Sunday, 17 July 2016

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ

কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ছে! গ্রাম-গঞ্জে যুবকদের ‘নিখোঁজ’ হবার একের পর এক খবর বের হচ্ছে। একেক গ্রামে দশ জন, বিশ জন করে যুবক উধাও। 

পরিবার বলছে তাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। ছেলে নিখোঁজ এক বছর ধরে অথচ বাবা-মা, ভাই-বোন ভাবলেশহীন! বলছে, ম্যালা দিন হয় তার সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। সে কোথায় আছে জানি না।

এর মানে হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে নিখোঁজদের যোগাযোগ আছে। কোন মুসলিম বাবা-মাই আল্লাহ’র দ্বিন কায়েমে তার সন্তান নিয়োজিত আছে জেনে দ্বিমত করবে না। সন্তানদের অন্তত একজনকে কেন বাবা-মারা মাদ্রাসায় পড়তে পাঠায়? একারণে যে, কেয়ামতের ময়দানে এই মাদ্রাসা পড়ুয়া আলেম ছেলে তার পাপী বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে। একজন সন্তান যদি সিরিয়া গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেই সন্তান তো পরকালে বাবা-মার জন্য সুপারিশ করবে আল্লাহ’র কাছে। এইরকমই সরল বিশ্বাস মুসলমান বাবা-মার।

এ তো গেলো গ্রামের কথা। খোদ ঢাকার উচ্চশিক্ষিত এক পরিবারের খবর সম্প্রতি বেরিয়েছে। শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক রোকনউদ্দিন তার পরিবার নিয়ে সিরিয়া চলে গেছেন। পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি সেই চিকিৎসকের যা একাত্তর টিভি থেকে নেওয়া হয়েছে। টিভি সূত্রে জানা গেছে এই চিকিৎসক আইএসের হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী ছিলেন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষিকা, বড় মেয়ে নর্থসাউথ ভার্সিটির ছাত্রী।

মেয়ে জামাই শিশিরও এই ভার্সিটির ছাত্র ছিল। তারা সবাই একসঙ্গে সিরিয়া চলে গেছে আইএসের হয়ে ইসলামী খেলাফত কায়েম করতে। ঠিক কি পরিমাণ বাংলাদেশী আইএসে যোগ দিয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসা যেন এক একটি দূর্গ। এসব মাদ্রাসা বাংলাদেশ সরকারের কোন ধার ধারে না। খোদ বাংলাদেশকেই তারা ধাতব্যের মধ্যে নেয় না। হাজার হাজার মাদ্রাসাগুলো যেন বাংলাদেশের মধ্যে আরব ব-দ্বীপের ‘ছিটমহল’! এসব মাদ্রাসাগুলো থেকে কি পরিমাণ জনবল আইএসে যোগ দিয়েছে সেটা জানাও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

Wednesday, 13 July 2016

কমরেড খালেকুজ্জামানের কথা প্রসঙ্গে

কমরেড খালেকুজ্জামান বললেন, নবীজি জ্ঞান অর্জন করার জন্য সুদূর চীন দেশে যাবার কথা বলেছেন। (সূত্র: নিউজ২৪ টিভি চ্যানেল) নবীজি কতখানি ‘অসাম্প্রদায়িক ও শিক্ষাদীক্ষার অনুরাগী ছিলেন এটা নাকি তার প্রমাণ।… কমরেডদের ইসলামী পড়াশোনা কোন লেভেলের এটা তার একটা প্রমাণ। এরকম কোন হাদিসের অস্তিত্ব যে নেই সেটা কমরেড খালেকুজ্জামান জানেন না। 

কেন যে তারা ইসলামী জঙ্গিবাদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার উপর শতভাগ দোষ চাপান এটা তার অন্যতম একটি কারণ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. সাখওয়াত হোসেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. আবদুর রশিদ, মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ রোজ উনাদের মত স্ব স্ব ক্ষেত্রে সর্বচ্চ জ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের ইসলাম বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা নেই। 

অথচ জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা বলতে হলে, এর বিশ্লেষণ, উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে হলে আপনাকে ইসলাম ধর্মের শুরু থেকে আজতক পর্যন্ত জানা থাকতে হবে। কুরআনের সমস্ত সুরা ও তার তাফসির, অগণিত হাদিস ও সীরাত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে পড়াশোনা না থাকলে অন্ধের হাতি দর্শনের মত জঙ্গি বা জিহাদীদের সঙ্গে সাধারণ অপরাধকে গুলিয়ে ফেলতে হবে এবং বাংলাদেশে রোজ টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে সেটাই হচ্ছে।

Tuesday, 12 July 2016

ক্যাপ্টাগন ঔষধে শুধু মুসলিমরা কেন পতিত হয়?

