Thursday, 19 May 2016

ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত

ভারতের বিজ্ঞানমন্ত্রী বিজিতা নাথ জ্যোতিষ শাস্ত্রকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন! বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় বলে আসলে কোন মন্ত্রণালয়ই আমাদের উপমহাদেশে থাকা উচিত নয়। কারণ আমাদের বেশি বেশি করে ধার্মীক হতে হবে। ধার্মীক হতে হলে আমাদের অতিপ্রাকৃত বিষয়ে অগাধ বিশ্বাস রাখতে হবে। ভূত-প্রেত, জিন-পরী, জাদুটোনা, ঝারফুক, জ্যোতিষিতে বিশ্বাস করতে হবে। ভারত কিছুদিন আগে মহাকাশে যান পাঠিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও শোনা যাচ্ছে “বঙ্গবন্ধু নভোযান” পাঠানোর পরিকল্পনার কথা। আর এসব পরিকল্পনার মাথায় যারা বসে থাকেন তারা জিন-ভূত-ঝারফুক-জাদুটোনায় অগাধ বিশ্বাস রেখে চলেন। 

তাদের এই স্পার্ধার জোরটা আসে অশিক্ষায়-কুশিক্ষায় নিমজ্জিত ধার্মীক জনসাধরণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে। ভারতের বিজ্ঞান মন্ত্রীর জ্যোতিষি বিদ্যাকে সমর্থন করায় খুব কম সংখ্যাক মানুষই আহত হয়েছেন এটা এমনিতেই বলে দেয়া যায়। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু। ধর্ম বিশ্বাসের কারণেই তাদের মনোজগত কুসংস্কারগ্রস্ত। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বচ্চো ডিগ্রীধারী হয়েও জ্যোতিষি, শনির ফারা, বৃহস্পতির প্রভাব ইত্যাদির জন্য নানা রকম পাথর গ্রহণ করতে ন্যুনতম লজ্জ্বাবোধ তাদের নেই।। কাজেই ভারত নাসার মত মহাকাশ নিয়ে কোন চমক দেখালেও সেটা মোটেই কোন বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করে না।

বাংলাদেশের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট ইসলাম ধর্মের অনুসারী। মুসলিমরা খুব হামবড়া একটা ভাব দেখিয়ে “ইসলামে জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করা হারাম” বলে এক ধরনের কুসংস্কারহীনতার দাবী করেন। ব্যাপারটা আসলে তা নয়। ইসলাম ধর্মও জ্যোতিষি বিদ্যায় বিশ্বাস করে। ইসলাম শুধু জ্যোতিষির কাছে যেতে নিষেধ করেছে কারণ জ্যোতিষিরা শয়তান জিনের মাধ্যমে ভবিষ্যত বলে দেবার বিদ্যাটা রপ্ত করে। মানে হচ্ছে জ্যোতিষি বা হাত দেখার বিদ্যাকে ইসলাম অস্বীকার করেনি। সহি হাদিসে বলা আছে নবী বলছেন জ্যোতিষিরা জিনদের কাছ থেকে ভবিষ্যত জেনে নেয়। 

আসলে ইসলামের নবী চাননি কেউ তার থেকে জ্যোতিষিদের উপর বেশি নির্ভর করে বসুক। ইসলাম একজন সুশিক্ষিত, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ থেকে পাস করে বের হওয়া একজন মানুষকেও জাদুটোনা, ঝারফুকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করবে। ইসলাম জাদুতে বিশ্বাস করে। স্বংয় নবীকে জাদু করা হয়েছিল বলে কথিত আছে। সেই জাদু থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কুরআনের আয়াত পর্যন্ত নাযিল হয়েছে। আমি জানি না, বিজ্ঞানের সবচ্চো ডিগ্রীধারী কোন মুসলিম কেমন করে এসবকে বিশ্বাস করেন? ইসলাম তাবিজ-কবজে খুব কড়া ভাষায় নিষেধ করেছেন। 

কিন্তু ঝারফুকে প্রবল আস্থা রেখেছে। সহি হাদিসে দেখা যায় ঝারফুকের বিনিময়ে সাহাবীদের ভেট পাওয়া বরকি থেকে নবীও ভাগ নিচ্ছেন! জানি না কেমন করে শিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক মুসলিম এসবকে মেনে ধর্মকে বিশ্বাস করতে পারেন!... আসলে এসবই খুব স্বাভাবিক। আমরা বিজ্ঞানমনস্ক হবার বদলে প্রবলভাবে ধার্মীক হচ্ছি। 

এ জন্য বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিজ্ঞানের চেয়ে জ্যোতিষ বিদ্যা বেশি করে চর্চা করার জন্য জোর দিয়েছেন। গোটা উপমহাদেশেরই “বিজ্ঞান মন্ত্রীদের” দশা এরকমই! বাংলাদেশের “বিজ্ঞান মন্ত্রীরাও” ভারতের বিজ্ঞান মন্ত্রী থেকে পিছিয়ে নেই কোন দিক থেকেই…।

No comments:

Post a Comment