টেলিভিশন দেখে এখন ভারি মজা লাগে! মাইক্রোফোন ধরলেই দেখি জনতা বলছে, এভাবে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কোন নিয়ম নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হিজাবীনি শিক্ষিকা বললেন, মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েমের কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। আরেকজন প্রশ্ন করলেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমনাকে হত্যা করে কিভাবে এরা ইসলাম কায়েমের দাবী করে? অর্থ্যাৎ, ইসলাম কায়েম বিষয়ে এদের কোন দ্বিমত নেই, পন্থা নিয়ে দ্বিমত আছে! এদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- ইসলাম যদি বলত মানুষ খুন করে ইসলাম কায়েম করতে হবে- তাহলে তারা ইসলামের সঙ্গে দ্বিমত হতেন কিনা?
জঙ্গি দুই প্রকার, মানসিকভাবে জঙ্গি, সশস্ত্র জঙ্গি। লড়াইটা এখন এই দুই জঙ্গির মধ্যে চলছে। আগে এক জঙ্গি মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গলে অন্য জঙ্গি গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলত। এক জঙ্গি সংখ্যালঘুদের দেশান্তরিন করলে অন্য জঙ্গি- হিন্দুরা ভাল চাকরি-বাকরি পাবার জন্য ইন্ডিয়া চলে যায়। শিয়া-আহমদিয়াদের একদল বোমা মেরে, মসজিদে হামলা করলে অন্যদল- শিয়া-আহমদিয়ারা ‘ইসলামকে বিকৃতি’ করছে।
মুক্তমনা নাস্তিক ব্লগারদের খুন করার সময় অন্য গ্রুপ- আমার ধর্ম নিয়া কিছু বললে চুপ করে থাকব নাকি! পাহাড়ীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে অন্যগ্রুপ- ওরা কিসের আদিবাসী, ওরা বাংলাদেশে বহিরাগত! সংখ্যালঘু পুরোহিতকে খুন করে রেখে গেলে অন্য গ্রুপ- আমেরিকাতে এরচেয়ে বেশি খুনাখুনি হয়। …ওরা ইহুদীদের সৃষ্টি। ওরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সৃষ্টি। ওরা র’য়ের সৃষ্টি।
সেই মানসিক জঙ্গিরা এখন আক্রান্ত। হয়ত খুব দ্রুত সশস্ত্র জঙ্গিদের সাময়িক একটা পরাজয় আসন্ন। তারপর ফের আগের অবস্থায় দেশ ফিরে যাবে! যে দেশে গুজরাট দাঙ্গা দিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে জাস্টিফাই করা হবে। হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়া প্রশ্ন তোলা হবে। শিয়া-আহমদিয়ারা আক্রান্ত হলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম বিকৃতির অভিযোগ তোলা হয়। মুক্তচিন্তার লেখকদের গর্দানে কুপোনোর একটা সাধারণ লাইসেন্স দেয়া হবে। এটাই স্বাভাবিক বাংলাদেশ। সেখানেই ফিরে যেতে চাচ্ছে ‘সুফি শান্তিবাদী সুন্নী মুসলমান বাঙালী’ !

No comments:
Post a Comment