অতিব দুঃখজনক ও হতাশার কথা হচ্ছে এখন পর্যন্ত একজন ইহুদীকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে সন্ত্রাসী কাজে নামানো গেলো না। ক্যাপ্টাগনের ফর্মুলা ইসলামী দেশগুলোর ফার্মাসিস্টদের কাছেও আছে। 

তারাও ইহুদী তরুণদের ধরে একটা করে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে মুসলিমদের উপর ‘জিহোবা আকবর’ বলে ঝাপিয়ে পড়াতে পারল না। কিংবা শিবসেনা দলের কোন সদস্যকে ক্যাপ্টাগন পিল খাইয়ে ‘হর হর মহাদেব’ বলে কাউকে আত্মঘাতি করা গেলো না। 

ক্যাপ্টাগন খালি মুসলমান ঘরের ছেলেমেয়েগুলো খেয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রস্টিজ পাংচার করে দিচ্ছে। ফ্রান্সের হামলাকারী যে একজন মুসলিম হবে এটা খোদ ফরিদউদ্দিন মাসউদও মনে মনে ঠিকই অনুমান করতে পেরেছিলেন। যারা হররোজ এইসব জিহাদী কাজের পিছনে ইহুদীদের হাত খুঁজেন তারাও এরকম ঘটনা ঘটার পর মনে মনে একজন সম্ভাব্য মুসলিম হামলাকারীর কথাই ভাবেন। কোন বারই তার পরিচয় ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান… হয় না।

Monday, 11 July 2016

ঈদের নামাজে মুসলিমদের হামলা মুসলিমদের উপরেই

আজ একজন বললেন, আইচ্ছা, ঈদের নামাজ যদি কেউ মনে করে ইসলামে নাই তো সে পড়ব না। তারে তো কেউ জোর করতাছে না ঈদের নামাজ পড়তে। যারা পড়তাছে তাদের কেন মারতে যায়? যার যার যেটা বিশ্বাস সেটা নিয়া থাকতে দিলে সমস্যাটা কি?... ভদ্রলোক পরিচিত বলে জানি আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা, তাদের মসজিদে হামলা ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার সময় তিনি ছিলেন এর স্বপক্ষে উচ্চকন্ঠিত। মাজারে বোমা হামলার সময় তাকে বলতে শুনেছি ইসলামের মধ্যে থেকে বিদাত চালিয়ে যাওয়া তো গুরুতর অপরাধ…। 

ভদ্রলোক মুটামুটি পরিচিত ও নিরহ বলে মুখের উপর বলে ফেললাম, সেদিন কাদিয়ানীদের (আহমদিয়া) উপর হামলার সময় যদি এই যুক্তি দিয়ে আমরা সোচ্চার হতাম তাহলে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। হিন্দুদের মন্দিরে হামলার সময় যদি এইরকম যুক্তি দিয়ে তাদের পাশে থাকতাম তাহলে আজকে ঈদের নামাজকে পাহারা দিতে হতো না। নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর এসে না পড়লে আমরা কেউ ‘সেক্যুলারিজমে’ বিশ্বাস করব না। মন্দের ভাল হয়ত এর মধ্যে দিয়েই বাঙালী ফের সেক্যুলারিজমে ফিরতে বাধ্য হবে!

