একজন সাধারণ ধার্মীক বৃদ্ধ, মাথায় টুপি, মুখে সফেদ দাড়ি। অপরজন যুবক, সাধারণ দেখতে, প্যান্ট-শার্ট পরনে। দুজন কথা বলছিল, আমি পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম।
বৃদ্ধ: পিস টিভি দেখে ভারতের হিন্দুরা সব মুসলমান হয়ে যাইতাছিল তাই ভারত সরকার এটাকে বন্ধ করে দিছে।
যুবক: ইউরোপে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে এই ভয়ে ইহুদীরা জঙ্গি সাইজা এইসব হামলাটামলা করে মুসলমানদের নাম দিতাছে।
বৃদ্ধ: মুসলমানের সংখ্যা বাড়াতে ইহুদী-নাসারাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে!...
এই বৃদ্ধ বা ঐ যুবককে আমাদের দেশে শান্তিপ্রিয় ধর্মভীরু হিসেবে দাবী করা হয়। তারা মন্দির ভাঙ্গতে যায় না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করতে যায় না। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে ইত্যাদি ইত্যাদি…।
একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে গেলে পশ্চিমাদের মাথা খারাপ কেন হবে?
-হবে না! মুসলমানদের হাতে তখন ক্ষমতা চলে যাবে!
-আপনে ভাই সহজ জিনিসটা বুঝেন না? তখন তো মুসলমানদের কথায় ইউরোপ চলবে-এইটা কি ইহুদী-নাসারাদের সহ্য হইব?
-মানে কি? মুসলমানরা তখন ইউরোপকে ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ বানাবে? গণতন্ত্র আর সেক্যুলারিজমকে উঠিয়ে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করবে?
যাকে প্রশ্ন করেছি তিনি আর উত্তর করেননি। যারা মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, মুসলমনাদের কথায় চলবে, মুসলমনাদের দেশ হয়ে যাবে’- এইরকম সাম্প্রদায়িক স্বপ্ন দেখেন তারা যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে কি করবে সেটা তো আর বলে দিতে হয় না।
কথায় কথায় এদেশে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে অমুক জিনিস চলবে না, তমুক মানি না শুনতে শুনতে আমরা বড় হয়েছি। তাহলে দেখছি পশ্চিমাদের ভয় পাওয়াটা অমূলক নয়?
No comments:
Post a Comment