Tuesday, 10 May 2016

অন্ধ ভারত বিদ্বেষী মনের বাঙালী মুসলমান

ছোট্ট ডরিমনের কথা মনে আছে? বেচারার মুখে জাপানী ভাষার বদলে হিন্দি ভাষা হওয়াতে সে নাকি গোটা বাংলাদেশীদের সংস্কৃতি-ভাষাকে ধ্বংস করে ফেলেছিল! কিছু বৃদ্ধ বুদ্ধিজীবী যারা পারলে ডরিমনের ফাঁসি চান, তাদের পাতলা হয়ে যাওয়া চুলে আর গোফে স্পষ্ট রাজ কাপুরের স্টাইল তখনো ফিকে হয়ে যায়নি! তারা যদি যৌবনে ‘পেয়ার হুয়া এক রা হুয়া’ গেয়েও বাংলাদেশী সংস্কৃতির সর্দার হতে পারেন তো অন্যদের নিয়ে ভয়ের কিছু দেখি না…।

হিন্দি হচ্ছে বাংলাদেশী শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ভাষা। মিডেল ইস্টে শ্রমজীবীদেরতাদের মালিকদের সঙ্গে ভাব আদান প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হিন্দি। তাদের পক্ষে ইংরেজি কিংবা আরবীতে দক্ষ হওয়া চাইতে হিন্দিতে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ হওয়া অনেক সহজ। কি বলবেন একে?

বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্যের সর্দারদের ছেলেপিলে, নাতিপুতিদের সবাই ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে। জীবনেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধার ধারেন না। কিছু জনপ্রিয় সংস্কৃতিজীবী ও সাহিত্যজীবীর কথা জানি যাদের ছেলেমেয়ে, নাতিপুতিরা কেউ বাংলা পড়তে জানেন না! এতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যির কতখানি ক্ষতি হচ্ছে, কতখানি অমূল্যায়ন হচ্ছে, কতখানি আবেদন হারাচ্ছে সে বিষয়ে কোন অশান্তি তো তাদের দেখিনি?

বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর অন্যত্র হিন্দি ভাষার যে ‘বাজার’ তৈরি হচ্ছে, তাতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশের স্বল্প শিক্ষিত, ইংরেজি না পারা আম জনতা। হিন্দি শুনে ও বলতে পারা তাদেরকে বর্হিবিশ্বে যোগাযোগের ক্ষেত্র সহজতর করে দিবে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের ভারতে তাদের ব্যবসায়ি ট্যুরে হিন্দি ভাষাতে কাজ সারেন। তাদের এহেন ‘দেশ বিরোধী’ কার্যক্রম থেকে বাঁচাতে কারা ইংরেজি শিক্ষার ভার নিবেন?

আসল কথা, ঘুরে-ফিরে সেই দ্বি-জাতি তত্ত্ব, অন্ধ ভারত বিদ্বেষীতা, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী চিন্তা নানা ছদ্ম পরিচয়ে, অবচেতনে আজো আমাদের অন্ধ করে দেয়

No comments:

Post a Comment