Wednesday, 6 July 2016

বাঙালী মুসলমানের মন-১

শাফিন-হামিন কি জামাত করে? আবদুর নূর তুষার, ফারুকী, তাহসান, ন্যান্সি… কি জামাতী? আপনাদের স্মরণ রাখা উচিত জামাত ৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধতা করেছিল! দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধী ছিল তারা। মূলত বাঙালী মুসলমানদের অগ্রসর প্রজন্মই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। 

আমরা যে মানসিকতা আমাদের সমাজের সব স্তরের সেলিব্রেটিদের মধ্যে এখন দেখছি সেটাকে ‘জামাতী’ বলে ছোট করে ফেলছি। বাংলাদেশে এখন যেটা জেগে উঠেছে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্যে যারা প্রক্টিক্যালি হয়ত ইসলাম ধর্মকে পালন করেন না- সেটা পুরোপুরি মুসলিম জাতীয়তাবাদ। জিন্নার মত নাস্তিকও মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছিলেন। 

শফিক রেহমানের মত পুরো দস্তুর সাহেবী লাইফ স্টাইলের লোকজনও হিন্দু-ভারত বিরোধী মুসলমান চেতনার লোক। আমাদের মুক্তমনা ব্লগের কিছু স্বঘোষিত নাস্তিক পর্যন্ত তাদের ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদী’ মানসিকতা নানা রকম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কিংবা দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে নিজের অজান্তে দেখিয়ে ফেলেছিলেন। শাফিন-হামিন কিংবা তাদের মামার বাড়ি জামাত করতেই পারে- কিন্তু ফিরোজা বেগম কিংবা সাবিনা ইয়াসমিন তো জামাত করেন নাই? তারা জানেন জামাত বা হেফাজত কিংবা চরমোনাই পীর ক্ষমতায় এলে তাদের গানবাজনা বন্ধ হয়ে যাবে। তারা সেই রকম কিছু চান না। 

তাদের ভেতরের মুসলমানিত্বটাই আজকে যেটাকে আমরা ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে জানি তার অনুপ্রেরণা ছিল। এই সূত্রেই বলতে পারি সুমন চট্টপাধ্যায় থেকে ‘কবীর সুমনে’ রূপান্তরিত হওয়াটা তো জামাতী না। ফরিদা পারভীনের মত শিল্পী যিনি ‘সাঁইজি’ বলে লালনের দর্শনকে তার মধ্যে আত্মস্ত বলে দাবী করেন, তিনি যখন জিসাসের মত সংস্কৃতি সংগঠনে গিয়ে বসেন তখন তাকে ‘জামাতী’ বলা মানে বাঙালী মুসলমানের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণটিকেই আপনি লঘু করে চেপে গেলেন।

জামাতের রাজনীতিকে আমরা ঘৃণা করি আসলে কিসের ভিত্তিতে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার জন্যই তো? নইলে জামাত থেকে বাংলাদেশের অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর চাওয়া কি ভিন্ন? ৪৭ সালের দেশভাগ যে সাম্প্রদায়িক মানসিকতা থেকে হয়েছিল সেটা কি জামাতের রাজনীতি থেকে খুব উচু স্তরের কিছু? সেটা কি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতা ছিল না? নোয়াখালী কিংবা ঢাকা দাঙ্গা কারা ঘটিয়েছিল? 

এভাবে ফারুকী, তুষার, শাফিনদের ‘জামাতী’ বলে আসলে তাদের মানসিকতাকে জনগণের কাছে ‘রাজনৈতিক’ করে ফেলছেন। তাই অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমরা ব্লগাররা কয়েক বছর থেকে দেশকে যে ‘বাংলাস্থান’ বলে বিদ্রুপ করছিলাম, কোলকাতার রূপম ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী গায়ক-নায়ক-শিল্পীদের মধ্যে যেটা দেখতে পেয়েছিলেন তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলেছিলেন। 

আর এই ‘মিনি পাকিস্তান’ কিংবা আমাদের ভাষায় ‘বাংলাস্থান’ কিন্তু আইএস বা আনসারুল্লাহদের কথিত খিলাফতের অনুরূপ নয়। জামাতের আল্লাহ’র শাসনও নয়। এটা বিসমিল্লাহ বলে মদ খাওয়ার তড়িকার মতন!

No comments:

Post a Comment