যমুনা টেলিভিশনে লাইফ টেলিকাস্টে অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সংখ্যাধিক্য এলাকাগুলোতে পুলিশ টহল ও নজরদারী বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর যদি দাড়ি-টুপি দেখলেই পুলিশ দেহ তল্লাসি চালায়- নির্ঘাত মুসলিমদের ধর্মানুভূতিতে গিয়ে চরম আঘাত লাগবে। ফেইসবুকেই ঝড় উঠবে ইউরোপে মুসলিমরা নিগৃহিত! কিছু সেক্যুলারও গলা মিলাবে, দাড়ি-টুপি পরলেই সবাই জঙ্গি হয়ে যায় না। কথাটা খানিকটা সত্য তো বটে। যেমন সব সাপই বিষাক্ত নয়। কিন্তু সাপ যেহেতু সাধারণ মানুষ তেমন করে চেনে না, তাই সাপ থেকে নিরাপদ থাকাই শ্রেয়।
মনে করুন, ইউরোপের একটা ট্রেনে বা ট্রামে, বা জনবহুল কোন জায়গায় চারটি প্রধান ধর্মের পুরোহিতদের ধর্মীয় লেবাসের চারজন লোক অবস্থান করছেন। গির্জার ফাদার, ইহুদী রাব্বী, মন্দিরের টিকিধারী পুরোহিত- সহযাত্রীদের মনোযোগই আকর্ষণ করবে না। কিন্তু একজন টুপি-দাড়ি পরিহিত মুসলিম লেবাসের কেউ দু:খজনকভাবে সকলের সন্দেহ ও অস্বস্তির কারণ হবেন।
খোদ বাংলাদেশে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত শাসনের সময় জঙ্গিবাদ যখন রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছিল তখন হুজুর লেবাসী কাউকে রমনার গানের অনুষ্ঠানে, ভ্রাম্যমান সিনেমা প্রদর্শনিতে, মেলা… সবার মনে একটা সন্দেহ তৈরি করতো। এই সন্দেহ আসলে ইসলামকে সন্দেহ। সাধারণ মানুষ জেনেবুঝে ইসলামকে সন্দেহ করছে না সত্যি, কিন্তু একজন ইসলামী লেবাসের লোক জঙ্গি হলেও হতে পারে, বা সম্ভবনা আছে, বাদ দিন লেবাসের কথা, একজন মুসলিম জঙ্গি হলেও হতে পারে, সে জিদাহে বিশ্বাসী হওয়া অসম্ভব নয়- এটা একজন হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদীকে নিয়ে ভাবনায় আসে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, ইসলামকেই সন্দেহ করা হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মুসলমান সেটা সরাসরি বুঝছে না।
ইউরোপ-আমেরিকায় প্রচুর পাকিস্তানী, বাংলাদেশী মুসলমান বসবাস করে। তাদের বড় একটা অংশ ইহুদী-খ্রিস্টান, ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে। তারা সেখানে আশ্রয় নিয়ে, বসবাসের বৈধ্ অনুমতি নিয়ে এখন সেখানেই মনে মনে ইসলাম সম্মত শাসনের স্বপ্ন দেখে। চারপাশে নারী-পুরুষের ছোট পোশাক, শুকোরের মাংস তাদের ইসলামীনুভূতিতে আঘাত করে। অথচ জন্মসূত্রে এসব দেশের অধিবাসী তারা নয়। ইউরোপ আশ্রয় দিয়েছে ভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষকে সমান নাগরিক অধিকারসহ। কিন্তু শব্দদূষণহীন সুসভ্য একটা দেশে মাইকে চিৎকার করে হাজারটা মসজিদ থেকে আজানের শব্দ না শুনলে মুসলমানের পেট ভরে না।
গণতান্ত্রিক পশ্চিমা বিশ্বে ব্যক্তি স্বাধীনতা সবার আগে বিবেচ্য হয়ে থাকে। সেখানে তাই ইসলামী আইনের মত বর্বর, নৃশংস, ইতর শ্রেণীর কোন আইন চলতে পারে না। কিছু সংখ্যক মুসলিম সেখানে গেঁড়ে বসে প্রথমে নিজেদের জন্য ইসলামী পারিবারীক আইন পাসের জন্য চেষ্টা চালায়। এজন্য তাদের মধ্য থেকে সুট-প্যান্ট ক্লিন সেভড একজন শিক্ষিতজনকে পার্লামেন্টে পাঠায়। এভাবেই ইউরোপে ছোট্ট করে শরীয়ার আওয়াজ তোলা হয়। ইউরোপ-আমেরিকা এভাবেই তার শরীরের মধ্যে আরবের বিষ ঢুকিয়ে বসে আছে। এই বিষ যদি এখনি তোলা না হয় তবে তার মাসুল দিতে হবে নিরহ মানুষদেরকেই। যার শিকার হবেন জন্মসূত্রে মুসলিম নামধারী ভাল মানুষ যারা ইসলাম ধর্মকে সেভাবে পালন করেন না। তাদের জন্যই খারাপ লাগছে।…
বাংলাদেশে আমরা যে পরিমাণ মাদ্রাসা, মক্তব, মসজিদ, ইমাম, আলেম-ওলামা, তাফসিরকারী, হাফেজ, জাকির নায়েক (মডারেট মুসলিম) তৈরি করে চলেছি, তার বিস্ফোরণ অতি সন্নিকটে। ইসলামের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচায় এমন সম্ভবনা খুব কম।
এই লেখাটা যখন শেষ করবো তখনই দুসংবাদ পেলাম পাকিস্তানের পেশোয়ারে শান্তির ধর্ম ইসলাম কায়েমে নিয়োজিত তালেবান একটি সেনাবাহিনী চালিত স্কুলে জিহাদী আক্রমণ চালিয়ে ১৩২ জনকে হত্যা করেছে। এই নির্মম, শোকাবহ ঘটনাটি পিছনে ইসলামের কোন হাত নেই? যদি আপনার উত্তর হয়, না নেই, তবে আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, কেন শুধু ইসলাম ও মুসলমানরাই এরকম ঘটনা ঘটায়? কেন অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায় এসবে জড়ায় না? এই উত্তরগুলো আমাকে দেয়া প্রয়োজন নেই।
আপনি আপনাকে নিভৃতে দিন। আমার দঢ় বিশ্বাস, আপনি একটি নির্মম সত্যকে স্বীকার করে নিতে পারবেন
No comments:
Post a Comment