Monday, 1 February 2016

আল্লাহ-ইশ্বর এক ধাপ্পাবাজীর ধারনা

আমরা নাকি সব বিষয়ে ধর্ম আর আল্লাকে টেনে আনি। যারা প্রচন্ড গরমের সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করলেও দলবেধে বলতে থাকে “দেখছেন আল্লার কি রহমত”, প্রচন্ড খড়ায় প্রত্যাশার একটু বৃষ্টি নামলেই আল্লাপাকে অস্তিত্বে “সায়েন্টিফিক” প্রমাণ পেয়ে যান- তাদেরকে তখন কেউ বলে না, সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনেন কেন? আল্লা ১০০ মানুষকে নদীতে ডুবিয়ে মারেন- এটা বলা যাবে না, কিন্তু সাঁতরে কয়েকজন তীরে বেঁচে আসতে পারলে সেটা আল্লার অশেষ রহমত! আল্লার রহমত নিয়ে আমাদের তীর্যক প্রশ্নগুলো আসে এরকম নির্বোধ আর যুক্তিহীন দাবীগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে। সব বিষয়ে আল্লাকে টেনে আনে মুমিনদের দলই, আমরা শুধু সুযোগ বুঝে ধরিয়ে দেই- তখন আল্লাহ কোথায় ছিলেন?

ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে কতটা যুক্তিহীন নির্বোধ বানায় তার প্রমাণ “আল্লার রহমত” তত্ত্বে প্রকাশ পায়। আল্লার কুদরত, রহমত কথাটার প্রয়োগ তখনই যৌক্তিক হতো যখন এই বিশ্ব চরাচরে যাবতীয় প্রাকৃতিক, মানুষ্য সৃষ্টি দুর্ঘটনায় আল্লার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকতো। কিন্তু দুনিয়ার কোন ধমই স্বীকার করে না যে এই বিশ্ব চরাচরে কোন ঘটনার উপরই আল্লার নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন হঠাৎ নদী বক্ষে ঝড় উঠা। এতে আল্লার নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। 

প্রাকৃতিক যে সব কারণে ঝড় উঠে তা একটা নিয়মের ফল। যেমন আগ্নেয়গিরি, মাটির নিচে চাপা লাভা হঠাৎ গরম হয়ে উপরে চলে আসে। আল্লার এতে কোন হাত নেই। এটা তারই বানানো নিয়ম। তিনি শুধু দর্শক। এরকম আল্লাহ যদি নদী বক্ষে ঝড়ের মুখে পড়া লঞ্চকে তার বিশেষ পাওয়ার দিয়ে বাঁচাতে পারে সেটাই হবে কুদরত। কিন্তু ঝড়ের যিনি সৃষ্টিকারী, যারা ইশারায় ঝড় উঠেছে তিনিই আবার ঢং দেখিয়ে রহমত করতে যাচ্ছেন এটা খুবই স্থূল বিশ্বাস! নিউটনের ঈশ্বর ছিলেন একজন প্রোগ্রামার যিনি সব কিছুর পিছনে নিয়ম তৈরি করে দিয়ে চুপ করে দূরে বসে আছেন। এই নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষমতা স্বয়ং ঈশ্বরেরও নেই। মানে পদার্থকে উপর থেকে ফেললে নিচে পড়বে মধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে- এই নিয়ম ঈশ্বর তৈরি করেছেন কিন্তু এটা লঙ্ঘন করার সাধ্য ঈশ্বরের বাপেরও নেই। 

নিউটনের ঈশ্বর তাই রহমত, কুদরত, অলৌকিক কিছুই ঘটাতে পারেন না। তাহলে পরিস্কার হচ্ছে মুমিনের আল্লা আর বিজ্ঞানির আল্লার যৌক্তিকভাবেই ঘটনার উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যদি থাকে তাহলে তাকে সমস্ত ঘটনার দায়ও কাঁধে নিতে হবে। ধর্ম প্রবর্তক ভন্ডরা এই ফাঁকটার কথা ভাল করেই জানতেন বলেই “আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন”, “পাপের শাস্তি” ইত্যাদি বলে একটা মাথামোটা সমাধান দিয়েছে। বেশিরভাগ ধর্ম বিশ্বাসী যেহেতু ধর্ম বিষয়ে মাথামোটা তাই তাদের মগজে এই ফাঁকটা চোখে পড়ে না। আল্লার রহমতের ক্রেডিট থাকলে লঞ্চ ডুবিতে অবোধ শিশু হত্যার দায়ও তাকে মাথায় নিতে হবে। রোজ রোড এক্সিডেন্টে যত মানুষ মরে তার দায়ও আল্লাকে নিতে হবে। 

