Wednesday, 10 August 2016

ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?

ছেলেটার প্রোফাইলে গিয়ে দেখা গেলো সে গিটার বাজিয়ে গান গায়। কিংবা সে সানি লিয়নের পেইজে লাইক দিয়েছে। কিংবা কারিনা কাপুড়ের সঙ্গে নেচেছিল। তাহলে সে কি করে জঙ্গি হয়? এই ‘কি করে জঙ্গি হয়’ এই প্রশ্ন কিন্তু সন্দেহ ও বিস্ময়ের। যাদের প্রশ্নে সন্দেহ প্রকাশ পায় তারা জঙ্গিদের ধার্মীক মুসলমান হিসেবেই মানেন। আর যাদের প্রশ্নে বিস্ময় তারা বলতে চান- এরকম আধুনিক ছেলে কি করে জঙ্গি হয়? অথচ এরা কেউ কি বলতে পারবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ইসলাম বলতে কিছু আছে? 

আপনি কোন ইসলামের সমর্থক? কন্ঠ শিল্পী হায়দার আলী কুরআন-হাদিস খুঁজে ইসলামে গান হারাম খুঁজে পাননি। আবার লালন সংগীতের কিংবদন্তি ফরিদা পারভীনের স্বামী এই পদ্মা এই মেঘনা, যমুনা সুরমা নদী তটে অথবা তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির মত জনপ্রিয় গানের সৃষ্টা গীতিকার সুরকার আবু জফর গানবাজনাই ছেড়ে দিলেন কারণ ইসলামে এসব ঘোরতর নিষিদ্ধ। স্ত্রী ফরিদা পারভীনকে গান ছাড়াতে চেষ্টা করেছিল। তাতেই দুজন পৃথক হয়ে যান। একদা লালন ভক্ত আবু জাফর তাহলে কোন ইসলামের অনুসারী? হায়দার আলীও নামাজি - তিনি কোন ইসলামের অনুসারী? ইসলামের শেষ সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করে দিবে?


জিন্স টি-শার্ট পরে স্মার্ট ইসলামিস্ট ছেলে যেমন আছে, আবার ইসলামিস্ট হবার পর শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পুরোদস্তুর হুজুর পোশাক পরিধান করার ট্রেডিশান তো আছেই। আমার দাড়ি রাখা নামাজী কলিগের মোবাইলে ৫ জিবির পুরোটাই পর্ণ মুভিতে ভরা। একদিন তাকে বলেছিলাম, তার মত ইসলামিস্ট হয়েও পর্ণ দেখাটা তো ঠিক যায় না…। সে একটুও অপ্রতিভ না হয়ে বলেছিল, ঠিক আছে, পর্ণ দেখা ঠিক না, তবে আমাদের দেশ তো ইসলামী শাসনে কোনদিন চলেনি। তাই এখানে নানা রকম অনুসঙ্গ আছে যা ইসলামী সমাজে থাকবে না। অনৈসলামীক সমাজ ব্যবস্থায় মুসলমানরাও এসবের জড়াবে- তার জন্য তো পাপ হবে- তার ক্ষমাও আছে। যখন ইসলামী সমাজ কায়েম হবে তখন এইসব পর্ণ কেউ দেখার সাহসও করবে না…।

Tuesday, 9 August 2016

জঙ্গী তাহমিদ

এবার হাসনাত করিম ইহুদী ছিল কিনা কিংবা তার সঙ্গে তেল আবিবের কোন সংযোগ ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে কি? টকশোর বুইড়া দামড়ারা এতকাল কিভাবে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আইএসের ওয়েব সাইট ও সাইট ইন্টিলিজেন্সের কাছে পৌঁছে যায় সেটা ভেবে জ্বর এনে ফেলেছিলেন। তারা এসব থেকেই বুঝে ফেলেছিল জঙ্গি হামলার সঙ্গে কোন মুসলমান ও ইসলামের সম্পর্ক নেই। যাই হোক, অনেক নতুন কিছু জানার সঙ্গে সঙ্গে এটাও জানা গেলে ইহুদীরা সেহরি খায় চিড়িং মাছ দিয়ে। 

হাসনাত করিমের ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায় তার মোবাইল ফোন থেকেইহত্যার রক্তাক্ত ছবিগুলো তৎক্ষণাত পৌঁছে দেয়া হয় বিভিন্ন সাইটে। পাশ্ববর্তি একটা ক্লিনিক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের আজীবনের শত্রু কাফের কোরিয়ান নাগরিক কিছু ভিডিও ও স্টিল ফটো তুলে যাতে হাসনাত করিমকে জঙ্গিদের সঙ্গে মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। তার মানে সে সহি মুসলমান না। সেও জঙ্গিদের মত ইহুদী ছিল! ছবিতে আরো দেখা যায় তাহমিদকে অস্ত্র হাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে। এই তাহমিদও ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছিল কিনা, তেল আবিব ভ্রমণ করেছিল কিনা সেটা কি পরীক্ষা করা হবে?

