রাজনৈতিক কার্যক্রম বা প্রভাবের মধ্যে বাম দলগুলোর কোন প্রভাব বা জনগণের সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর এই ঘরোনার রাজনীতিও বিশ্বজুড়ে প্রচন্ড মার খেয়েছে। তবু বাংলাদেশের টকশোগুলোতে সক্রিয় বাম রাজনীতিবিদ ও তাত্বিক বুদ্ধিজীবীদের দরদাম বেশি হবার কারণ সম্ভবত তাদের পার্ভাট টাইপ কথাবর্তার জন্য। যখন ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে জনগণের জিরো টলারেন্স মনোভাব গড়ে উঠা জরুরী তখন জঙ্গিদের হয়ে কথা বলা এক ধরণের ভায়োলেন্স বিনোদন।
হলিউডে সিরিয়াল কিংলিয়ের উপর অনেক সিনেমা আছে যেখানে নৃশংস কায়দায় খুন দেখানোর উপর ভিত্তি করে নির্মান করা হয়। সিনেমা হলে একশ্রেণীর দর্শক এইসব বিভৎস খুনের দৃশ্য দেখে বমি পর্যন্ত করে ফেলে। আর এই বমি করাটেই এই বিনোদনের চরম মুহূর্ত। বাংলাদেশে টকশোগুলো ভায়োলেন্স বিনোদনের উদ্দেশ্যেই বামপন্থি আলোচকদের ডেকে আনা হয় যে কোন দেশি-বিদেশী জঙ্গি আক্রমনের পরে যেখানে কায়দা করে তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে জঙ্গিদের প্রতিবাদী একটা চরিত্র বানাতে ব্যস্ত থাকে।
ফ্রান্সে এক হামলায় দেড়শো মানুষ মারা যাবার পর এই হামলা ফারাসী উপনিবেশ শাসনের নিপীড়নের প্রতিক্রিয়া বলা হলিউডের পর্দায় কড়াৎ দিয়ে মানুষের মাথা চেড়ার দৃশ্য দেখার মতই ভয়াবহ ছিল…।
প্রতিটি জঙ্গি পরিবারের একই কথা, তাদের ছেলে বা মেয়েটি বেশ কিছুদিন আগে থেকে ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে ঝুঁকে পড়েছিল… তারপরই একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়। এসএসসি দেবার পর আমাদের বেশ কিছু বন্ধু পরীক্ষা শেষে তাবলিগে গিয়ে হুজুর হয়ে ফিরে এসেছিল। শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী-পায়জামা পরে দাড়ি রাখা শুরু করেছিল। জিন্সের প্যান্ট পরলে শরীরের মাংস আকৃতি বুঝা যায় তাই পায়জামা হচ্ছে সহি পোশাক।
দাড়ি রাখতে হবে একমুঠ। চুল রাখতে হবে ঘাড় পর্যন্ত নবীজির মত। আড্ডায় বসে তারা আল্লার কালামকে দেশের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার কথা বলত। হিন্দু বন্ধুদের ইসলামের দাওয়াত দিত। তাসলিমা নাসরিন, সালমান রুশদীর ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের হত্যা করা উচিত বলে মত দিত। তখনো দেশে জেএমবি আসেনি, হেফাজত ইসলাম আসেনি… শুধু তাবলিগে গিয়ে তাদের এই অবস্থা হয়েছিল।
নিজের সন্তান তাবলিগে গিয়ে মুসল্লী হয়ে উঠলে আমরা খুশি হয়ে উঠি। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই- ঠিকাচ্ছে আপনার কথা মেনে নিলাম, ইসলামের ‘অপব্যাখ্যায়’ মগজ ধোলাই হয়ে জঙ্গি তৈরি হয়- এটাও মেনে নিলাম, জেএমবি-আনসারুল্লাহ-আইএস ইহুদীদের তৈরি- তাও মেনে নিলাম, কথা হচ্ছে এইসব ‘অপব্যাখ্যা’ আর ইহুদীদের চক্রান্তে আপনার সন্তান জঙ্গি হলে ইসলামের জঙ্গি থাক বা না থাক- কি আসে যাবে? ইসলামকে ফ্রেস ইমেজ তৈরিতেই দেখছি আপনাদের আগ্রহ- জঙ্গি নির্মুলে নয়! সন্তান অতিমাত্রায় ধামীয় হওয়ার সঙ্গে যখন জঙ্গি হাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে- তাহলে সন্তানকে অতিমাত্রায় ইসলাম পালন থেকে দূরে রাখাই কি উচিত নয়?
তারাশঙ্করের ‘সপ্তপদি’ উপন্যাসের নায়ক তার খ্রিস্টান প্রেমিকার জন্য খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল। শেষে নায়িকাকে না পেয়ে তাকে ভুলতে খ্রিস্টান ধর্মের চরম ধার্মীকতা চার্চের ফাদার হয়ে যান। তারাশঙ্করের নায়ক যদি তার মুসলমান নায়িকার জন্য মুসলমান হতেন আর তাকে না পেয়ে হতাশায় ইসলামের চরম ধার্মীকতায় নিমজ্জিত হতেন তাহলে কি পরিণত হতো সেটা নায়লা নাঈমের স্বামীকে দেখে অনুমান করা যায়।
কিংবা কবীর সুমনের রূপান্তর, মুসলমান মেয়ের প্রেমে পড়ে মুসলিম হয়ে আইএসের সদস্য হয়ে উঠার কয়েকটা তরতাজা ঘটনা তো আমাদের সামনেই আছে। যে ধর্মের ‘অপব্যাখ্যা’ করে কিংবা যে ধর্মের মাওলানা-মুফতিরা ‘মগজ ধোলাই’ করে একজনকে জঙ্গি বানাতে পারে সে ধর্মের গায়ে অন্তত একটা লেবেল সেঁটে দিতে হয়- সংবিধিসতর্ককরণ: কেবলমাত্র বয়সজনিত বাধ্যক্যে পতিত মৃত্যুচিন্তায় আক্রান্তদের জন্য অনুসরনীয়…।
কিছু গাছপাঠা নাস্তিক দেখবেন মিনমিন করে বলার চেষ্টা করে- আমার মা-বাবা তো ধার্মীক মুসলমান ছিল, তারা তো কেউ জঙ্গি ছিল না…। গাধা, ওটা বয়সজনিত ধার্মীকতা, উপমহাদেশীয় ট্রেডিশন, ঐ একই জিনিস যৌবনে অতিমাত্রায় আসক্ত হয়ে গেলে জঙ্গি রাস্তায় পা পিছলে যেতে কতক্ষণ?
No comments:
Post a Comment