ভাবতে অবাক লাগে, আঘাতগুলো যদি এখনো নাস্তিক ব্লগার, হিন্দু পুরোহিত, সাধারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামিদের উপর সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে আমরা দেশ জুড়ে এক চাপা পৈশাচিক উল্লাস অনুভব করতাম। এই তো সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ফিস ফিস করে দেশত্যাগের কথা বলা শুরু করেছিলেন। অথচ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক মুসলমান আমার কাছে চিন্তিতভাবে বললেন, ভাই, এইদেশে কি শেষতক থাকা যাবে? ছেলেমেয়ে দুটোকে বলেছি বিদেশে কোন ইউনিভার্সিটিতে ট্রাই করতে, বলেছি যেভাবে পারিস চলে যা…। 

Saturday, 9 July 2016

সব জঙ্গিই মুসলমান

উগ্র ইসলাম’ ক্রুর হেসে ‘ভদ্র ইসলামকে’ বলে- তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে…

ননসালাফি ইমাম, আলেম-ওলামা যারা উদার আর শান্তিময় ইসলামের অনুসারী তারা বলছেন, মওদুদিবাদী ও জাকির নায়েক গংরা ইসলামের সুমহান ভ্রাতিত্ব ও সহনশীলতার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে যাতে পরিস্কারভাবে প্রতিয়মান হয় যে, এরা ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ইহুদীদের দেয়া অর্থতেই আহলে হাদিসধারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরাই আইএস, এরাই আনসারুল্লাহ

মনের মধ্যে এতখানি ঘৃণা রেখে, একটা পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ইসলামের শত্রু বলে তাদের প্রতি মুসলিমদের মনে ঘৃণা তৈরি করে কেমন করে তারা ইসলামের উদার ও শান্তিবাদী হলেন? আসলে ইসলামের উদার ও শান্তি হচ্ছে সোনার পাথরবাটি!

ইহুদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এরকম কথা একটা দেশের গণমাধ্যমে অবাধে এইসব উদারবাদীরা বলতে পারেন, কোথাও ‘রেসিজমের’ অভিযোগ উঠে না। কোথাও ‘ইহুদী বিদ্বেষ’ বলে সমালোচনা হয় না। যারা একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের উপর এতখানি বিদ্বেষ প্রসন করতে পারে তারা অন্যসব ধর্মের প্রতি একই মনোভাব প্রসন করতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এদেশে বহিরাগত মুসলিম শাসকরা স্থানীয় হিন্দু রাজাদের হাত থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন। ভারতবর্ষে তাই এই হিন্দুরা অঘোষিত ‘ইহুদী’ মুসলিমদের চোখে। লাহোর প্রস্তাব কিংবা দ্বি-জাতি তত্ত্ব যদি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হতো তাহলে বাঙালী হিন্দুর কপালে ছিল ইহুদীদের মতই ভাগ্যবরণ। 

মুসলিমদের জন্য বাংলা আসামসহ পূর্বাঞ্চলে যে আলাদা রাষ্ট্রের কথা লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সেটি শতভাগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবাংলার বাঙালীদের কোলকাতাসহ আশপাশ ছেড়ে অর্থ্যাৎ বাংলা ছেড়ে অন্য কোন রাজ্যে আশ্রয় নিতে হতো। মাওলানা ভাসানী যে বলতেন, বাংলা আমার, আসাম আমার… এই ‘আমার’ মানে মাটির কথা, মানুষের না। লাহোর প্রস্তাব মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল যেখানে শুধু মুসলমানরাই বসবাস করবে। দেশভাগকালে লাহোর প্রস্তাব ও দ্বি-জাতি তত্ত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। হয়নি বলেই পূর্ব পাকিস্তানে কিছু হিন্দু থেকে গিয়েছিল, ভারতেও চার কোটি মুসলমান থেকে গিয়েছিল।

Friday, 8 July 2016

মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে কি করবে?

একজন সাধারণ ধার্মীক বৃদ্ধ, মাথায় টুপি, মুখে সফেদ দাড়ি। অপরজন যুবক, সাধারণ দেখতে, প্যান্ট-শার্ট পরনে। দুজন কথা বলছিল, আমি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম।

বৃদ্ধ: পিস টিভি দেখে ভারতের হিন্দুরা সব মুসলমান হয়ে যাইতাছিল তাই ভারত সরকার এটাকে বন্ধ করে দিছে।

যুবক: ইউরোপে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এই ভয়ে ইহুদীরা জঙ্গি সাইজা এইসব হামলাটামলা করে মুসলমানদের নাম দিতাছে।


বৃদ্ধ: মুসলমানের সংখ্যা বাড়াতে ইহুদী-নাসারাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে!...

