু মুসলিমরা কেন পতিত হয়?

অতিব দুঃখজনক ও হতাশার কথা হচ্ছে এখন পর্যন্ত একজন ইহুদীকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে সন্ত্রাসী কাজে নামানো গেলো না। ক্যাপ্টাগনের ফর্মুলা ইসলামী দেশগুলোর ফার্মাসিস্টদের কাছেও আছে। 

তারাও ইহুদী তরুণদের ধরে একটা করে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে মুসলিমদের উপর ‘জিহোবা আকবর’ বলে ঝাপিয়ে পড়াতে পারল না। কিংবা শিবসেনা দলের কোন সদস্যকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে ‘হর হর মহাদেব’ বলে কাউকে আত্মঘাতি করা গেলো না। 

ক্যাপ্টাগন খালি মুসলমান ঘরের ছেলেমেয়েগুলো খেয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রস্টিজ পাংচার করে দিচ্ছে। ফ্রান্সের হামলাকারী যে একজন মুসলিম হবে এটা খোদ ফরিদউদ্দিন মাসউদও মনে মনে ঠিকই অনুমান করতে পেরেছিলেন। যারা হররোজ এইসব জিহাদী কাজের পিছনে ইহুদীদের হাত খুঁজেন তারাও এরকম ঘটনা ঘটার পর মনে মনে একজন সম্ভাব্য মুসলিম হামলাকারীর কথাই ভাবেন। কোন বারই তার পরিচয় ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান… হয় না।

Monday, 11 July 2016

ঈদের নামাজে মুসলিমদের হামলা মুসলিমদের উপরেই

আজ একজন বললেন, আইচ্ছা, ঈদের নামাজ যদি কেউ মনে করে ইসলামে নাই তো সে পড়ব না। তারে তো কেউ জোর করতাছে না ঈদের নামাজ পড়তে। যারা পড়তাছে তাদের কেন মারতে যায়? যার যার যেটা বিশ্বাস সেটা নিয়া থাকতে দিলে সমস্যাটা কি?... ভদ্রলোক পরিচিত বলে জানি আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের মসজিদে হামলা ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার সময় তিনি ছিলেন এর স্বপক্ষে উচ্চকন্ঠিত। মাজারে বোমা হামলার সময় তাকে বলতে শুনেছি ইসলামের মধ্যে থেকে বিদাত চালিয়ে যাওয়া তো গুরুতর অপরাধ…। 

ভদ্রলোক মুটামুটি পরিচিত ও নিরহ বলে মুখের উপর বলে ফেললাম, সেদিন কাদিয়ানীদের (আহমদিয়া) উপর হামলার সময় যদি এই যুক্তি দিয়ে আমরা সোচ্চার হতাম তাহলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। হিন্দুদের মন্দিরে হামলার সময় যদি এইরকম যুক্তি দিয়ে তাদের পাশে থাকতাম তাহলে আজকে ঈদের নামাজকে পাহারা দিতে হতো না। নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর এসে না পড়লে আমরা কেউ ‘সেক্যুলারিজমে’ বিশ্বাস করব না। মন্দের ভাল হয়ত এর মধ্যে দিয়েই বাঙালী ফের সেক্যুলারিজমে ফিরতে বাধ্য হবে!

ভাবতে অবাক লাগে, আঘাতগুলো যদি এখনো নাস্তিক ব্লগার, হিন্দু পুরোহিত, সাধারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামিদের উপর সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে আমরা দেশ জুড়ে এক চাপা পৈশাচিক উল্লাস অনুভব করতাম। এই তো সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ফিস ফিস করে দেশত্যাগের কথা বলা শুরু করেছিলেন। অথচ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক মুসলমান আমার কাছে চিন্তিতভাবে বললেন, ভাই, এইদেশে কি শেষতক থাকা যাবে? ছেলেমেয়ে দুটোকে বলেছি বিদেশে কোন ইউনিভার্সিটিতে ট্রাই করতে, বলেছি যেভাবে পারিস চলে যা…। 

