Thursday, 26 May 2016

নামে মুহম্মদ কামে ইতরামী

যুক্তরাজ্যে শিশুদের নামের শীর্ষে আছে “মুহাম্মদ”! “অলিভার”, “হ্যারি-ফ্যারি” পিছনে ফেলে “মুহাম্মদ” এক নম্বরে উঠে এসেছে। এটা মূলত মুসলিম এশিয়দের জনসংখ্যার একটা প্রতিফলন। মুসলমানদের প্রায় ৯৯ ভাগ নামের শুরুই হয় মুহাম্মদ দিয়ে। মুসলিম বাবা-মা নিজের ছেলে সন্তানের নাম নবী মুহাম্মদ ও সাহাবীদের নাম অনুসারে রাখেন। । এসব সোয়াব ছাড়াও বাবা-মায়েদের মনের সুপ্ত বাসনা সন্তান যেন নবী বা সাহাবীদের আখলাক বা চরিত্র পায়। নবী ও সাহাবীদের “ফেরাস্তার” মতই নিস্পাপ, সৎ চরিত্রের মানুষ মনে করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য বিপদজনক যেটা, নবী ও সাহাবীদের সম্পর্কে এই মিথ তাদেরকে বড় ধরনের অন্যায়, অবিচারকে অন্ধ অনুসরন করতে দেখা যায়- কারণ সাধারণ মানুষ সাহাবীদের অনুকরণ করতে চায়। 

তারা সাহাবীদের মত ধর্মীক হতে চায়। কুরআন-হাদিস তথা ইসলামী জ্ঞান কম থাকায় লোকে এই কল্পিত গাল-গল্পকে বিশ্বাস করে ফেলে। নিচের কুরআনের সুরা আল আহজাবের একটা আয়াত নবী মুহাম্মদের সঙ্গিদের সম্পর্কে স্তম্ভিত করে দেয়ারে মত অভিযোগ আছে! দেখুন- “পরিচ্ছেদ-৭, ৫৩. ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা নবীর ঘরগুলোতে প্রবেশ করো না তোমাদের খানাপিনার জন্য অনুমতি না দেয়া হলে- রান্নাবান্না শেষ হবার অপেক্ষা না করে, বরং যখন তোমাদের ডাকা হয় তখন তোমরা প্রবেশ করো, তারপর যখন তোমরা খেয়ে নিয়েছো তখন চলে যেও এবং গড়িমসি করো না বাক্যালাপের জন্য। নিঃসন্দেহে এসব নবীকে কষ্ট দিয়ে থাকে, অথচ তিনি সংকোচবোধ করেন তোমাদের জন্য, কিন্তু আল্লাহ সত্য সম্বন্ধে সংকোচ করেন না। 

Thursday, 19 May 2016

ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত

ভারতের বিজ্ঞানমন্ত্রী বিজিতা নাথ জ্যোতিষ শাস্ত্রকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন! বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় বলে আসলে কোন মন্ত্রণালয়ই আমাদের উপমহাদেশে থাকা উচিত নয়। কারণ আমাদের বেশি বেশি করে ধার্মীক হতে হবে। ধার্মীক হতে হলে আমাদের অতিপ্রাকৃত বিষয়ে অগাধ বিশ্বাস রাখতে হবে। ভূত-প্রেত, জিন-পরী, জাদুটোনা, ঝারফুক, জ্যোতিষিতে বিশ্বাস করতে হবে। ভারত কিছুদিন আগে মহাকাশে যান পাঠিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও শোনা যাচ্ছে “বঙ্গবন্ধু নভোযান” পাঠানোর পরিকল্পনার কথা। আর এসব পরিকল্পনার মাথায় যারা বসে থাকেন তারা জিন-ভূত-ঝারফুক-জাদুটোনায় অগাধ বিশ্বাস রেখে চলেন। 

তাদের এই স্পার্ধার জোরটা আসে অশিক্ষায়-কুশিক্ষায় নিমজ্জিত ধার্মীক জনসাধরণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে। ভারতের বিজ্ঞান মন্ত্রীর জ্যোতিষি বিদ্যাকে সমর্থন করায় খুব কম সংখ্যাক মানুষই আহত হয়েছেন এটা এমনিতেই বলে দেয়া যায়। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু। ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বচ্চো ডিগ্রীধারী হয়েও জ্যোতিষি, শনির ফারা, বৃহস্পতির প্রভাব ইত্যাদির জন্য নানা রকম পাথর গ্রহণ করতে ন্যুনতম লজ্জ্বাবোধ তাদের নেই।। কাজেই ভারত নাসার মত মহাকাশ নিয়ে কোন চমক দেখালেও সেটা মোটেই কোন বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করে না।

