বাংলাদেশে যারা মূর্তি ভাঙ্গে তারা ধরা পড়ে গেলে “মানসিক ভারসাম্যহীন” হয়ে পড়ে। সৌদি আরবে এক বাংলাদেশী মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে দেরী করায় যে গুলি করে হত্যা করেছে সেই ইসলাম প্রেমীও নাকি একজন “মানসিক ভারসাম্যহীন”! হতে পারে, আর মাথায় সমস্যা আছে এমন কাউকে তো আর সাজা দেয়া যায় না।
তবে মানসিক ভারসাম্যহীন কেউ মসজিদের দেয়ালে কথিত ইসলাম নিয়ে কটুক্তি লেখার অপরাধে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে পারে। কারণ শরীয়ায় পাগলকেও কোন রেহাই দেয়া হয়নি। পাকিস্তানের একজন খ্রিস্টান যুবকের বিরুদ্ধে কুরআন অবমাননার অভিযোগ উঠে। পরে জানা যায় যুবকটি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কিন্তু ইসলামী আদালত তাকে কুরআন অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেয় এ জন্য যে, পাগল-ছাগল হলেও ইসলাম অবমাননা করলে রেহাই নেই।
আমি জানি লোকজন এখন চেঁচামেচি শুরু করে দিবে- আজান দিতে দেরী করলে গুলি করে খুন করার কথা ইসলামের কোথাও বলা নেই। কিন্তু এরকম ঘটনায় প্রতিবাদ না করার কথাও তো ইসলামে কোথাও বলা নেই। তাহলে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোন হৈ চৈ নেই কেন? রাস্তাঘাটে লোকজন এই ঘটনা নিয়ে তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে না কেন? তাদের মুসলমানুভূতিতেও বা আঘাত লাগেনি কেন? খ্রিস্টান অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকের কথিত নবী অনুভূতিতে আঘাত করায় নবী প্রেমিরা পাকিস্তানে শরীয়ায় তার বিচার করেছে।
সৌদিরা বাংলাদেশী নারীদের আয়ার চাকরির নামে যৌনদাসী বানালে কোন মুসলমানের যৌনানুভূতিতে আঘাত লাগে না কেন? বাংলাদেশী শিশুদেরকে উটের জকি বানালেও আজতক মুসলমানদের কোন রকম অনুভূতিতে আঘাত লাগার কথা শোনা যায়নি। ফালানী ইস্যুতে কান্নাকাটি করা লোকজনের বাংলাদেশীনুভূতিই বা এখন কোথায়? বাংলাদেশী ইসলাম প্রেমিরাই এখন কোথায়? একজন মুয়াজ্জিনকে হত্যা করে ফেলেছে- অথচ বাইতুল মোকারক উত্তর গেইট নিরব!
No comments:
Post a Comment