Saturday, 9 July 2016

সব জঙ্গিই মুসলমান

উগ্র ইসলাম’ ক্রুর হেসে ‘ভদ্র ইসলামকে’ বলে- তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে…

ননসালাফি ইমাম, আলেম-ওলামা যারা উদার আর শান্তিময় ইসলামের অনুসারী তারা বলছেন, মওদুদিবাদী ও জাকির নায়েক গংরা ইসলামের সুমহান ভ্রাতিত্ব ও সহনশীলতার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে যাতে পরিস্কারভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এরা ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ইহুদীদের দেয়া অর্থতেই আহলে হাদিসধারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরাই আইএস, এরাই আনসারুল্লাহ

মনের মধ্যে এতখানি ঘৃণা রেখে, একটা পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ইসলামের শত্রু বলে তাদের প্রতি মুসলিমদের মনে ঘৃণা তৈরি করে কেমন করে তারা ইসলামের উদার ও শান্তিবাদী হলেন? আসলে ইসলামের উদার ও শান্তি হচ্ছে সোনার পাথরবাটি!

ইহুদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এরকম কথা একটা দেশের গণমাধ্যমে অবাধে এইসব উদারবাদীরা বলতে পারেন, কোথাও ‘রেসিজমের’ অভিযোগ উঠে না। কোথাও ‘ইহুদী বিদ্বেষ’ বলে সমালোচনা হয় না। যারা একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের উপর এতখানি বিদ্বেষ প্রসন করতে পারে তারা অন্যসব ধর্মের প্রতি একই মনোভাব প্রসন করতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এদেশে বহিরাগত মুসলিম শাসকরা স্থানীয় হিন্দু রাজাদের হাত থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন। ভারতবর্ষে তাই এই হিন্দুরা অঘোষিত ‘ইহুদী’ মুসলিমদের চোখে। লাহোর প্রস্তাব কিংবা দ্বি-জাতি তত্ত্ব যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হতো তাহলে বাঙালী হিন্দুর কপালে ছিল ইহুদীদের মতই ভাগ্যবরণ। 

মুসলিমদের জন্য বাংলা আসামসহ পূর্বাঞ্চলে যে আলাদা রাষ্ট্রের কথা লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সেটি শতভাগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবাংলার বাঙালীদের কোলকাতাসহ আশপাশ ছেড়ে অর্থ্যাৎ বাংলা ছেড়ে অন্য কোন রাজ্যে আশ্রয় নিতে হতো। মাওলানা ভাসানী যে বলতেন, বাংলা আমার, আসাম আমার… এই ‘আমার’ মানে মাটির কথা, মানুষের না। লাহোর প্রস্তাব মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল যেখানে শুধু মুসলমানরাই বসবাস করবে। দেশভাগকালে লাহোর প্রস্তাব ও দ্বি-জাতি তত্ত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। হয়নি বলেই পূর্ব পাকিস্তানে কিছু হিন্দু থেকে গিয়েছিল, ভারতেও চার কোটি মুসলমান থেকে গিয়েছিল।

Friday, 8 July 2016

মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে কি করবে?

একজন সাধারণ ধার্মীক বৃদ্ধ, মাথায় টুপি, মুখে সফেদ দাড়ি। অপরজন যুবক, সাধারণ দেখতে, প্যান্ট-শার্ট পরনে। দুজন কথা বলছিল, আমি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম।

বৃদ্ধ: পিস টিভি দেখে ভারতের হিন্দুরা সব মুসলমান হয়ে যাইতাছিল তাই ভারত সরকার এটাকে বন্ধ করে দিছে।

যুবক: ইউরোপে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এই ভয়ে ইহুদীরা জঙ্গি সাইজা এইসব হামলাটামলা করে মুসলমানদের নাম দিতাছে।


বৃদ্ধ: মুসলমানের সংখ্যা বাড়াতে ইহুদী-নাসারাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে!...