এই বৃদ্ধ বা ঐ যুবককে আমাদের দেশে শান্তিপ্রিয় ধর্মভীরু হিসেবে দাবী করা হয়। তারা মন্দির ভাঙ্গতে যায় না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করতে যায় না। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে ইত্যাদি ইত্যাদি…।

একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে গেলে পশ্চিমাদের মাথা খারাপ কেন হবে?

-হবে না! মুসলমানদের হাতে তখন ক্ষমতা চলে যাবে!

-গেলে কি সমস্যা?

Thursday, 7 July 2016

কাশ্মীর সমস্যা

কাশ্মীর....নিরস্ত্র কিশোর-তরুণদের উপর Pellet বুলেটের ব্যবহার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণের আজাদীর সংগ্রামের কথা সবারই জানা--যদিও চারিদিকে নীরবতার দেয়ালও প্রবল। সম্প্রতি সেখানে নতুন করে দমন পীড়ন চলছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের যুদ্ধাপরাধও ঘটছে। গত ১০ দিনে সেখানে ৪০ জনকে গুলি করে মারা হয়েছে। আহত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। এই আহতদের অনেকেই মূলত Pellet বুলেটে আঘাতপ্রাপ্ত। আগের চেয়ে এর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। ভারতের সেনাবাহিনী সেখানে বেসামরিক মানুষের উপর, বিশেষত শিশু-কিশোর- তরুণদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থার মতো Pellet বুলেট ব্যবহার করছে।

Pellet বুলেটগান হলো, নতুন ধারার এক শর্টগান। যার ব্যবহারে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হবে না, কিন্তু শারীরিক ক্ষতি হবে। শরীরের উপরের অংশে, বিশেষত চোখে আক্রান্ত হলে তাতে ব্যপক ক্ষতি হয়। SOP বা Standard Operating Procedure অনুযায়ী...লাঠি-টিয়ার গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহার করেও বেসামরিক জনতাকে শান্ত করা না গেলেই কেবল কোমরের নিচে লক্ষ্য করে Pellet বুলেট ব্যবহার করা যায়।

Wednesday, 6 July 2016

ফ্রান্স আক্রমণ নি দু'কথা

ফ্রান্সের নিসে শহরে নিহিত ৮৪ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু! ট্রাকের চাকার নিচে তাদের নরম শরীর পিষে গেছে আল্লাহো আকবর ধ্বনিতে। নিহিত কাফের নারী ও শিশুরা টার্গেট নন সরাসরি ইসলামী নিয়ম অনুসারে। মূল টার্গেট সক্ষম কাফের পুরুষ। তবে তারা স্ত্রী-সন্তান দ্বারা ঢাল হিসেবে থাকলে কাফের নারী ও শিশুরাও আক্রমনের লক্ষ্য হবে আর এতে কোন দোষ নাই। 

সহি হাদিস হচ্ছে- সা’ব ইবনু জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলমানদের রাত্রিকালের অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের মুশরিকদের কিছু মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তাহলে কি হবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেছিলেন, “তারা মুশরিকদের সাথে বলেই গণ্য হবে।” (সহীহ বুখারীঃ ৩০১২, ২৩৭০, সহীহ মুসলিমঃ ৭৫৪৫, আবু দাউদঃ ২৬৭২, তিরমিযীঃ ১৫১৭, ইবনু মাজাহঃ ২৮৩৯, আহমাদঃ ২৭৯০২, মালেকঃ ৯৮১, দারেমীঃ ২৬৪২)

ফ্রান্স হামলাকারীরা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নন কিনা সে সম্পর্কে দুদিন পরেই সন্দেহ পোষন শুরু হয়ে যাবে কারণ হামলাকারীরা নির্বিচারে শিশু, নারীদেরকেও পিষে মেরে ফেলতে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল তাদের উপর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আতংকিত বাবা-মার কোলে অবোধ শিশু, প্রাণ ভয়ে দৌড়াচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। তো, হামলাকারীরা মুসলমান নাকি পায়জামা সেটা নির্ধারন কারার কোন গরজ আমার নেই, আমি শুধু ম্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই নির্বিচারে হামলার নজির বা দলিল আছে। 

