Saturday, 25 June 2016

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন

হেফাজত ইসলাম চুপ কেন গুলশান-শোলাকিয়া ইস্যুতে? আচ্ছা আপনারা কি সালমান রুশদীর মাথার দাম কত সেটা শুনেন নাই? সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমস্ত মাদ্রাসা মিছিল করেছিল। তাসলিমা নাসরিনকে হত্যা করতে, ফাঁসি দিতে, দেশ ছাড়া করতে কি পরিমাণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল স্মরণ আছে? আবদুল লতিফ এমপিকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কতল করার আহ্বানের কথা ভুলে যাননি তো? 

নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে এই ফতোয়া তো এখনো বেশি পুরোনো হয়ে যায়নি। এই ইস্যুগুলোতে শুধু হেফাজত ইসলাম নয়, ওলামা লীগ নয়, গোটা দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। কারণ এরা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। এরা ইসলামের শত্রু। এদের হাত থেকে ইসলাম ধর্মকে হেফাজত করার জন্যই হেফাজত ইসলাম, ওলামা লীগের জন্ম হয়েছে। এবার খেয়াল করুন, এরাই বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক জিহাদী দলগুলোকে, আন্তর্জাতিক কোন সন্ত্রাসী হামলাকে ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছে। অভিযোগটি ভয়ংকর কারণ তারা দাবী করেছে ইহুদীরা এইসমস্ত দল তৈরি করে ইসলামের বদনামে নেমেছে। 

যেসব জিহাদী দলের তাত্ত্বিক নেতা তাদের বয়ানে সশস্ত্র জিহাদের ডাক দেয় তাদের নানা সময় ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী, কুরআন বিকৃতকারী, ইয়াহুদী মোসাদের দালাল ইত্যাদি বলা হয়েছে। রুশদী, নাসরিন, লতিফ সিদ্দিকী, নাস্তিক ব্লগাররা ইসলাম নিয়ে কটুক্তির করায় যদি তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে ফতোয়া আসতে পারে তাহলে এইসব জিহাদী নেতারা যদি সত্যিই কুরআনের বিকৃতি করে থাকে, এতবড় অপরাধ করে কেন তারা বহাল তবিয়তে রয়ে যায়? হেফাজত-ওলামা লীগের কথা বাদ দেন, সাধারণ মুসলমান দেখি ‘অরা ইহুদীদের এজেন্ট’ এটুকু বলেই ঠোট উল্টায়। নাস্তিকদের উপর যে পরিমাণ ঘৃণা এদের চোখে-মুখে দেখেছিলাম, নাস্তিকদের রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে এদের যে অর্গাজম হতে দেখেছি সেটা এখন কোথায়? গুলশানের মৃত ৫ জঙ্গির ছবি দেখে, শোলাকিয়ার ১ জঙ্গির মৃত দেহে দেখে কোথায় সেটা?

আইএস, আল কায়দা, তালেবান, জেএমবি যদি কুরআনের অপব্যাখ্যাই করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে “শান্তিবাদী আলেমরা” ফতোয়া দেন না কেন? জসিম উদ্দিন রাহমানির বিরুদ্ধে ‘যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে’ এরকম ফতোয়া ইসলাম রক্ষাকারীদের কাছ থেকে কেন আসে না? তারাই তো বলছে এরা কুরআনের অপব্যাখ্যাকারী, ইহুদীদের চর- তাহলে এদের বিরুদ্ধে শুধু একটু মৌখিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েই কেন সবাই চুপ হয়ে যান? 

যারা কুরআনের ‘অপব্যাখ্যা’ করে তারা তো ইসলামের শত্রু, তাদের বিষয়ে কেন বাবুনাগরি-আহমদ শফি নিঃশ্চুপ? জাকির নায়েক-হারুন ইয়াহিয়া লাদেনকে সন্ত্রাসী বলতে রাজি হন নাই। আইএসকে সন্ত্রাসী বলছেন। কেন? কারণ জাকিরের মূল কানেকশন সৌদি আরবে। এতকাল জিহাদের একমাত্র সোল এজেন্ট ছিল সৌদির হাতে। বলতে গেলে গোটা মুসলিম বিশ্বের আলেমওলামাদের পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব। বাংলাদেশের অজপাড়া গায় মাদ্রাসা-মসজিদ হয়েছে সৌদি টাকায়। আইএস সৌদি জিহাদ এজেন্সির বড় চ্যালেঞ্জ। আইএসকে তাই মৌখিকভাবে ‘সন্ত্রাসী’ বলতে তাদের বাধছে না। 

কিন্তু আইএসের বিরুদ্ধে রুশদী, নাসরিন, লতিফ সিদ্দিকী আর নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে দেখানো প্রতিক্রিয়া দেখানো যায় না কারণ আইএস যে কুরআন-হাদিসকে মান্য করেই সেটা করছে তারা সেটা জানেন। কিন্তু নানা রকম পরিস্থিতির কারণে দ্বিনের স্বার্থে তাদেরকে এখন দ্বিন প্রচেষ্টার একটা যুদ্ধকে সন্ত্রাস বলতে হচ্ছে। এটা করা জায়েজ। এটাই ‪#‎তাকিয়া‬। হেফাজত, ওলামা লীগের নিঃশ্চুপও তাকিয়ার অংশ। আর আম জনতার নিশ্চুপতা বোধের মধ্যে দিয়ে ইসলামকে বুঝে নিয়ে তারাও এইসব জঙ্গিদের প্রতি অনুভব করে প্রচন্ড সহানুভূতি। 

ইহুদী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি এই সহানুভূতি আসার প্রশ্নই আসে না। জিহাদীদের প্রতি মুসলিমদের নানা রকম নম্র প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে জঙ্গিরা কুরআন-হাদিসের পথেই আছে।

No comments:

Post a Comment