এই বৃদ্ধ বা ঐ যুবককে আমাদের দেশে শান্তিপ্রিয় ধর্মভীরু হিসেবে দাবী করা হয়। তারা মন্দির ভাঙ্গতে যায় না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করতে যায় না। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে ইত্যাদি ইত্যাদি…।

একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে গেলে পশ্চিমাদের মাথা খারাপ কেন হবে?

-হবে না! মুসলমানদের হাতে তখন ক্ষমতা চলে যাবে!

-গেলে কি সমস্যা?

Thursday, 7 July 2016

কাশ্মীর সমস্যা

কাশ্মীর....নিরস্ত্র কিশোর-তরুণদের উপর Pellet বুলেটের ব্যবহার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণের আজাদীর সংগ্রামের কথা সবারই জানা--যদিও চারিদিকে নীরবতার দেয়ালও প্রবল। সম্প্রতি সেখানে নতুন করে দমন পীড়ন চলছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের যুদ্ধাপরাধও ঘটছে। গত ১০ দিনে সেখানে ৪০ জনকে গুলি করে মারা হয়েছে। আহত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। এই আহতদের অনেকেই মূলত Pellet বুলেটে আঘাতপ্রাপ্ত। আগের চেয়ে এর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। ভারতের সেনাবাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষের উপর, বিশেষত শিশু-কিশোর- তরুণদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থার মতো Pellet বুলেট ব্যবহার করছে।

Pellet বুলেটগান হলো, নতুন ধারার এক শর্টগান। যার ব্যবহারে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হবে না, কিন্তু শারীরিক ক্ষতি হবে। শরীরের উপরের অংশে, বিশেষত চোখে আক্রান্ত হলে তাতে ব্যপক ক্ষতি হয়। SOP বা Standard Operating Procedure অনুযায়ী...লাঠি-টিয়ার গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহার করেও বেসামরিক জনতাকে শান্ত করা না গেলেই কেবল কোমরের নিচে লক্ষ্য করে Pellet বুলেট ব্যবহার করা যায়।

Wednesday, 6 July 2016

ফ্রান্স আক্রমণ নি দু'কথা

ফ্রান্সের নিসে শহরে নিহিত ৮৪ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু! ট্রাকের চাকার নিচে তাদের নরম শরীর পিষে গেছে আল্লাহো আকবর ধ্বনিতে। নিহিত কাফের নারী ও শিশুরা টার্গেট নন সরাসরি ইসলামী নিয়ম অনুসারে। মূল টার্গেট সক্ষম কাফের পুরুষ। তবে তারা স্ত্রী-সন্তান দ্বারা ঢাল হিসেবে থাকলে কাফের নারী ও শিশুরাও আক্রমনের লক্ষ্য হবে আর এতে কোন দোষ নাই। 

সহি হাদিস হচ্ছে- সা’ব ইবনু জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলমানদের রাত্রিকালের অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের মুশরিকদের কিছু মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তাহলে কি হবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেছিলেন, “তারা মুশরিকদের সাথে বলেই গণ্য হবে।” (সহীহ বুখারীঃ ৩০১২, ২৩৭০, সহীহ মুসলিমঃ ৭৫৪৫, আবু দাউদঃ ২৬৭২, তিরমিযীঃ ১৫১৭, ইবনু মাজাহঃ ২৮৩৯, আহমাদঃ ২৭৯০২, মালেকঃ ৯৮১, দারেমীঃ ২৬৪২)

ফ্রান্স হামলাকারীরা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নন কিনা সে সম্পর্কে দুদিন পরেই সন্দেহ পোষন শুরু হয়ে যাবে কারণ হামলাকারীরা নির্বিচারে শিশু, নারীদেরকেও পিষে মেরে ফেলতে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল তাদের উপর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আতংকিত বাবা-মার কোলে অবোধ শিশু, প্রাণ ভয়ে দৌড়াচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। তো, হামলাকারীরা মুসলমান নাকি পায়জামা সেটা নির্ধারন কারার কোন গরজ আমার নেই, আমি শুধু ম্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই নির্বিচারে হামলার নজির বা দলিল আছে।