Saturday, 6 August 2016

মুসলমান্দের সিলেক্টিভ প্রতিবাদ

টেলিভিশন দেখে এখন ভারি মজা লাগে! মাইক্রোফোন ধরলেই দেখি জনতা বলছে, এভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কোন নিয়ম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হিজাবীনি শিক্ষিকা বললেন, মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েমের কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। আরেকজন প্রশ্ন করলেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমনাকে হত্যা করে কিভাবে এরা ইসলাম কায়েমের দাবী করে? অর্থ্যাৎ, ইসলাম কায়েম বিষয়ে এদের কোন দ্বিমত নেই, পন্থা নিয়ে দ্বিমত আছে! এদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- ইসলাম যদি বলত মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েম করতে হবে- তাহলে তারা ইসলামের সঙ্গে দ্বিমত হতেন কিনা?

জঙ্গি দুই প্রকার, মানসিকভাবে জঙ্গি, সশস্ত্র জঙ্গি। লড়াইটা এখন এই দুই জঙ্গির মধ্যে চলছে। আগে এক জঙ্গি মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গলে অন্য জঙ্গি গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলত। এক জঙ্গি সংখ্যালঘুদের দেশান্তরিন করলে অন্য জঙ্গি- হিন্দুরা ভাল চাকরি-বাকরি পাবার জন্য ইন্ডিয়া চলে যায়। শিয়া-আহমদিয়াদের একদল বোমা মেরে, মসজিদে হামলা করলে অন্যদল- শিয়া-আহমদিয়ারা ‘ইসলামকে বিকৃতি’ করছে।

Monday, 1 August 2016

মুসলমানের দেশপ্রেম আসলে বিদ্বেষ

এটা একটা বিরাট স্বস্তির বিষয় যে বাংলাদেশী ব্যান্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় যে শিল্পী ভারত বিদ্বেষীর অভিযোগ উঠিয়েছেন তার নাম ‘রূপম ইসলাম’, ‘রূপম গাঙ্গুলী’ হলেই মাইলস ও তার ভক্তরা এক সুরে গাইতে পারত, ‘হিন্দুরা আসলে মুসলমানদের ভাল দেখতে পারে না’! আফসোস তাদের জন্য, এক্ষেত্রে রূপম ইসলাম তার দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশী ব্যান্ড মাইলসকে। মাইলস সেই ঘৃণা প্রকাশকে তাদের ‘দেশপ্রেম’ হিসেবে দাবী করেছেন। বলেছেন, ‘আমার দেশের ক্ষতি হয় এমন বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাইতেই পারি, সে অধিকারও আমার আছে’।…

ক্রিকেট খেলায় হারলে কি করে দেশের ‘ক্ষতি’ হয় এবং সেটা কি করে দেশপ্রেম গোছের কিছু দাঁড়ায় সেটা মাইলস কেন কোন বাংলাদেশীকেই বুঝানো যাবে না। বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলাকালে গোটা দেশের মানুষ যেভাবে প্রচন্ড ঘৃণা ছড়িয়েছিল সেকথা তো এখনো ভোলার নয়। আমরা গুটি কয়েক মানুষ তখন এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিস্তর গালাগালি খেয়েছি, এখনো খাই, আজকেও খাবো…। 

বাংলাদেশের সব স্তরের সেলেব্রেটিদের চেহারা তখন ফুটে বেরিয়েছিল। তাদের ‘হিন্দু বিদ্বেষের’ নমুনা ফুটে বেরিযেছিল ‘দাদাবাবু-ধুতি’ ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহার করে। রেডিওতে সুবর্ণা মুস্তফা থেকে শুরু করে টেলিভিশনে মুস্তফা ফারুকী, ইরেশ জাকের থেকে ছোট-বড় সেলেব্রেটিরা তাদের উপস্থিতি দিয়ে এমন একটা পরিবেশ, তাদের মন্তব্য দিয়ে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন মনে হয়েছিল, এই খেলা নিয়ে না দুই দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। কতখানি ঘৃণা আর বিদ্বেষ মনে লুকিয়ে রাখলে দেশপ্রেমের আড়ালে এই বিদ্বেষ প্রকাশ পায় সহজে অনুমেয়।