বাঙালী মুসলমানের মন-১

শাফিন-হামিন কি জামাত করে? আবদুর নূর তুষার, ফারুকী, তাহসান, ন্যান্সি… কি জামাতী? আপনাদের স্মরণ রাখা উচিত জামাত ৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধতা করেছিল! দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী ছিল তারা। মূলত বাঙালী মুসলমানদের অগ্রসর প্রজন্মই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। 

আমরা যে মানসিকতা আমাদের সমাজের সব স্তরের সেলিব্রেটিদের মধ্যে এখন দেখছি সেটাকে ‘জামাতী’ বলে ছোট করে ফেলছি। বাংলাদেশে এখন যেটা জেগে উঠেছে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্যে যারা প্রক্টিক্যালি হয়ত ইসলাম ধর্মকে পালন করেন না- সেটা পুরোপুরি মুসলিম জাতীয়তাবাদ। জিন্নার মত নাস্তিকও মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছিলেন। 

শফিক রেহমানের মত পুরো দস্তুর সাহেবী লাইফ স্টাইলের লোকজনও হিন্দু-ভারত বিরোধী মুসলমান চেতনার লোক। আমাদের মুক্তমনা ব্লগের কিছু স্বঘোষিত নাস্তিক পর্যন্ত তাদের ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদী’ মানসিকতা নানা রকম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কিংবা দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে নিজের অজান্তে দেখিয়ে ফেলেছিলেন। শাফিন-হামিন কিংবা তাদের মামার বাড়ি জামাত করতেই পারে- কিন্তু ফিরোজা বেগম কিংবা সাবিনা ইয়াসমিন তো জামাত করেন নাই? তারা জানেন জামাত বা হেফাজত কিংবা চরমোনাই পীর ক্ষমতায় এলে তাদের গানবাজনা বন্ধ হয়ে যাবে। তারা সেই রকম কিছু চান না। 

তাদের ভেতরের মুসলমানিত্বটাই আজকে যেটাকে আমরা ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে জানি তার অনুপ্রেরণা ছিল। এই সূত্রেই বলতে পারি সুমন চট্টপাধ্যায় থেকে ‘কবীর সুমনে’ রূপান্তরিত হওয়াটা তো জামাতী না। ফরিদা পারভীনের মত শিল্পী যিনি ‘সাঁইজি’ বলে লালনের দর্শনকে তার মধ্যে আত্মস্ত বলে দাবী করেন, তিনি যখন জিসাসের মত সংস্কৃতি সংগঠনে গিয়ে বসেন তখন তাকে ‘জামাতী’ বলা মানে বাঙালী মুসলমানের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণটিকেই আপনি লঘু করে চেপে গেলেন।

Tuesday, 5 July 2016

হাসনাত করিম ও কিছু কথা

একটা লোক বিশজন মানুষকে মাথা ঠান্ডা করে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখে চিংড়ি মাছ দিয়ে সেহরি খেয়েছিল। সে একা না, তার হিজাবী বউ সমেত চিংড়ির মাথা চিবিয়ে মগজ উপড়ে নিয়েছিল তৃপ্তিসহকারে। অথচ এরা নাকি কয়েক ঘন্টা আগে কিছু নিরপরাধ মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে দেখেছিল। সবাই মারা গেলেও তারা অক্ষত ছিল কারণ তারা সহি মুসলমান ছিল। এটা তারা নিজেরাই বের হয়ে এসে প্রকাশ করেছিল। জঙ্গিদের কাছ থেকে সহি মুসলমানের সার্টিফিকেট পাওয়া সেই দম্পত্তি এখন নাকে কাঁদছেন তাদের জীবন নাকি ঝুঁকিতে আছেন! বাহ!

