খ্রিস্টান আর ইহুদী ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করলে কি ইসলাম অবমাননা হবে? যারা বলেন শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়ে কেন সমালোচনা হয়, আর কোন ধর্ম নাই- তারা নিশ্চয় এবার খুশি হবেন অন্য ধর্মের পয়গম্বকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হলে!
কি মুশকিল, বলছি যীশু একটি কল্পিত চরিত্র, মুসার কোন ঐতিহাসিক অস্তিত্ব নেই- তাতে ইসলাম প্রেমিরা চটবেন কেন?
যীশুর জন্মের ৫৭০ বছর পর জন্ম নেয়া হযরত মুহাম্মদের জন্ম তারিখই যেখানে বিতর্কিত সেখানে যীশুর জন্ম তারিখ ২৫ ডিসেম্বর কেমন করে নিশ্চিত হওয়া গেলো? যীশুর বাথ সার্টিফিকেট কোন পৌরসভার নথিতে পাওয়া গেছে? দুনিয়াতে একটা ঐতিহাসিক প্রমাণ দেখানো যাবে যার দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যীশু বলতে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন? না, যায় না। বেথেলহাম বলতে দুনিয়াতে একটি জায়গার নাম থাকলেই সেটা প্রমাণ হয়ে যায় না। যীশু যে একটি কল্পিত চরিত্র সেটা তো চার্চের গোপন নথিতেই রয়ে গেছে। যীশুকে মানুষ রূপে দেখানোর আগে একটি ভেড়াকে ক্রুশে দেখানো হতো। প্রাচীনকালে সুপ্রসিদ্ধ আর্য জাতি যাযাবর বৃত্তিতে পৃথিবীর যে প্রান্তেই গিয়েছে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে নিজেদের সংস্কৃতি, লোকাচার আর ধর্মকে।
তারপর স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে আর্য ও অনার্য ভাষা, সংস্কৃতি আর ধর্ম বিশ্বাস। মুসা নবীর কাহিনী আর ভারতবর্ষের শ্রীকৃষ্ণের কাহিনী তাই একই রকম। আর্যদের ঈশ্বর গড়ে উঠেছে সূর্যকে কেন্দ্র করে। সূর্য হচ্ছে মহা শক্তিধর একটা উৎস। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে কোন কিছুই সম্ভব নয়। আবার সূর্যের অতি ক্ষমতা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলে। কাজেই আর্যদের কাছে সূর্য ঈশ্বর।
সূর্যের জন্ম ২৫ ডিসেম্বর বলে আর্যরা বিশ্বাস করত। বিষ্ণু পুরাণে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিও ২৫ ডিসেম্বর! যীশুর জন্ম তিথি ২৫ ডিসেম্বর! ফেরাউন আর রাজা কংস! নীল নদ আর যমুনা! জন্মের পরেই মুসাকে নীল নদে ভাসিয়ে দেয়া হয় ফেরাউনের ভয়ে। ঠিক কৃষ্ণকে একইভাবে রাজা কংসের ভয়ে ভাসিয়ে দেযা হয়…। পরবর্তী গল্প মুসা আর কৃষ্ণের একই রকম। এরকম বহু মিল রয়েছে ধর্মগুলোর প্রাচীন গল্পগাথার সঙ্গে। এর কারণ আর্যদের ধর্মীয় মূল থিম ঠিক রেখে স্থানীয় চরিত্র, পরিবেশ, বাস্তবতা, বিশ্বাস মিশে গেছে কাহিনীর সঙ্গে…।
মনে রাখবেন একবারও হযরত মুহাম্মদের নাম না নিয়েও এসব বলে প্রবল ইসলামুনূতিতে আঘাত হতে পারে! কারণ যীশু না থাকলে, মুসা না থাকলে নবী মুহাম্মদের নবীত্বও থাকে না! কাজেই সকল মুমিন ভাইগণ, আপনারও বলুন, মেরি ক্রিসমাস! যীশুকে বাঁচাতে হবে আপনাদেরকেই। খ্রিস্টানদের এখন আর যীশু নিয়ে বেশি মাথাব্যথা নেই। যীশুকে নিয়ে এই যে এতকিছু লিখলাম- তাতে কোন খ্রিস্টানের কোন অনুভূতিতেও ধোয়া উঠবে না। কিন্তু মুমিনের যীশু-মুসার অস্তিত্ব প্লাস দ্বিনের নবীর অনুভূতিকে সর্বদা পাহাড়া দিতে হবে! ট্র্যাজিডি! হ্যাপি খ্রিস্টমাস!
No comments:
Post a Comment