মীরাক্কেল অনুষ্ঠান নিয়ে ফেইসবুকে অনেকেই লিখেছেন। অনুষ্ঠানটি অনেকদিন হয় আমি দেখি না। ফেইসবুকে পড়ে জেনেছি রাম-সীতা-রাবনকে নিয়ে একটি কমেডি করা হয়েছে। একজন বিশ্বাসী হিন্দুর কাছে রাম একজন দেবতা। মুসলিমদের নবীর চাইতে ক্যাটাগরিতে দেবতারা বড় কেননা দেবতারা স্বয়ং ঈশ্বরের মানুষ্য রূপ। ভারতের জি বাংলায় অনেকদিন আগে দেব-দেবীদের কাহিনী নিয়ে একটা কমেডি সিরিয়াল চলেছে বছর জুড়ে।
দেশ পত্রিকায় দীর্ঘ একটা ধারাবাহিক রম্য রচনা বেরিয়েছিল অনেক বছর আগে “দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস” নামে। দেব-দেবীদের নিয়ে রঙ্গরস! আমার মুসলিম পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হিন্দুধর্মালম্বিদের আশ্চর্য ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বহুকাল বিস্মতি করেছে।
মীরাকেল্লের রাম-সীতাকে নিয়ে কমেডী অভাবনীয় কোন ঘটনা নয়। দেব-দেবতায় ভক্তদের তাতে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না। পোপকে নিয়ে হলউডের কমেডি সিনেমায় সিরিয়াস হাসিঠাট্টা করার মত নজির আছে। হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে ছিল নাটক-সিনেমায় কোন হুজুর চরিত্র নিয়ে কৌতুক করা যাবে না। দাড়ি-টুপি লেবাসের কোন রাজাকার চরিত্র বা মন্দ চরিত্র হিসেবে দেখানো যাবে না। যেখানে নবীদের নিয়ে ভক্তিমূলক সিনেমা তৈরির কথাও মুসলিমরা কল্পনা করতে পারবে না কমেডি তো সেখানে চিন্তার বাইরে। ৭১ সালে যারা লুটপাট, ধর্ষণ, গণহত্যা করেছিল তাদের দাড়ি-টুপি ইসলামী লেবাস ছিল- নাটক-সিনেমায় এখন সেই চরিত্রকেই ফুটিয়ে তুললে প্রবল ইসলামিনুভূতিতে আঘাত হচ্ছে!
বাবরী মসজিদ ভাঙ্গাকে কোন সেক্যুলার, মানবতাবাদী মানুষ মাত্রই সমর্থন করতে পারে না। কিন্তু বাবরী মাসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শয়ে শয়ে মন্দির ভাংচুর, হিন্দুদের বাড়িঘরে আক্রমণের ইতিহাসও সঙ্গে উচ্চারণ করতে হবে। মুসলিম শাসকরা দুনিয়াতে তাদের শাসনামলে বহু মন্দির, গির্জা ভেঙ্গে সেই জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করেছে। আজ সেই প্রতিশোধ তুলতে সেই মসজিদগুলোকে ভেঙ্গে মন্দির, গির্জা নির্মাণ কোন সমাধান এনে দিবে না। ইতিহাসের এই সত্যগুলোকে মেনে নিয়ে মুসলিমদের উচিত মুসলিম শাসকদের কার্যকলাপকে সমালোচনা করা। নইলে বাবরী মাসজিদ ভাঙ্গার ঘটনাকে সমালোচনার অধিকার তারা রাখবে না।
আফগানিস্থানে কামান দাগিয়ে বিশাল বিশাল বৌদ্ধমূর্তিগুলো গুড়িয়ে দিয়েছিল মুসলিম মুজাহিদ তালেবানরা। বৌদ্ধরা যাকে স্বয়ং ভগবান মনে করে তার মূর্তিকে এভাবে ভে্ঙ্গে ফেললে তাদের ধর্মানুভূতে আঘাত লাগে না? রামুতে বৌদ্ধ বিহারের আগুন দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশেই ঘটেছে। ৬ ডিসেম্বরকে যদি বছর বছর শোকাবহভাবে পালন আর স্মরণ করা হয় বিপরীতে বৌদ্ধমূর্তি ভাংচুর, মন্দির, প্রতিমায় হামলার দিবসকেও তো স্মরণ করতে হবে।
দুনিয়ার কোথাও দেবতা, ভগবানের মূর্তি ভাঙ্গা হলে মুসলিম বিশ্বে নিন্দা জানিয়ে সামান্য একটা বিবৃতি জানানোর ঘটনা নেই। মুসলিমদের কোন ধর্মীয় মান্যবর কোন নেতা কি আফগানস্থানের বৌদ্ধমূর্তি ভাঙ্গার ঘটনায় ব্যথিত হয়েছেন? আমার জানা নেই। কিন্তু ভারতে বাবরী মাসজিদ ভাঙ্গায় বিকৃত ধর্মীয় বিকারে আক্রান্ত মানুষ ছাড়া সারা ভারতেই সেটা নিন্দনীয় হয়েছে।
মুসলিমরা যদি ৬ ডিসেম্বরকে শোকাবহ ঘটনা বলে আবেগ দেখায়, সেটাকে দীর্ঘজীবী করে বছর বছর “উপমহাদেশের কারবালা” হিসেবে দাঁড় করায় তাহলে হাজার হাজার গির্জা-মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ তৈরির দিবস তো নতুন চালু করতে হবে! ফি বছর দূর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশে কোন টিভি উপস্থাপক কি বলতে পারবেন, এই দিনগুলো আসলেই বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য অনেক দু:খে। কারণ এই সময়গুলোতেই দেশের আনাচে-কানাচেতে প্রচুর মূর্তি ভাংচুর করা হয়…
No comments:
Post a Comment