Wednesday, 17 February 2016

দাড়িওয়ালা মুসলিম বলদ

এই যে নাস্তিকদের ফাঁসির বিধান রেখে ব্লাসফেমির দাবী করছে দাড়িঅলারা, কুরআন-হাদিসে কোথায় নাস্তিকদের বিষয়ে বলা আছে তারা বলতে পারবে? ইসলামে মুরতাদ আছে যার মানে ধর্মত্যাগী। যারা ইসলাম ধর্ম থেকে চলে গিয়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করবে তারা মুরতাদ। মুরতাদদের হত্যার সহি হাদিস রেফারেন্স আছে। আছে অবিশ্বাসী তথা কাফেরদের কথা। 

কোন না কোন ধর্মের সাথে যুক্ত থাকার সুবিধা না নিয়ে কোন মানুষ থাকতে পারে এটা ওই সময়ে আরবে চিন্তারও বাইরে ছিল। এত বলদ কি মানুষ হতে পারে? তাই 'নিরপেক্ষদের' নিয়ে কোরানের রচয়িতার মনে হয় কোন দুশ্চিন্তা ছিলনা। তবে এই যুগে বিরোধী দল না করলেও সতন্ত্র প্রার্থীদের ব্ল্যাক লিস্টেড হয়েই থাকতে হয়। সেই হিসাবে নাস্তিকরাও মুরতাদ। কয়জন আর নাস্তিক হয়ে জন্মায়, বেশিরভাগই 'ধর্মত্যাগী'।

যারা ইসলাম ধর্ম ও এর নবীকে স্বীকার করেননি তাদের ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে তারাই কাফের। এই কাফেরদের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কুরআন তাগিদ দিয়ে গেছে। কিন্তু নাস্তিকদের বিষয়ে কুরআন-হাদিসে কিছু বলা আছে কি? আবু জাহেল, আবু লাহাব নাস্তিক ছিলেন না। তাদের ধর্ম ও ঈশ্বরকে তারা এতটাই ভালবাসতেন যেন মুসলিমদের সঙ্গে তাদের ধর্ম নিয়েই যুদ্ধ বাধে। 

Saturday, 13 February 2016

আমাদের অথর্ব সেনাবাহিনী

আমাদের সেনা বাহিনীকে কিছু শ্বেতহস্তি কিনে দেয়া হয়েছে পুষবার জন্য। হাতির দাম লাখ টাকা, তাকে পুষতেও লাখ টাকা খরচ। এই খরচ দিবে এইদেশের গরীব মানুষ। কারণ এই মানুষগুলো যখন “বর্হিশত্রুর” আক্রমনের সম্মুখিন হবে তখন বীর সেনানীরা এই শ্বেতহস্তিগুলো দিয়ে আমাদের রক্ষা করবেন। কাজেই পিঠের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে হলেও এই বিপুল খরচ মেটাতে হবে তাদেরকেই! শত শত মাইল দূরে, পরিবার-পরিজন ফেলে যারা জন্তু-জানোয়ারের মত খেটে দেশে পয়সা পাঠান সেই পয়সায় যুদ্ধবিমান, ভারী অস্ত্র কেনা হবে। আজকের পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে একটা দেশের মানুষ কি পরিমাণ অশিক্ষিত, অসচেতন হলে পড়ে তাদের বিশ্বাস করানো যায় যে তারা মারাত্মক বর্হিশত্রু আক্রমনের বিপদের মধ্যে বাস করছে- তার একটা নমুনা হতে পারে বাংলাদেশ। আমাদের মত গরীব দেশ তাই যুদ্ধ বিমান কেনে ঋণ করে! “ফাস্ট ওয়ার্ল্ড” নিশ্চয় এসব দেখে মুখ লুকিয়ে হাসে! যে দেশের একটা ভবন ধসে গেলে উদ্ধার অভিযান বার বার বাধাগ্রস্ত হয় আধুনিক যন্ত্রের অভাবে, সে দেশ যুদ্ধ বিমান কিনে! এই লজ্জ্বা, এই গ্লাণি আমরা কোথায় রাখি!

Monday, 1 February 2016

আল্লাহ-ইশ্বর এক ধাপ্পাবাজীর ধারনা

আমরা নাকি সব বিষয়ে ধর্ম আর আল্লাকে টেনে আনি। যারা প্রচন্ড গরমের সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করলেও দলবেধে বলতে থাকে “দেখছেন আল্লার কি রহমত”, প্রচন্ড খড়ায় প্রত্যাশার একটু বৃষ্টি নামলেই আল্লাপাকে অস্তিত্বে “সায়েন্টিফিক” প্রমাণ পেয়ে যান- তাদেরকে তখন কেউ বলে না, সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনেন কেন? আল্লা ১০০ মানুষকে নদীতে ডুবিয়ে মারেন- এটা বলা যাবে না, কিন্তু সাঁতরে কয়েকজন তীরে বেঁচে আসতে পারলে সেটা আল্লার অশেষ রহমত! আল্লার রহমত নিয়ে আমাদের তীর্যক প্রশ্নগুলো আসে এরকম নির্বোধ আর যুক্তিহীন দাবীগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে। সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনে মুমিনদের দলই, আমরা শুধু সুযোগ বুঝে ধরিয়ে দেই- তখন আল্লাহ কোথায় ছিলেন?

ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে কতটা যুক্তিহীন নির্বোধ বানায় তার প্রমাণ “আল্লার রহমত” তত্ত্বে প্রকাশ পায়। আল্লার কুদরত, রহমত কথাটার প্রয়োগ তখনই যৌক্তিক হতো যখন এই বিশ্ব চরাচরে যাবতীয় প্রাকৃতিক, মানুষ্য সৃষ্টি দুর্ঘটনায় আল্লার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকতো। কিন্তু দুনিয়ার কোন ধমই স্বীকার করে না যে এই বিশ্ব চরাচরে কোন ঘটনার উপরই আল্লার নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন হঠাৎ নদী বক্ষে ঝড় উঠা। এতে আল্লার নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। 

প্রাকৃতিক যে সব কারণে ঝড় উঠে তা একটা নিয়মের ফল। যেমন আগ্নেয়গিরি, মাটির নিচে চাপা লাভা হঠাৎ গরম হয়ে উপরে চলে আসে। আল্লার এতে কোন হাত নেই। এটা তারই বানানো নিয়ম। তিনি শুধু দর্শক। এরকম আল্লাহ যদি নদী বক্ষে ঝড়ের মুখে পড়া লঞ্চকে তার বিশেষ পাওয়ার দিয়ে বাঁচাতে পারে সেটাই হবে কুদরত। কিন্তু ঝড়ের যিনি সৃষ্টিকারী, যারা ইশারায় ঝড় উঠেছে তিনিই আবার ঢং দেখিয়ে রহমত করতে যাচ্ছেন এটা খুবই স্থূল বিশ্বাস! নিউটনের ঈশ্বর ছিলেন একজন প্রোগ্রামার যিনি সব কিছুর পিছনে নিয়ম তৈরি করে দিয়ে চুপ করে দূরে বসে আছেন। এই নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষমতা স্বয়ং ঈশ্বরেরও নেই। মানে পদার্থকে উপর থেকে ফেললে নিচে পড়বে মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে- এই নিয়ম ঈশ্বর তৈরি করেছেন কিন্তু এটা লঙ্ঘন করার সাধ্য ঈশ্বরের বাপেরও নেই।