Monday, 11 July 2016

ঈদের নামাজে মুসলিমদের হামলা মুসলিমদের উপরেই

আজ একজন বললেন, আইচ্ছা, ঈদের নামাজ যদি কেউ মনে করে ইসলামে নাই তো সে পড়ব না। তারে তো কেউ জোর করতাছে না ঈদের নামাজ পড়তে। যারা পড়তাছে তাদের কেন মারতে যায়? যার যার যেটা বিশ্বাস সেটা নিয়া থাকতে দিলে সমস্যাটা কি?... ভদ্রলোক পরিচিত বলে জানি আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের মসজিদে হামলা ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার সময় তিনি ছিলেন এর স্বপক্ষে উচ্চকন্ঠিত। মাজারে বোমা হামলার সময় তাকে বলতে শুনেছি ইসলামের মধ্যে থেকে বিদাত চালিয়ে যাওয়া তো গুরুতর অপরাধ…। 

ভদ্রলোক মুটামুটি পরিচিত ও নিরহ বলে মুখের উপর বলে ফেললাম, সেদিন কাদিয়ানীদের (আহমদিয়া) উপর হামলার সময় যদি এই যুক্তি দিয়ে আমরা সোচ্চার হতাম তাহলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। হিন্দুদের মন্দিরে হামলার সময় যদি এইরকম যুক্তি দিয়ে তাদের পাশে থাকতাম তাহলে আজকে ঈদের নামাজকে পাহারা দিতে হতো না। নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর এসে না পড়লে আমরা কেউ ‘সেক্যুলারিজমে’ বিশ্বাস করব না। মন্দের ভাল হয়ত এর মধ্যে দিয়েই বাঙালী ফের সেক্যুলারিজমে ফিরতে বাধ্য হবে!

ভাবতে অবাক লাগে, আঘাতগুলো যদি এখনো নাস্তিক ব্লগার, হিন্দু পুরোহিত, সাধারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামিদের উপর সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে আমরা দেশ জুড়ে এক চাপা পৈশাচিক উল্লাস অনুভব করতাম। এই তো সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ফিস ফিস করে দেশত্যাগের কথা বলা শুরু করেছিলেন। অথচ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক মুসলমান আমার কাছে চিন্তিতভাবে বললেন, ভাই, এইদেশে কি শেষতক থাকা যাবে? ছেলেমেয়ে দুটোকে বলেছি বিদেশে কোন ইউনিভার্সিটিতে ট্রাই করতে, বলেছি যেভাবে পারিস চলে যা…। 

শুনে আমি হাসি। মুনতাসির মামুন স্যারে কথা মনে পড়েছে। বেচারা, কলাম লিখে হজমও করতে পারলেন না! কত বাম-ছাম, রাম-শাম নাস্তিকদের লেখালেখিকে দায়ী করেছিল তাদের আশির্বাদ পুষ্ট ইসলামী জঙ্গিদের উত্থানের জন্য। সেইসব কন্ঠগুলো এখন মিইয়ে গিয়ে খড়কুটার মত চিঁ চিঁ করে বলছে, মাদ্রাসায় জঙ্গি হয় না, নর্থ-সাউথে জঙ্গি জন্মায়…।

৩-৪ বছর আগে থেকে দেশের এই পরিস্থিতির জন্য আমরা ব্লগাররা আমাদের লেখায় বার বার সাবধান করে আসছিলাম। বলেছিলাম কিভাবে মৌলবাদ ছড়িয়ে পড়বে। এখন আবার একটা আশংকা ও সাবধান বাণী বলি শুনে রাখুন। আইএস যুদ্ধে হারুক কিংবা জিতুক সেটা বড় কথা না। সিরিয়া ফেরত মুজাহিদরা যখন দেশে আসবে তখন কি করবেন? আফগান ফেরত মুজাহিদদের হাতেই হরকাতুল জিহাদ গঠিত হয়েছিল। আফগান যুদ্ধে তালেবানে যোগ দিয়েছিল শুধু মাদ্রাসার ছাত্ররা। এই যোগ দেয়াটা ঘটেছিল নিরবে নিভৃতে। শুধু মাদ্রাসাগুলোই জানত। 

এবারও হাটহাজারী থেকে কত হাজার সিরিয়া গেছে সেটা বাবুনাগরিই বলতে পারবে। তো, যুদ্ধ শেষে (ধরে নেন হেরে) এরা যখন দেশে ফিরবে তখন আমাদের সমানে কি অপেক্ষা করে আছে কল্পনা করতে পারেন? তালেবান ফেরত মুজাহিদদের থেকে আইএস ফেরত মুজাহিদদের চরিত্র ও মাজহাব যে ভিন্ন হবে সেটা তো চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায়। আমাদের সরকার কি এই দিকটা ভেবে রেখেছেন? আইএস ফেরত মুজাহিদদের বিষয়ে কি কোন চিন্তাভাবনা আছে রাষ্ট্রের? যদি জিকা ভাইরাসের ভয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে মানুষ ঢুকতে ও বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় তো ধর্মীয় ভাইরাসে আক্রান্তদের বিষয়ে কেন উদারতা দেখানো হবে?

No comments:

Post a Comment