বাংলাদেশের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট ইসলাম ধর্মের অনুসারী। মুসলিমরা খুব হামবড়া একটা ভাব দেখিয়ে “ইসলামে জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করা হারাম” বলে এক ধরনের কুসংস্কারহীনতার দাবী করেন। ব্যাপারটা আসলে তা নয়। ইসলাম ধর্মও জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করে। ইসলাম শুধু জ্যোতিষির কাছে যেতে নিষেধ করেছে কারণ জ্যোতিষিরা শয়তান জিনের মাধ্যমে ভবিষ্যত বলে দেবার বিদ্যাটা রপ্ত করে। মানে হচ্ছে জ্যোতিষি বা হাত দেখার বিদ্যাকে ইসলাম অস্বীকার করেনি। সহি হাদিসে বলা আছে নবী বলছেন জ্যোতিষিরা জিনদের কাছ থেকে ভবিষ্যত জেনে নেয়। 

Tuesday, 10 May 2016

অন্ধ ভারত বিদ্বেষী মনের বাঙালী মুসলমান

ছোট্ট ডরিমনের কথা মনে আছে? বেচারার মুখে জাপানী ভাষার বদলে হিন্দি ভাষা হওয়াতে সে নাকি গোটা বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি-ভাষাকে ধ্বংস করে ফেলেছিল! কিছু বৃদ্ধ বুদ্ধিজীবী যারা পারলে ডরিমনের ফাঁসি চান, তাদের পাতলা হয়ে যাওয়া চুলে আর গোফে স্পষ্ট রাজ কাপুরের স্টাইল তখনো ফিকে হয়ে যায়নি! তারা যদি যৌবনে ‘পেয়ার হুয়া এক রা হুয়া’ গেয়েও বাংলাদেশী সংস্কৃতির সর্দার হতে পারেন তো অন্যদের নিয়ে ভয়ের কিছু দেখি না…।

হিন্দি হচ্ছে বাংলাদেশী শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ভাষা। মিডেল ইস্টে শ্রমজীবীদেরতাদের মালিকদের সঙ্গে ভাব আদান প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হিন্দি। তাদের পক্ষে ইংরেজি কিংবা আরবীতে দক্ষ হওয়া চাইতে হিন্দিতে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ হওয়া অনেক সহজ। কি বলবেন একে?

বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্যের সর্দারদের ছেলেপিলে, নাতিপুতিদের সবাই ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে। জীবনেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধার ধারেন না। কিছু জনপ্রিয় সংস্কৃতিজীবী ও সাহিত্যজীবীর কথা জানি যাদের ছেলেমেয়ে, নাতিপুতিরা কেউ বাংলা পড়তে জানেন না! এতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যির কতখানি ক্ষতি হচ্ছে, কতখানি অমূল্যায়ন হচ্ছে, কতখানি আবেদন হারাচ্ছে সে বিষয়ে কোন অশান্তি তো তাদের দেখিনি?

Wednesday, 4 May 2016

মীরাক্কেল

মীরাক্কেল অনুষ্ঠান নিয়ে ফেইসবুকে অনেকেই লিখেছেন। অনুষ্ঠানটি অনেকদিন হয় আমি দেখি না। ফেইসবুকে পড়ে জেনেছি রাম-সীতা-রাবনকে নিয়ে একটি কমেডি করা হয়েছে। একজন বিশ্বাসী হিন্দুর কাছে রাম একজন দেবতা। মুসলিমদের নবীর চাইতে ক্যাটাগরিতে দেবতারা বড় কেননা দেবতারা স্বয়ং ঈশ্বরের মানুষ্য রূপ। ভারতের জি বাংলায় অনেকদিন আগে দেব-দেবীদের কাহিনী নিয়ে একটা কমেডি সিরিয়াল চলেছে বছর জুড়ে। 

দেশ পত্রিকায় দীর্ঘ একটা ধারাবাহিক রম্য রচনা বেরিয়েছিল অনেক বছর আগে “দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস” নামে। দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস! আমার মুসলিম পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হিন্দুধর্মালম্বিদের আশ্চর্য ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বহুকাল বিস্মতি করেছে। 

মীরাকেল্লের রাম-সীতাকে নিয়ে কমেডী অভাবনীয় কোন ঘটনা নয়। দেব-দেবতায় ভক্তদের তাতে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না। পোপকে নিয়ে হলউডের কমেডি সিনেমায় সিরিয়াস হাসিঠাট্টা করার মত নজির আছে। হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে ছিল নাটক-সিনেমায় কোন হুজুর চরিত্র নিয়ে কৌতুক করা যাবে না। দাড়ি-টুপি লেবাসের কোন রাজাকার চরিত্র বা মন্দ চরিত্র হিসেবে দেখানো যাবে না। যেখানে নবীদের নিয়ে ভক্তিমূলক সিনেমা তৈরির কথাও মুসলিমরা কল্পনা করতে পারবে না কমেডি তো সেখানে চিন্তার বাইরে। ৭১ সালে যারা লুটপাট, ধর্ষণ, গণহত্যা করেছিল তাদের দাড়ি-টুপি ইসলামী লেবাস ছিল- নাটক-সিনেমায় এখন সেই চরিত্রকেই ফুটিয়ে তুললে প্রবল ইসলামিনুভূতিতে আঘাত হচ্ছে!