Tuesday, 13 September 2016

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও সন্ত্রাসী হামলার ভয়

বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে ইংল্যান্ড দলের অক্টোবর সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন শংকা। বাংলাদেশে অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা ও গুপ্ত হত্যার নানাবিধ ঘটনায় শ্নগকিত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। এখন তাঁদের বাংলাদেশ সফর হবে কি হবেনা এটি ঝুলে রয়েছে অনেকটা ভাগ্যের মতনই।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা প্রধান সহ ই সি বির অনেক কর্তা ব্যাক্তিরা ঘুরে গেছেন বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বুঝে নেবার জন্য। এসময় তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ সহ সরকারের অনেক উচ্চ পর্যায়েও বৈঠকের পর বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের মত এমন একটি দেশে জঙ্গীদের উৎপাত হবে এমনটা কোনোদিন ভাবিও নি। ব্লগারদের হত্যা করবার পর সরকারের গা ছাড়া ভাব আর উদাসীনতা এখন গুলশান হামলার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর জঙ্গীদের আক্রমনের পরেও সরকার কখনোই এইসব হামলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি যার ফলাফল হিসেবে ডক্টর অভিজিৎ রায়, রাজীব হায়দার, জুলহাজ মান্নান, মাহবুব তনয়, রাকিব মামুন, ফয়সাল আরেফীন দীপন, অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর বাবুদের মত তরুন লেখকেরা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন জোঙ্গী খুনীদের হাতে।

সরকার কখনই এইসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়নি বরং তারা লেখকদের লেখার ব্যাপারে আরো পরিমিত ও সাবধানী হবার ব্যাপারেই সতর্ক করে গেছে। এতে করে জোঙ্গীরা ক্রমাগতভাবে উৎসাহ পেয়ে এসেছে এবং এয়াস্তে আস্তে বেড়ে উঠে বড় বড় আক্রমনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

গুলশান হামলায় অনেক বিদেশি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল৷ তখন ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন অনেকই৷নিরাপত্তা নিয়ে লম্বা সময় আলোচনার পর বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দল৷ ঢাকা এবং চট্টগ্রামে মোট পাঁচটি ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামছে দলটি, যার তিনটি একদিনের এবং দু'টি টেস্ট ম্যাচ৷ তবে ইংলিশ দলের দু'জন খেলোয়াড় এবং একটি সমর্থক গোষ্ঠী নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশে সফরে অংশ নেয়নি৷ গত জুলাইয়ে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ বিদেশিসহ কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি নিহতের পর, এটাই দেশটিতে বিদেশিদের বড় ধরনের সফর৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট' বা আইএস সেই হামলার দায় স্বীকার করে৷

জঙ্গি গোষ্ঠীর সেই বর্বর হামলা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল এবং অনেক পশ্চিমারাষ্ট্র তখন বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকদের উপর বিভিন্ন সতর্কতা জারি করেছিল৷ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা সত্যিই আছে এবং সেটা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী৷ গুলশান হামলার পর আর কোনো বড় হামলার ঘটনা ছাড়া তিনমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা প্রত্যাহার করেনি৷অনেক সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত

গুলশান হামলার পর সন্ত্রাসীদের দমনে কড়া অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ৷ বিভিন্ন সম্ভাব্য জঙ্গি আস্তানায় তাদের চালানো অভিযানে প্রাণ হারায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গি৷ ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে এক অভিযানে প্রাণ হারায় নয় সন্দেহভাজন, যারা অধিকাংশই শিক্ষিত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান৷ আর ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আরেক অভিযানে প্রাণ হারায় তিন সন্দেহভাজন জঙ্গি, যাদের মধ্যে একজন অতীতে সিরিয়া গিয়েছিল এবং গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড' বলে দাবি করে পুলিশ৷

ঢাকা পুলিশের মুখপাত্র মশিউর রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়নি৷ ‘‘আমরা সন্দেহভাজনদের জীবিত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করি এবং সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে৷ কিন্তু তাদের যদি গ্রেপ্তার সম্ভব না হয় এবং তারা যদি আমাদের দিকে গুলি ছোঁড়ে তাহলে আমাদেরও পাল্টা গুলি ছোঁড়ার আইনি অধিকার রয়েছে'', বলেন তিনি৷‘পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে'

পুলিশের অভিযান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তা ঢাকায় বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছে৷ ঢাকার ডেইলি স্টার পত্রিকায় কর্মরত অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যান্ড্রু ইগল মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে৷

‘‘গুলশান হামলার পর মনে হয়েছিল, সম্ভবত কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারবে না৷ জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক কতটা বড় সে সম্পর্কেও তখন পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল না'', ডয়চে ভেলেকে বলেন তিনি৷ তাঁর কথায়, ‘‘জঙ্গিরা বাংলাদেশে কতটা প্রতিষ্ঠিত সে সম্পর্কে এখন আগের চেয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে৷ এবং আমি মনে করি, তারা সংখ্যায় খুব বেশি নয়৷''

গত আটবছর ধরে ঢাকায় থাকা ইগল অবশ্য স্বীকার করেছেন গুলশান হামলার পর অনেক বিদেশি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন এবং তারা শীঘ্রই আবার ফিরে আসবেন এমন আশা করা যায় না, কেননা এখনো যে কোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটার শঙ্কা রয়ে গেছে৷

‘‘কিন্তু আমার ধারণা, এরকম ভাবনা আজকাল বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য'', বলেন এই অস্ট্রেলীয় নাগরিক৷


No comments:

Post a Comment