গুলশান হামলায় নিরাপদে, হেলেদুলে মুক্তি যাওয়া হাসনাত করিম ও তার পরিবার এখন অ্যামনেস্টির কাছে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শুনেছি চিঠিপত্র চালাচালি করছে। নেস্টিও নাকি তাদের বাঁচাতে চিঠি চালাচালি করছে। একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার সময় এই নেস্টি মুখে কুলুপ এটে বসেছিল। তারপর যারা ৪৪ বছর আগে সেই গণহত্যা ঘটিয়েছিল তাদের বিচার ৪৪ বছর পর করতে গেলে তাদের মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে বিচারের বিরোধীতা করেছে। 

Monday, 4 July 2016

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরী

আর্টিজানে থাকা ও সন্দেহের চূড়ান্তে এখন যে রয়েছে সেই হাসনাতের ও তার স্ত্রী'র বক্তব্যের ব্যাপারে কয়েকটি জিনিস হয়তবা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আমাদের মত আম পাব্লিক জানতে চায়।

(১) তার মেয়ের জন্মদিন ছিলো বলে সে বলেছে। এটি কি খতিয়ে দেখা হয়েছে, যে ওইদিন মেয়েটার আদৌ জন্মদিন ছিলো কি না?

(২) হাসনাতের পেছনে যে মহিলা গুলো বের হয়ে গিয়েছে, তাদের কে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? হাসনাতের স্ত্রী বলেছে যে তাদের কলেমা পড়তে বলা হয়েছিলো। এটা কতদূর সত্য? উনাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ কি করা হয়েছে?


(৩) ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈন এর বাবা বলছে ভোর ৬ টায় তারিশি তাঁকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর বর্ণনায় জানা গেলো ঢুকবার পর পর তারিশিকে গুলি করে বা কুপিয়ে মেরেছে। তাহলে কোনটা সত্য?

Sunday, 3 July 2016

মুসলমানদের গোঁজামিল

বনু কুরাইজা ইহুদী গোত্রের সাতশ বালক-পুরুষদের কি “ক্যাপ্টাগন” পিল খেয়ে হত্যা করা হয়েছিল? খয়বর সর্দারের স্ত্রীকে তার স্বামীর লাশের উপর দিয়ে বাসরঘর করার মত অমানবিকতা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে করা হয়েছিল? ১৯৭১ সালে সাকা, নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদরা কি ক্যাপ্টাগন পিল খেয়ে নির্মম নৃশংসতা করেছিল? আপনাদের নির্লজ্জ্ব ইতরের মত জঙ্গিদের হয়ে সাফাই গাওয়া, জিহাদকে ধুয়েমুছে পরিস্কার করার নোংরা প্রচেষ্টা শেষতক টিকবে না এটা জেনে রাখুন! অনেকদিন থেকেই জিহাদীদের ইহুদী, মোসাদ, র’ ইত্যাদি বলে জোর প্রচার চালিয়ে গেছে মুসলিম প্রাধান দেশের মুসলিম সরকার ও জনগণ। কিন্তু পরিস্কার বাংলায় কথা বলা এইদেশের ছেলেরা যখন দলে দলে ধরা পড়া শুরু করল তখনই প্রলাপ বকতে শুরু করল, এরা মুসলমানই নয়, এরা ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করে না…। 

এটাও যখন ধোপে টিকছিল না তখনই একটা সায়েন্স ফিকশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। “ক্যাপ্টাগন অ্যাম্ফিটামিন” নামের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পিলের নেশায় আসক্ত হয়েই জঙ্গিরা বিবেক বিবেচনা বর্জিত নানা নৃশংসতায় মেতে উঠছে। এই নেশাজাত দ্রব্যটি গ্রহণের কারণে জঙ্গিদের উন্মত্ততা আরও বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর পরোয়া না করেই তারা যে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে…। 

নিব্রশ, মুবাশ্বের ইত্যাদি জিহাদীরা ঠান্ডা মাথায় বিশজন নিরহ মানুষকে খুন করার পর থেকেই তাদেরকে “আমাদের সন্তান” “কেন তারা বিপথে গেলো” “ওদের ভালবাসা দিতে হবে” ইত্যাদি বলে বলে ওদের নিষ্ঠুরতার প্রতি সবাইকে অবচেতন করে দেয়ার চেষ্টা হলো। দেশে যে এত সমাজ বিজ্ঞানী পথেঘাটে ঘুরে বেড়ায় সেটাও জানা হলো। টকশোতে তাদের একজন না একজন হাজির হচ্ছে এবং তাদের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে জঙ্গিদের কাজকে ঐশির বাবা-মাকে খুন করার মত সামাজিক অবক্ষয়ে গড়ে উঠা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জুড়ে দেয়া।