আমাদের সেনা বাহিনীকে কিছু শ্বেতহস্তি কিনে দেয়া হয়েছে পুষবার জন্য। হাতির দাম লাখ টাকা, তাকে পুষতেও লাখ টাকা খরচ। এই খরচ দিবে এইদেশের গরীব মানুষ। কারণ এই মানুষগুলো যখন “বর্হিশত্রুর” আক্রমনের সম্মুখিন হবে তখন বীর সেনানীরা এই শ্বেতহস্তিগুলো দিয়ে আমাদের রক্ষা করবেন। কাজেই পিঠের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানিয়ে হলেও এই বিপুল খরচ মেটাতে হবে তাদেরকেই! শত শত মাইল দূরে, পরিবার-পরিজন ফেলে যারা জন্তু-জানোয়ারের মত খেটে দেশে পয়সা পাঠান সেই পয়সায় যুদ্ধবিমান, ভারী অস্ত্র কেনা হবে। আজকের পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে একটা দেশের মানুষ কি পরিমাণ অশিক্ষিত, অসচেতন হলে পড়ে তাদের বিশ্বাস করানো যায় যে তারা মারাত্মক বর্হিশত্রু আক্রমনের বিপদের মধ্যে বাস করছে- তার একটা নমুনা হতে পারে বাংলাদেশ। আমাদের মত গরীব দেশ তাই যুদ্ধ বিমান কেনে ঋণ করে! “ফাস্ট ওয়ার্ল্ড” নিশ্চয় এসব দেখে মুখ লুকিয়ে হাসে! যে দেশের একটা ভবন ধসে গেলে উদ্ধার অভিযান বার বার বাধাগ্রস্ত হয় আধুনিক যন্ত্রের অভাবে, সে দেশ যুদ্ধ বিমান কিনে! এই লজ্জ্বা, এই গ্লাণি আমরা কোথায় রাখি!
একটা শিশু পাইপের নিচে আছে কি নেই গোটা দেশের “এক্সপার্ট” এক হয়েও কোন সদুত্তর দিতে পারল না। হ্যাঁ আর না- এর দোলাচালে দুলল গোটা দেশ। সবাই আল্লার উপর সব ছেড়ে দিয়ে বসে ছিল। অপেক্ষায় ছিল অলৌকিক, মিরাকল কিছু। এরকম আশা তারাই করে যারা অসহায়, অদক্ষ, পিছিয়ে পড়া। ২৪ ঘন্টার উপরে ছেলেটার মাথা কোলে নিয়ে বসেছিল আল্লাহ উন্নত কোন প্রযুক্তির সাহয্যে মানুষ কিছু একটা ব্যবস্থা করবে সেই আশায়। কিন্তু আমরা ধার করে যুদ্ধ বিমান কিনি। বিপরীতে দমকল বাহিনীর জন্য একটা মই-ই যথেষ্ঠ! একটা মই দিয়ে অলৌকিক ঘটনা ঘটানো যায় না। যদি আধুনিক বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি দিয়ে ৪ দিন পর কোন কয়লাখনিতে চাপা পড়া কোন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করতে পারি সেটাকে “ঈশ্বরে অলৌকিক” লীলা বলে বগল বাজাতে পারেন, অর্থ্যাৎ, আগে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিস্কার দিয়ে আপনাকে ভিকিটিমের কাছে পৌঁছতে হবে তারপর ঈশ্বর তার “লীলাখেলা” দেখাবেন! একটা লাঠি নিয়ে গুতোগুতি করলে ঈশ্বর বেচারার কিছুই করার থাকবে না। শিশু জিয়াদের মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জানি না আমাদের “ভাগ্যবিধাতাদের” নাড়াতে পেরেছে কিনা। তারা কি এবার গরীরের পয়সায় একটু জীবন বাঁচানোর ছুরি-কাচি কিনবেন? কেমন করে ওরকম কোন শুরঙ্গে উদ্ধারাভিযান চালানো যায় তার ট্রেনিংয়ের চেয়ে আমাদের বৈমানিক ট্রেনিং কিছুতে বড় নয়
মানুষের প্রতিদিনের জীবনে আল্লার কোন হাত নেই। ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকারে পোকামাকড়ের মাঝখানে ভয়ে আতংকে একটি অবোধ শিশু পড়ে থাকলেও তিনি সাত আসমান থেকে মাটি ফুঁড়ে বের হন না। তার অলৌকিক একটা তীব্র জলের ফ্লোয়ারা দিয়ে যদি ভাসিয়ে উপরে তুলে আনতো তো বুঝতাম ঈশ্বর একটা বাপের বেটা!
আমরা লজ্জ্বিত, দু:খিত, শোকাহত জিয়াদ তোমার জন্য। সরি…।

No comments:
Post a Comment