Thursday, 21 April 2016

মানসিক ভারসাম্যহীন মুসলিম

বাংলাদেশে যারা মূর্তি ভাঙ্গে তারা ধরা পড়ে গেলে “মানসিক ভারসাম্যহীন” হয়ে পড়ে। সৌদি আরবে এক বাংলাদেশী মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে দেরী করায় যে গুলি করে হত্যা করেছে সেই ইসলাম প্রেমীও নাকি একজন “মানসিক ভারসাম্যহীন”! হতে পারে, আর মাথায় সমস্যা আছে এমন কাউকে তো আর সাজা দেয়া যায় না। 

তবে মানসিক ভারসাম্যহীন কেউ মসজিদের দেয়ালে কথিত ইসলাম নিয়ে কটুক্তি লেখার অপরাধে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে পারে। কারণ শরীয়ায় পাগলকেও কোন রেহাই দেয়া হয়নি। পাকিস্তানের একজন খ্রিস্টান যুবকের বিরুদ্ধে কুরআন অবমাননার অভিযোগ উঠে। পরে জানা যায় যুবকটি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কিন্তু ইসলামী আদালত তাকে কুরআন অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেয় এ জন্য যে, পাগল-ছাগল হলেও ইসলাম অবমাননা করলে রেহাই নেই।

আমি জানি লোকজন এখন চেঁচামেচি শুরু করে দিবে- আজান দিতে দেরী করলে গুলি করে খুন করার কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। কিন্তু এরকম ঘটনায় প্রতিবাদ না করার কথাও তো ইসলামে কোথাও বলা নেই। তাহলে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোন হৈ চৈ নেই কেন? রাস্তাঘাটে লোকজন এই ঘটনা নিয়ে তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে না কেন? তাদের মুসলমানুভূতিতেও বা আঘাত লাগেনি কেন? খ্রিস্টান অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকের কথিত নবী অনুভূতিতে আঘাত করায় নবী প্রেমিরা পাকিস্তানে শরীয়ায় তার বিচার করেছে। 

Sunday, 17 April 2016

ইসলাম যেভাবে শিল্পকে অবদমিত করে রাখে

মুসলমানদের মধ্যে অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য, ফ্লিমমেকারসহ শিল্পকলার সব মধ্যমেই গুণি মানুষকে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামে এসব কিছুই হারাম। এ জন্য ইসলামে প্রবল অনুরাগ থাকলে মুসলিমদের পক্ষে “শিল্পী সত্ত্বা” অর্জন করা সম্ভবপর হয় না। একজন অঙ্কন শিল্পী যদি মগজে ধারন করে যে ছবি আঁকা হারাম এবং এজন্য পরকালে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে- তাহলে তার পক্ষে কেমন করে প্রকৃত শিল্পী হওয়া সম্ভব? নিজের প্রতিভাকেই যেখানে পাপ বলে মনে হয় সেখানে সেই প্রতিভা সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন হতে পারে না। 

একজন অভিনয় শিল্পী যদি মনে করেন অভিনয় করাটা বিড়াট পাপের কাজ, পরকালে এজন্য তাকে দোজগে যেতে হবে- তিনি আর যাই হোক কখনোই “শিল্পী” হতে পারেন না। তাই মুসলিমদের মধ্যে প্রচুর অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, নৃত্য শিল্পী, চিলচ্চিত্র নির্মাতা থাকলেও তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক শেষ পর্যন্ত “শিল্পী” হতে পারেন। ইসলাম এভাবেই একজন প্রতিভাবানকে তার সর্বচ্চো শক্তিকে অবদমিত করে রাখে। দুনিয়াতে বিদ্যমান অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম এখানেই সর্বাপেক্ষায় ক্ষতিকারক অপশক্তি। 

মানুষের সহজাত ক্ষমতাকে, অন্যান্য প্রাণী থেকে যে মনন ও সৃজনশীল ক্ষমতা মানুষকে পৃথক করে দিয়েছে সেই ক্ষমতাকে অস্বীকারের মধ্য দিয়ে ইসলাম তার বিকৃত দর্শনকে পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরেছে। শুধুমাত্র জন্মসূত্রে মুসলমান হবার দুর্ভাগ্যের জন্য একজন মানুষ তার চিন্তাশীলতাকে ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যয় করতে দ্বিধান্বিত থাকে। দুনিয়ার অন্যসব ধর্মে হাজারটা অপশক্তি বিরাজ করলেও এই দিকগুলোতে কোন বিধি নিষেধ নেই। হিন্দুধর্মে তো নাচ ঈশ্বর-দেবতাকে সন্তুষ্ঠ করার একটা উপায়। বেহুলা তো নেচে ইন্দ্রপুরীর মনজয় করতে চেয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান ধর্মীয় সিনেমায় স্বয়ং যীশু-মুসাকে অভিনয়ের মাধ্যমে দেখানো হয়। 

