Thursday, 9 June 2016

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ড ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন

এই বিজ্ঞান সাময়িকীটিকে দেখলে কি কেউ চিন্তা করতে পারবে এটি ইসলামপন্থিদের বিজ্ঞানের কাগজ? আমি নিজে না জেনে কতজনকে এটি কিনতে বলেছি। বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়ে যারা মৌলবাদকে দমনের কথা বলেন তারা ভুদাই! জিরো টু ইনফিনিটি কাগজে বিজ্ঞানের হেন শাখা নেই যা নিয়ে আলোচনা করা হয় না। 

কিন্তু সব কিছুর উপর একজন শক্তিমান সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে সেটি এমন করে উপস্থাপন করা হবে যে, সাধারণ একটা ছেলে বুঝতেই পারবে না। তাদের লক্ষ্যই হলো বিজ্ঞান পাঠের সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দেয়া। এদের এই কারসাজি সহজে ধরা যায় না। অভিজিৎ রায়ও ধরতে পারেননি। পারেননি বলেই তিনিও এই কাগজটিতে লিখেছিলেন। 

লিখেছিলেন কাগজটির উপদেষ্টা ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর অনুরোধে সম্ভবত। অভিজিৎ রায়ের জানা সম্ভব হয়নি এই লোকটিই বাংলা ব্লগের "ছাগু" ত্রিভূজ! অভিজিৎ রায় ও বন্যা আহমেদের উপর আক্রমনের জন্য এই লোকটিকে সন্দেহ করা হয়। তার আমন্ত্রিত বৈঠকের কারণেই সেদিন অভিজিৎ ও বন্যার দেরী হয়ে যায় ফিরতে। তাকে প্রথম থেকে অনলাইনের লেখকরা বার বার সন্দেহজনক বলে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করা হলেও কোন মহলই তাতে কান দেয়নি।...

সাংবাদিকতা অনেক আগেই ইসলামপন্থি রক্ষণশীলদের হাতের মুঠোয় চলে গেছে। সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান একবার লিখেছিলেন, আগে সাংবাদিক হতো বামপন্থি ছেলেমেয়েরা, এখন শিবিরের ছেলেমেয়েরা সাংবাদিকতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোও ইসলামপন্থিদের হাতে চলে গিয়েছে। আমার হাতে জিরো টু ইনফিনিটির ২০১২ সালের জুলাই মাসের সংখ্যাটি রয়েছে যেখানে ফারসীম মান্নানের একটি লেখা আছে 'সুপারনোভা ডার্ক এনার্জি এবং নোবেল পুরষ্কার' নামের। 

মহাকাশ জ্যোতিবিদ্যার একাডেমিক আলোচনার পর লেখাটা সে শেষ করেছে এভাবে, 'আজ আমরা জানি মহাবিশ্বের একটা শুরু আছে, একটা পরিণতি আছে। এর পরিণতি নির্ভর করে অদৃশ্য শক্তির প্রকৃতির ওপর...'।... এই শেষ কথাটুকু বলার জন্যই তাদের এত অর্থব্যয়। তাদের বিজ্ঞানচর্চা। কারণ এই 'অদৃশ্য শক্তি' দিয়েই বহু বিজ্ঞান পড়ুয়ার হাতে চাপাতী তুলে দেয়া যায়। ফারসীম মান্নানদের বিজ্ঞান সাময়িকী চালাবার উদ্দেশ্যও তাই। আর তাদের অপচেষ্টার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিজ্ঞানের উপর বাংলাদেশে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ লেখক অভিজিৎ রায়। তাকে হত্যা করতে পারলে এইসব 'অদৃশ্য শক্তিরা' যে একলা রাজত্ব করতে পারবে সে তো বলাই বাহুল্য...।

No comments:

Post a Comment