Thursday, 30 June 2016

জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাগাদা

জঙ্গিবাদ নির্মূলে ফের বাঙালীর শেকড়ের সন্ধানের তাগাদা দিচ্ছেন দেশের “প্রগতিশীলরা”। বলছেন বাঙালী সংস্কৃতির জাগরণ ঘটাতে হবে। বাঙালীকে আবার তার নিজস্ব শেকড়ে নিয়ে যেতে হবে। নাট্যজন, সংস্কৃতিজন, সাহিত্যিক-কবিরা র্যােলি করেছেন, মানববন্ধন করছেন, তারা বলেছেন ছেলেমেয়েদের মধ্যে নিজেদের বাঙালী জাতিসত্ত্বার উপদানগুলি ফের জাগাতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে বাঙালী শেকড়টা কোথায়? একজন বাংলাদেশীর বয়স সর্বচ্চ ৪৪ বছর কিন্তু বাঙালী তো হাজার বছরের একটা দীর্ঘ ভ্রমণ! আপনি কি সেই দীর্ঘ ভ্রমণে যেতে ইচ্ছুক?

বাঙালী মুসলমান তথা বাংলাদেশী বাঙালীরা মনে করে ১৭৫৭ সালে তাদের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে হরণ হয়ে তারপর দীর্ঘ দুইশো বছরের গোলামী তাদেরকে করতে হয়েছিল। তাদের স্বাধীন নবাব সিরাজকে (মানুষ যাকে লম্পট, মদ্যপ্য, চরিত্রহীন বলে ভয় পেতো) চক্রান্ত করে (সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র!) পরাজিত করে “বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে অস্তমিত করে দেয়”! বিস্ময়কর!! আমি আজো বুঝি না কি করে বাঙালী ১৭৫৭ সালে পরাধীন হয়েছিল? কি করেই বা তার আগে স্বাধীন ছিল? বাঙালীর নিজের কোন শাসক যদি থাকে তো খোঁজ করলে সে কোন হিন্দু রাজাই হবে। সে অর্থে সে কালে স্বাধীন বা পরাধীন বলতে কিছু নেই সাধারণ প্রজাদের। যেটা ছিল বিদেশী শাসক আর দেশী শাসক। কার্যত সবাই ছিল নির্মম শোষক। কিন্তু আরব বংশোদ্ভূত নবাব আলীবর্দী খাঁ, যারা মা ছিলেন তূর্কি উপজাতি তার নাতি সিরাজদৌলা বাঙালীর ‘স্বাধীন’ নবাব ছিলেন, যিনি পরাজিত হওয়ায় বাঙালী দুশো বছর গোলামী করেছিল পরাধীনতার- কি করে সম্ভব!... সুলতান মাহমুদের মত হানাদারদের এদেশের মুসণমানরা নিজেদের গর্বিত পূর্বপুরুষ বলে মনে করে। বখতিয়ারের ঘোড়া নাকি বাংলায় স্বৈরশাসক রাজাকে পরাজিত করে ইসলামের সুমহান সাম্য ছড়িয়েছিল। এহেন ‘প্রগতিশীল ইতিহাস” এতকাল প্রসার করে আজ কোন শেকড়ের সন্ধানের ডাক দিচ্ছেন বৃদ্ধ প্রগতিশীলরা?

Wednesday, 29 June 2016

যারা সিরিয়াতে যাবার পথ ধরেছে তাদের জানা উচিৎ

যারা সপরিবারে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দিতে মনস্থির করে ফেলেছেন তাদের স্ত্রী কিংবা কন্যাদের জিহাদী ভাইদের যারা স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের যৌনক্ষুধা নিবারণ করতে দান করতে হতে পারে সেটা মাথায় রাইখেন। কে কতটুকু ইসলাম জানেন, কার ইসলাম সহি আর অসহি সেটা সেখানে গিয়ে তর্ক করতে পারবেন না। এরকম বহু নারী জিহাদের চুলকানিতে সিরিয়া গিয়ে যখন দেখল তাকে স্রেফ বেশ্যা হিসেবে ব্যবহার করছে তখনই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। এরকম এক ইংলেন্ডবাসী মহিলা আইএস ফেরত কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, তারা মুসলমান না, তিনিভেবেছিলেন… 

ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থ্যাৎ তিনি ভেবেছিলেন, কাফেরদের মেরেধরে হত্যা করে ইসলামী শাসন কায়েম হবে- এটাই ইসলামী জিহাদ। এটুকু সে নেট থেকে, হাদিস থেকে, কুরআন থেকে টুকে নিয়েছিলেন। কিন্তু যখনই যৌনক্ষুধাত্ব জিহাদী ভাই টেনে বিছানায় নিয়েছে ওমনি চিরকালিন নারীসত্ত্বায় গিয়ে আঘাত হেনেছে।

তো, যে সব বাড়িধারা কিংবা গুলশান নিবাসী ধনীর দুলাল, বড় চাকুরে মাথায় সবুজ রঙের টুপি পরে, গোড়ালীর উপর প্যান্ট করে ‘আলহামদুরিল্লাহ’ সপরিবারে সিরিয়া যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন তাদের জানিয়ে রাখি, মক্কা থেকে হিযরত করে মদিনায় যারা গিয়েছিলেন সেই মুহাজ্জিররা অনেকেই তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিতে পারেন নাই বা তাদের সঙ্গে যান নাই তাদের যৌন ক্ষুধা নিবারনের জন্য মদিনাবাসী আনসাররা তাদের একাধিক স্ত্রী-কন্যাকে দান করেছিলেন! হিযরতীরা এদের বিয়ে করেই ভোগ করেছিলেন কিনা, করলেও কি রীতিতে করেছিলেন সেটা অনাবশ্যক প্রসঙ্গ, আসল কথা হচ্ছে এর মধ্যে আছে এটা স্ফূল যৌন লালসা। 

Tuesday, 28 June 2016

ইসলামী খেলাফত প্রসঙ্গে

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে মুসলমানরা ‘খেলাফত আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছিল তুরষ্কের খলিফার খিলাফত রক্ষা করতে! ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিরোধী আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা কিংবা মুসলমানদের ভূমিকা জাতীয় বিকৃত অর্ধসত্য ইতিহাস আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। আসলে এরা মধ্যযুগীয় ইসলামী শাসনের শেষ খলিফার সাম্রাজ্য রক্ষা করার জন্য দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তো, কি ছিল এর উদ্দেশ্য? 

ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত খিলাফত আন্দোলনের এক বৈঠকে খেলাফত আন্দোলনের নেতারা বলেন, “খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে সিরাতে মুস্তাকীমের উপরে চালানোর জন্য সংগঠিত করা এবং দুনিয়াতে আল্লাহ্'র কালামকে বুলন্দ করা। এর জন্য জরুরী হচ্ছে খলীফার হাতে যথাযথ কর্তৃত্ব থাকা। খলীফা বিহীন জীবনই হচ্ছে ইসলাম বিহীন জীবন। খিলাফত বিহনে বসবাস করলে মুসলমানদেরকে আখেরাতে জবাব দিতে হবে…”। 

খেলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কি ছিল বক্তাদের কথা থেকে এখানে পরিষ্কার। অবিভক্ত ভারতবর্ষে রাজনীতি সচেতন মুসলিমরা মনের ভেতর এইরকম সাম্প্রদায়িক বিভাজনই পুষে রাখতেন। তিতুমীর, শরিয়তউল্লাহ তাদের বাঁশের কেল্লায় ইসলামী খেলাফতই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যে খিলাফত মুসলমানদের স্বরাজ। বাকীরা সেখানে জিজিয়া কর দিয়ে নতমস্তকে বসবাস করবে। মুসলিম নেতারা ছিলেন ইংরেজদের তাবেদার। 

প্রথম বিশ্বেযুদ্ধে ইংরেজদের এরা সমর্থন জানিয়েছিল কিন্তু যখনই যুদ্ধ শেষে তুরষ্কের খেলাফতকে বিলুপ্ত করতে যাচ্ছিল তখনই তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সফল করতে ইংরেজরা মুসলমান নেতাদের ঘুষের বিনিময়ে তাদের পাশে নেয়। ঢাকার নবাবকে মোটা অর্থ দিয়ে বঙ্গভঙ্গ সফল করা হয়। এরাই ১৯১৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে খেলাফত আন্দোলন শুরু করে। এ যেন আফগানস্থানে আমেরিকার তালেবানদের সহায়তা করা এবং পরবর্তীকালে তালেবানের আমেরিকা বিরোধী হয়ে যাওয়া…।

Saturday, 25 June 2016

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন গুলশান-শোলাকিয়া ইস্যুতে? আচ্ছা আপনারা কি সালমান রুশদীর মাথার দাম কত সেটা শুনেন নাই? সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমস্ত মাদ্রাসা মিছিল করেছিল। তাসলিমা নাসরিনকে হত্যা করতে, ফাঁসি দিতে, দেশ ছাড়া করতে কি পরিমাণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল স্মরণ আছে? আবদুল লতিফ এমপিকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কতল করার আহ্বানের কথা ভুলে যাননি তো? 

নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে এই ফতোয়া তো এখনো বেশি পুরোনো হয়ে যায়নি। এই ইস্যুগুলোতে শুধু হেফাজত ইসলাম নয়, ওলামা লীগ নয়, গোটা দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। কারণ এরা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। এরা ইসলামের শত্রু। এদের হাত থেকে ইসলাম ধর্মকে হেফাজত করার জন্যই হেফাজত ইসলাম, ওলামা লীগের জন্ম হয়েছে। এবার খেয়াল করুন, এরাই বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক জিহাদী দলগুলোকে, আন্তর্জাতিক কোন সন্ত্রাসী হামলাকে ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছে। অভিযোগটি ভয়ংকর কারণ তারা দাবী করেছে ইহুদীরা এইসমস্ত দল তৈরি করে ইসলামের বদনামে নেমেছে। 

যেসব জিহাদী দলের তাত্ত্বিক নেতা তাদের বয়ানে সশস্ত্র জিহাদের ডাক দেয় তাদের নানা সময় ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী, কুরআন বিকৃতকারী, ইয়াহুদী মোসাদের দালাল ইত্যাদি বলা হয়েছে। রুশদী, নাসরিন, লতিফ সিদ্দিকী, নাস্তিক ব্লগাররা ইসলাম নিয়ে কটুক্তির করায় যদি তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে ফতোয়া আসতে পারে তাহলে এইসব জিহাদী নেতারা যদি সত্যিই কুরআনের বিকৃতি করে থাকে, এতবড় অপরাধ করে কেন তারা বহাল তবিয়তে রয়ে যায়? হেফাজত-ওলামা লীগের কথা বাদ দেন, সাধারণ মুসলমান দেখি ‘অরা ইহুদীদের এজেন্ট’ এটুকু বলেই ঠোট উল্টায়। নাস্তিকদের উপর যে পরিমাণ ঘৃণা এদের চোখে-মুখে দেখেছিলাম, নাস্তিকদের রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে এদের যে অর্গাজম হতে দেখেছি সেটা এখন কোথায়? গুলশানের মৃত ৫ জঙ্গির ছবি দেখে, শোলাকিয়ার ১ জঙ্গির মৃত দেহে দেখে কোথায় সেটা?

Thursday, 23 June 2016

ওয়াজকারীদের ভন্ডামী

"যারা জেহাদ করবে ও শহীদ হবে তাদের আত্নাকে জান্নাতের ভেতরে থাকা একটা সবুজ কালারের পাখির পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। তারপর সবুজ পাখিগুলো ঘুরতে থাকবে। এই গাছে, ঐ গাছে উড়ে উড়ে তারা ফল খাবে। জান্নাতে আল্লাহ যে এয়ারকন্ডিশন ফিট করে রেখেছেন সেটির আশে পাশে একসময় সবুজ পাখি গুলো উন্নততর হাওয়া খাবে আর আরাম করবে। 

আবার যখন ওই সবুজ পাখিগুলোর একটু আয়েশ করবার ইচ্ছা হবে ও ঘুম পাবে তখন ওই পাখিগুলো আল্লাহর আরশের নীচে যেখানে আল্লাহ অনেক বাসা বানিয়ে রেখেছেন সেখানে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে তারপর আবার তারা গাছে গাছে ঘুরবে ও ফল খাবে"

বাণীখানা আমার না। জে এম বি'র শায়খ আব্দুর রহমানের। জঙ্গীবাদের জন্য যার ফাঁসি হয় ২০০৫ কি ২০০৬ সালে।

রহমানের এই জাতীয় ওয়াজ শুনে ও তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক যুবক ও তরুন সবুজ পাখির পেটের ভেতর ঢুকে গাছে গাছে ফল খাবার জন্য বোমা মেরেছে আদালতে, সিনেমাহলে কিংবা খুন করেছে সাধারণ অনেক নাগরিককে।

Thursday, 9 June 2016

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ড ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন

এই বিজ্ঞান সাময়িকীটিকে দেখলে কি কেউ চিন্তা করতে পারবে এটি ইসলামপন্থিদের বিজ্ঞানের কাগজ? আমি নিজে না জেনে কতজনকে এটি কিনতে বলেছি। বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়ে যারা মৌলবাদকে দমনের কথা বলেন তারা ভুদাই! জিরো টু ইনফিনিটি কাগজে বিজ্ঞানের হেন শাখা নেই যা নিয়ে আলোচনা করা হয় না। 

কিন্তু সব কিছুর উপর একজন শক্তিমান সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে সেটি এমন করে উপস্থাপন করা হবে যে, সাধারণ একটা ছেলে বুঝতেই পারবে না। তাদের লক্ষ্যই হলো বিজ্ঞান পাঠের সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দেয়া। এদের এই কারসাজি সহজে ধরা যায় না। অভিজিৎ রায়ও ধরতে পারেননি। পারেননি বলেই তিনিও এই কাগজটিতে লিখেছিলেন। 

লিখেছিলেন কাগজটির উপদেষ্টা ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর অনুরোধে সম্ভবত। অভিজিৎ রায়ের জানা সম্ভব হয়নি এই লোকটিই বাংলা ব্লগের "ছাগু" ত্রিভূজ! অভিজিৎ রায় ও বন্যা আহমেদের উপর আক্রমনের জন্য এই লোকটিকে সন্দেহ করা হয়। তার আমন্ত্রিত বৈঠকের কারণেই সেদিন অভিজিৎ ও বন্যার দেরী হয়ে যায় ফিরতে। তাকে প্রথম থেকে অনলাইনের লেখকরা বার বার সন্দেহজনক বলে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করা হলেও কোন মহলই তাতে কান দেয়নি।...

সাংবাদিকতা অনেক আগেই ইসলামপন্থি রক্ষণশীলদের হাতের মুঠোয় চলে গেছে। সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান একবার লিখেছিলেন, আগে সাংবাদিক হতো বামপন্থি ছেলেমেয়েরা, এখন শিবিরের ছেলেমেয়েরা সাংবাদিকতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোও ইসলামপন্থিদের হাতে চলে গিয়েছে। আমার হাতে জিরো টু ইনফিনিটির ২০১২ সালের জুলাই মাসের সংখ্যাটি রয়েছে যেখানে ফারসীম মান্নানের একটি লেখা আছে 'সুপারনোভা ডার্ক এনার্জি এবং নোবেল পুরষ্কার' নামের। 

মুসলমানদের ভেতরের কালো কালো অন্ধকার

১৯২২ সালে কোলকাতার রাস্তায় আনন্দ মিছিল বের করেছিল মুসলমানরা তুরস্কের কামাল পাশার বিজয় উপলক্ষ্যে! নজরুলের উচ্ছ্বাসিত হয়ে লেখা ‘কামাল তু নে কামাল কিয়া ভাই’ কবিতাটি গাইতে গাইতে তারা রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলমানরা তখন দুইভাগে বিভক্ত। 

গোঁড়া ধার্মীক মুসলমানরা ওসমানিয়া খিলাফতের শেষ সুলতান সুলতান ওয়াহিদুদ্দিন পক্ষে। কিন্তু নজরুলের মত প্রগতিশীল, আধুনিকরা আতার্তুক কামাল পাশার পক্ষে। ভারতবর্ষের মানুষ যেখানে নিজেরাই পরাধীন সেখানে তুরষ্কের খেলাফত নিয়ে তারা শোকে মুর্হমান! আবার আরেক দল কামাল পাশার ক্ষমতায় আরোহনে রাস্তায় ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে। আশ্চর্য হতে হয় ওসমানিয়া খিলফাতের সুলতান ওয়াহিদুদ্দিনকে ভারতের মুসলমানরা নিজেদের খলিফাই জ্ঞান করত!

কবি কাজি নজরুল ইসলাম যখন আমাদের প্রগতিশীলতার একটা ‘ব্র্যান্ডএম্বাসেডর’ হতে পারেন, একইভাবে তিনি যখন ইসলামপন্থি রক্ষণশীলদের হাতে ব্যবহৃত হন তখন যে সত্যটি আমাদের সামনে আসে- মডারেট পন্থা অবলম্বণ করে কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে যুপোযুগি করে তোলার কৌশল ভবিষ্যতে রক্ষণশীলদের হাতে সেটাই অস্ত্র হয়ে দেখা দেয়। আমাদের সকলের একটা ধারনা বদ্ধমূল হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মের সোজাসুজি সমালোচনা করে কিছুতে মন পাওয়া যাবে না।