ফ্রান্সের নিসে শহরে নিহিত ৮৪ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু! ট্রাকের চাকার নিচে তাদের নরম শরীর পিষে গেছে আল্লাহো আকবর ধ্বনিতে। নিহিত কাফের নারী ও শিশুরা টার্গেট নন সরাসরি ইসলামী নিয়ম অনুসারে। মূল টার্গেট সক্ষম কাফের পুরুষ। তবে তারা স্ত্রী-সন্তান দ্বারা ঢাল হিসেবে থাকলে কাফের নারী ও শিশুরাও আক্রমনের লক্ষ্য হবে আর এতে কোন দোষ নাই।
সহি হাদিস হচ্ছে- সা’ব ইবনু জাসসামা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলমানদের রাত্রিকালের অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের মুশরিকদের কিছু মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তাহলে কি হবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেছিলেন, “তারা মুশরিকদের সাথে বলেই গণ্য হবে।” (সহীহ বুখারীঃ ৩০১২, ২৩৭০, সহীহ মুসলিমঃ ৭৫৪৫, আবু দাউদঃ ২৬৭২, তিরমিযীঃ ১৫১৭, ইবনু মাজাহঃ ২৮৩৯, আহমাদঃ ২৭৯০২, মালেকঃ ৯৮১, দারেমীঃ ২৬৪২)
ফ্রান্স হামলাকারীরা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নন কিনা সে সম্পর্কে দুদিন পরেই সন্দেহ পোষন শুরু হয়ে যাবে কারণ হামলাকারীরা নির্বিচারে শিশু, নারীদেরকেও পিষে মেরে ফেলতে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল তাদের উপর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আতংকিত বাবা-মার কোলে অবোধ শিশু, প্রাণ ভয়ে দৌড়াচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়। তো, হামলাকারীরা মুসলমান নাকি পায়জামা সেটা নির্ধারন কারার কোন গরজ আমার নেই, আমি শুধু ম্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই নির্বিচারে হামলার নজির বা দলিল আছে।
৬২৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে বনু কুরাইজা ইহুদীদের অবরোধ করেছিলেন নবী হযরত মুহাম্মদ। খন্দকের যুদ্ধে খন্দক খননের জন্য কোদাল, কাস্তে দিয়ে নবীকে সাহায্য করা এই বনু কুরাইজা ইহুদীদের অবরোধ করা ছিল বিস্ময়কর। তাদের প্রতি অভিযোগ করা হয় কুরাইশরা মুসলমানদের অবরোধ করে রাখার সময় গোপনে এই ইহুদী গোত্র কুরাইশদের সহায়তা করেছিল। যদিও অবরোধ অবস্থায় এরকম সহায়তা করার সম্ভাবনা একেবারেই সম্ভব নয়। তবু তর্কের খাতিরে এই অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও বনু কুরাইজা গ্রোত্রের কিশোরদের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহিৃত করে তাদের হত্যা করা কতটা গ্রহণযোগ্য?
নির্বিচারে ইহুদীদের নারী ও শিশুদের দাসে পরিণত করার যুক্তি কি হতে পারে? তারা তো নিরপরাধী। ষড়যন্ত্র যদি করে থাকে সেটা করেছে গোত্রের মোড়লরা, এইসব অবলা নারী ও শিশুদের তো কোন অপরাধ নেই। মাত্র বারো বছরের কিশোরদের নিম্মাঙ্গের চুল দেখে তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়ে হত্যা করা হয়েছিল যারা জানতই না ঠিক কি তাদের অপরাধ! কুরআনে এই ঘটনা অত্যন্ত গর্ব করে বর্ণনা করা হয় এভাবে- ‘(তাদের) কতককে তোমরা হত্যা করেছো ও কতককে করেছো বন্দী। এবং তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে তাদের ভূমি, বাড়ীঘর, ধন্তসম্পদ ও খামারের অধিকারী করেছেন। আল্লাহ সর্বদা সবকিছু করতে সক্ষম’ (কুরআন ৩৩:২৬-২৭)।
ঠিক এরকমভাবে ইহুদীদের সমস্ত গোত্রকে মদিনা থেকে হয় উচ্ছেদ, নয়ত হত্যা করে সাজা দেয়া হয়েছে যেখানে অসংখ্য নিরহ মানুষ ছিল যারা কোন রাজনীতি বুঝত না, যারা সামান্য কৃষিকাজ করে জীবন নির্বহ করত। কাজেই ফ্রান্সের হামলাকারীরা নিরহ নারী শিশুসহ নিরপরাধীদের উপর হামলা করেছে তারা কেমন মুসলমান- এরা মুসলমানই নয়- এরা ইসলাম ধর্মকে অনুসরণ করে না ইত্যাদি বললেই দলিল তামাদি হয়ে যাবে না। সত্যকে কেউ চেপে রাখতে পারবে না।

No comments:
Post a Comment