Wednesday, 13 April 2016

ইসলামের দূষিত হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান

যমুনা টেলিভিশনে লাইফ টেলিকাস্টে অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সংখ্যাধিক্য এলাকাগুলোতে পুলিশ টহল ও নজরদারী বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর যদি দাড়ি-টুপি দেখলেই পুলিশ দেহ তল্লাসি চালায়- নির্ঘাত মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে গিয়ে চরম আঘাত লাগবে। ফেইসবুকেই ঝড় উঠবে ইউরোপে মুসলিমরা নিগৃহিত! কিছু সেক্যুলারও গলা মিলাবে, দাড়ি-টুপি পরলেই সবাই জঙ্গি হয়ে যায় না। কথাটা খানিকটা সত্য তো বটে। যেমন সব সাপই বিষাক্ত নয়। কিন্তু সাপ যেহেতু সাধারণ মানুষ তেমন করে চেনে না, তাই সাপ থেকে নিরাপদ থাকাই শ্রেয়।

মনে করুন, ইউরোপের একটা ট্রেনে বা ট্রামে, বা জনবহুল কোন জায়গায় চারটি প্রধান ধর্মের পুরোহিতদের ধর্মীয় লেবাসের চারজন লোক অবস্থান করছেন। গির্জার ফাদার, ইহুদী রাব্বী, মন্দিরের টিকিধারী পুরোহিত- সহযাত্রীদের মনোযোগই আকর্ষণ করবে না। কিন্তু একজন টুপি-দাড়ি পরিহিত মুসলিম লেবাসের কেউ দু:খজনকভাবে সকলের সন্দেহ ও অস্বস্তির কারণ হবেন। 

খোদ বাংলাদেশে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত শাসনের সময় জঙ্গিবাদ যখন রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিল তখন হুজুর লেবাসী কাউকে রমনার গানের অনুষ্ঠানে, ভ্রাম্যমান সিনেমা প্রদর্শনিতে, মেলা… সবার মনে একটা সন্দেহ তৈরি করতো। এই সন্দেহ আসলে ইসলামকে সন্দেহ। সাধারণ মানুষ জেনেবুঝে ইসলামকে সন্দেহ করছে না সত্যি, কিন্তু একজন ইসলামী লেবাসের লোক জঙ্গি হলেও হতে পারে, বা সম্ভবনা আছে, বাদ দিন লেবাসের কথা, একজন মুসলিম জঙ্গি হলেও হতে পারে, সে জিদাহে বিশ্বাসী হওয়া অসম্ভব নয়- এটা একজন হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদীকে নিয়ে ভাবনায় আসে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, ইসলামকেই সন্দেহ করা হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মুসলমান সেটা সরাসরি বুঝছে না।

Monday, 4 April 2016

পাকিস্তানে স্কুলে তালেবান হামলার পর একটা রব উঠছে- সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার। কিসের সন্ত্রাসবাদ? কার বিরুদ্ধে কাজ করবে সকলে মিলে? এটা ভারতের জঙ্গলে চন্দন কাঠ চুরি করা ডাকাত বিরাপ্পানকে সম্মলিতভাবে পাকড়াও করার মত কোন বিষয়? পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রগুলো মিলে একজোট হয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মত কোন বিষয়? এটা কি হিটলারের ন্যাৎসিবাদ? সোমালিয়া জলদস্যু কোন ধর্মমত নয়। বিরাপ্পান্ও কোন নবী ছিল না। কিন্তু তালেবান অন্য জিনিস। বেকো হারাম অন্য জিনিস। জেএমবি অন্য জিনিস। তাই তালেবানরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। 

বেকো হারামরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। তাদের পরাজিত করা যাবে সাময়িকভাবে কিন্তু নিমূর্ল করা যাবে না। কারণ আপনি মূল রেখে দিয়ে পাতায় হাত দিচ্ছেন। সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার অর্থ করতে হবে “সম্মলিতভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করা”! তালেবানরা জন্ম নেয় ইসলাম থেকে। দুনিয়াতে আরো ধর্ম আছে সেখানে কোন “তালেবান” জন্ম নেয় না। সমস্যা তাহলে ইসলামে। ঠিক আছে মানলাম, “ইহা সহি ইসলাম নহে”! আপনার কথা মেনেই “অসহি ইসলামের” বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই লড়াইয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হবে মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম-ওলামাদের বিষয়ে গভীর সন্দেহ পোষণ করা। মনিটরিং করতে হবে এদের উপর। নামাজ শেষে বয়ানের উপর নজর রাখতে হবে। আপনি রাজি তো? তখন বলবেন না, মুসলিমদের হয়রানী করা হচ্ছে?