Monday, 4 April 2016

পাকিস্তানে স্কুলে তালেবান হামলার পর একটা রব উঠছে- সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার। কিসের সন্ত্রাসবাদ? কার বিরুদ্ধে কাজ করবে সকলে মিলে? এটা ভারতের জঙ্গলে চন্দন কাঠ চুরি করা ডাকাত বিরাপ্পানকে সম্মলিতভাবে পাকড়াও করার মত কোন বিষয়? পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রগুলো মিলে একজোট হয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার মত কোন বিষয়? এটা কি হিটলারের ন্যাৎসিবাদ? সোমালিয়া জলদস্যু কোন ধর্মমত নয়। বিরাপ্পান্ও কোন নবী ছিল না। কিন্তু তালেবান অন্য জিনিস। বেকো হারাম অন্য জিনিস। জেএমবি অন্য জিনিস। তাই তালেবানরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। 

বেকো হারামরা কোনদিন নিমূর্ল হবে না। তাদের পরাজিত করা যাবে সাময়িকভাবে কিন্তু নিমূর্ল করা যাবে না। কারণ আপনি মূল রেখে দিয়ে পাতায় হাত দিচ্ছেন। সম্মলিতভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার অর্থ করতে হবে “সম্মলিতভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করা”! তালেবানরা জন্ম নেয় ইসলাম থেকে। দুনিয়াতে আরো ধর্ম আছে সেখানে কোন “তালেবান” জন্ম নেয় না। সমস্যা তাহলে ইসলামে। ঠিক আছে মানলাম, “ইহা সহি ইসলাম নহে”! আপনার কথা মেনেই “অসহি ইসলামের” বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আর এই লড়াইয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হবে মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম-ওলামাদের বিষয়ে গভীর সন্দেহ পোষণ করা। মনিটরিং করতে হবে এদের উপর। নামাজ শেষে বয়ানের উপর নজর রাখতে হবে। আপনি রাজি তো? তখন বলবেন না, মুসলিমদের হয়রানী করা হচ্ছে?

ইসলামী জিহাদীদের উপর আক্রমণ শুরু করলে আবার সাম্রাজ্যবাদীদের তেল সম্পদের উপর ষড়যন্ত্র বলে শোরগোল করবেন না তো? ভারতের নরেন্দ মোদী নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে কথা বলেছেন একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য। নেওয়াজ শরীফ কি ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করতে সম্মত হবেন? তাহলে পাকিস্তানে ইসলামী প্রকাশনার একটা বিশাল অংশকে নিষিদ্ধ করতে হবে নেওয়াজকে। আলেম-ওলামাকে কঠোর নজরদারীর মধ্যে আনতে হবে। না, এতেও কাজ হবে না। কোন মুসলমান কি কুরআন-হাদিস চর্চার উপর বিধিনিষেধ আরোপ মেনে নিবে? ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করতে দিবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য এক সেকেন্ডও ভাববার দরকার নেই। 

না, দুনিয়ার কোন মুসলমান তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করতে দিবে না। কোটি কোটি মাদ্রাসাকে সামনে রেখে কোনভাবে “দারুল ইসলাম” রুখাও যাবে না। পাকিস্তানে শতাধিক শিশুকে হত্যা করে ফেলার পরও দুনিয়ার কোথাও মুসলিমদের মাতম চোখে পড়েনি। এই একই ঘটনা যদি ইজরাইল ঘটাতো তাহলে সারা দুনিয়ার মুসলিমদের প্রতিবাদ, অভিশাপ, ভাংচুর চোখে পড়তো। মুসলিম সুশীল, সেক্যুলারদের দীর্ঘশ্বাসে টিভি টকশোর পরিবেশও ভারী হয়ে যেতো। আমি বলছি না ইজরাইল এরকম ঘটালে প্রতিক্রিয়া এমনটা করা অনচিত। আমার বক্তব্য হচ্ছে, কেন এখন মুসলিমরা নিশ্চুপ? কেন তালেবানদের ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে না?


সম্মলিতভাবে তাই “সন্ত্রাসবাদের” বিরুদ্ধে লড়া এক বাত কি বাত। লড়াইটা হবে আসলে ইসলামের সঙ্গে বাকী দুনিয়ার। ইসলাম আধুনিক বিশ্বের জন্য এক অভিশাপ। পৃথিবী যেখানে ধর্মীয় উম্মাদনার পর্ব পার করে এসে এক স্থিতিশীলতার যুগে পা রেখেছে সেখানে ইসলাম ফের ধর্মীয় উম্মাদনার নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে। মানুষ যখন গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে সভ্যতাকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে তখন কিছু বিকৃত মনের মানুষ “দারুল ইসলাম” প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এরচেয়ে ট্র্যাজেডী মানব জাতির জন্য আর হতে পারে না।…

No comments:

Post a Comment