মানুষের যতরকম ক্ষতিসাধন সম্ভব সেটাও আল্লার হাতে। একটা শহর দুই মিনিটের ভূমিকম্পে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলে, হাজার হাজার মানুষ মাটি চাপা পড়ে মরলে আল্লাকে অবশ্যই দোষি করা যাবে। শয়তান ও আল্লাহ সেক্ষেত্রে একই আসনে বসে তামুক খান! যে ব্যাটা নিষ্ঠুরের মত মেঘনার উত্তাল জলরাশির মাঝখানে মানুষ ভর্তি একটা লঞ্চকে ডুবিয়ে দিতে পারেন তাকে নিয়ে আর যাই হোক স্তুতি করা যায় না। মানুষের আর্তচিৎকার, অসংখ্য ভীত শিশুর ক্রন্দন যারা হৃদয় সামান্য আচঁড় কাটে না সে তো একটা অসুর! বিবাহ বহির্ভূতভাবে দুজন নর-নারী পারস্পরিক সম্মতিতে একটু চুমু খেলেই যার রাডার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়ে ফেলে সে কিনা একটা অসহায় নারী যখন ধর্ষণের শিকার হয় কানেই শুনতে পায় না! মানুষ ধর্ম সম্পর্কে একটু ভয়হীনভাবে চিন্তা করার সাহস দেখালেই বুঝতে পারবে এই আল্লাহ-ঈশ্বর ধারনাটা কত বড় ধাপ্পাবাজী! 

নিরপেক্ষ চোখে এই বিশ্ব চরাচরের প্রতিটি ঘটনার দিকে তাকালে বুঝা যাবে, আমাদের দিকে কেউ গভীরভাবে অলক্ষে চেয়ে নেই। আমাদের সুখ-দু:খে কারুর কোথাও কিছু আসে যায় না। জিয়াদের মৃত্যু কেবল আমাদেরই পুড়াবে কোন মহাশক্তিধরের অস্তিত্ব নেই যাকে এর জন্য দোষ দিবো, মিথ্যা প্রশংসায় ভাসিয়ে দিবো। অথচ যখনই জিয়াদের মত হতভাগ্যদের ঘটনা আমরা জানতে পারি তখনই দেখি বিশ্বাসীরাই সবার আগে আল্লাকে টেনেটুনে ঘটনার মধ্যে নিয়ে আসেন। কখনো ঘটনা তাদের পক্ষে গেলে শুরু হয়ে যায় আল্লাপাকের অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ দাখিলের হিড়িক। 

ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে কতটা নির্বোধ নিষ্ঠুর হতে সাহায্য করে তার প্রমাণ যখন কোন দায়িত্বশীল পদে বসে কেউ বলেন, “শেষে আল্লাহ সদয় হয়েছিল ছেলেটির উপর।” ফরেনসিক টেস্ট শেষে ডাক্তাররা আজ বলেছেন, “ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি নিচে পড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছে। শিশুটির মাথায় জখম ছিল। ভেতরে পানি ছিল।” নিশ্চয় এটা আল্লার সদয়তার একটি উৎকৃষ্ট নমুনা! যে সময় শিশুটির মাথা থেঁতলে যায়, পঁচা নোংরা পানি মাথায় প্রবেশ করে তখন আল্লাপাক কি করছিলেন? এই প্রশ্নটা আসা খুব স্বাভাবিক যখন বিশ্বাসীরা আল্লার রহমত প্রত্যাশা করছিল সেসময়। সম্ভবত সে সময় তিনি মেয়েদের ওড়না বুকে না গলায় উঠেছে সেদিকে গভীর মনোযোগ দিতে ব্যস্ত ছিলেন! …

No comments:

Post a Comment