এদেশে বাস ভর্তি মানুষকে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়! যাদের পুড়িয়ে মারা হয় তাদের কোন অপরাধ নেই। কি আশ্চর্য একটা ব্যাপার! জাতিগত দাঙ্গা হয় দুনিয়া জুড়েই। সেই দাঙ্গায় যাদের হত্যা করা হয় তারাও নিরপরাধীই থাকে তবু একটা কারণ থাকে যে তারা অমুক জাতি- এটাই তাদের অপরাধ। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থেকেও প্রচুর খুনোখুনি হয়। যেমন- ওরা অমুক পার্টি করে, ওরা অমুক পার্টির কর্মী- এই পরিচয়টুকু ধরেও মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বাস, ট্যাক্সিতে, অটরিক্সায় যে মানুষগুলোকে পেট্রলবোমায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তাদের এরকম কোন যোগসূত্র পর্যন্ত নেই! তারা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, চিকিৎসার জন্য, স্কুল-কলেজে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়, তারা বড় জোর ভোটার, যে ভোটটা হয় সরকার দলীয় অথবা অপজিশন পার্টির, কিন্তু যারা আগুন দিয়েছে তাদের গায়ে তারা তো সেটাও জানে না।
ছিনতাইকারীর হাতেও মানুষ প্রাণ হারায়। সেখানেও একটা কারণ নিহিত থাকে। পকেটে টাকা-পয়সা, মোবাইল বহনই ভিটটিমের অপরাধ। কিন্তু পেট্রলবোমায় যাদের দেহ ঝলসে গেছে তাদের এই অপরাধটিও ছিল না। কেননা তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার জন্য কেউ পেট্রলবোমা মারেনি। এরকম নিরপরাধ, সংজ্ঞাহীন হত্যাকান্ড দুনিয়ার আর কোথাও ঘটে না। এই বাংলাদেশ কেমন করে দুনিয়ার কাছে মুখ দেখায়? কেমন করে আফ্রিকার গ্রহযুদ্ধ কবলিত দেশগুলোতে “শান্তি মিশনে” নাম লেখায়?